গাজীপুর মহানগরের ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর খাইলকুর (পলা গাছ) এলাকায় জমির সীমানা ও বাড়ির রাস্তা নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ প্রচারের অভিযোগ তুলেছেন এক ভুক্তভোগী নারী ও তার পরিবার। এ ঘটনায় তারা তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, নিজেদের ক্রয়কৃত জমিতে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী রাস্তার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা রেখে সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজ শুরু করলে প্রতিপক্ষ বাধা দেয়। পরে ঘটনাটিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে একটি মহল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কয়েকটি মাধ্যমে “রাস্তা দখল” সংক্রান্ত বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রচার করে, যা তাদের সামাজিক মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করেছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
পরিবারটির অভিযোগ, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এর আগেও সরকারি ও বেসরকারি সার্ভেয়ার (আমিন) দিয়ে একাধিকবার সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী মনজুরুল করিম টিটু ও তার সহযোগীরা সেই নির্ধারিত সীমানা মানতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছেন। বরং বাড়ির নির্মাণকাজে বাধা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও করেন তারা।
জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) কাউন্সিলর প্রার্থী মনজুরুল করিম টিটুর অভিযোগের ভিত্তিতে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের গাছা অঞ্চলের (অঞ্চল-৩) আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. হাফিজা জেসমিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরে উভয়পক্ষের সার্ভেয়ারদের উপস্থিতিতে পুনরায় যৌথভাবে সীমানা নির্ধারণের নির্দেশ দেন তিনি।
সেই নির্দেশনার আলোকে রোববার (১৭ মে) সকালে স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে উভয়পক্ষের সার্ভেয়ার জমি ও রাস্তার সীমানা পুনরায় পরিমাপ করেন।
চূড়ান্ত পরিমাপে ভুক্তভোগী পরিবারের দাবির সত্যতা পাওয়া গেছে বলে তারা দাবি করেন। এরপর ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, “আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে রাস্তার জায়গা ছেড়ে নির্মাণকাজ করছিলাম। কিন্তু রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আমাদের হয়রানি করা হয়েছে এবং আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। আমরা এ ধরনের অপপ্রচারের তীব্র প্রতিবাদ জানাই।”
এ বিষয়ে স্থানীয় কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তি বলেন, চূড়ান্তভাবে সীমানা নির্ধারণের পর এ বিরোধের অবসান হওয়া উচিত। মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে কাউকে সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা অনাকাঙ্ক্ষিত ও নিন্দনীয়।