মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:২৩ অপরাহ্ন

দক্ষিণ চট্টগ্রামবাসীর প্রাণের দাবি কালুরঘাট সেতুর নির্মাণকাজ দ্রুত বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান

রিপোর্টারের নামঃ / ১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
প্রকাশিত হয়েছেঃ মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

শ‌হিদুল ইসলাম, প্রতি‌বেদক:
কালুরঘাটে কর্ণফুলী নদীর ওপর নতুন রেল-কাম-সড়ক সেতুর নির্মাণকাজ দ্রুত ও দৃশ্যমানভাবে শুরুর দাবিতে চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেছে। চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন এবং মহাসচিব আবু তাহের চৌধুরী স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিটিতে নির্দিষ্ট সময়ে এর নির্মাণকাজ শুরুর সরকারি প্রতিশ্রুতি ও ঘোষণার বাস্তবায়ন না হওয়ায় এবং দীর্ঘসূত্রিতায় ক্ষোভ প্রকাশ করা হয় এবং প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।

১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ র‌বিবার, স্মারকলিপিটি গ্রহণ করেন ভারপ্রাপ্ত চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পরিচালক মনোয়ারা বেগম। এটি প্রদানের সময় উপস্থিত ছিলেন ফোরামের ভাইস চেয়ারম্যান বিশিষ্ট শিল্পী শাহরিয়ার খালেদ, মহাসচিব আবু তাহের চৌধুরী, যুগ্ম-মহাসচিব মোঃ কামরুল ইসলাম, বিশিষ্ট রাজনীতিক মিতুল দাশ গুপ্ত, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডিজিএম একরাম হোসেন, সার্ক মানবাধিকারের বিভাগীয় মহাসচিব জাফর ইকবাল, শিশুসাহিত্যিক কবি তসলিম খাঁ, ফোরামের বোয়ালখালী উপজেলা শাখার সভাপতি আক্তার হোসেন নিজামী, পরিবেশ কর্মী মাসুদ রানা, বিশিষ্ট সংস্কৃতি কর্মী জসিম উদ্দিন চৌধুরী, মানবাধিকার কর্মী রোজী চৌধুরী, সাংবাদিক আবছার উদ্দিন অলি, নারীনেত্রী আফরোজা সুলতানা পুর্নিমা, তাহেরা শারমিন, সাবরিনা আফরোজা, লায়ন অলি আহমদ পিন্টু, সাংবাদিক ইলিয়াছ রিপন, জসিম উদ্দিন, এ কে আজাদ, সমাজসেবী মাঈনুদ্দিন, বিশিষ্ট আইটি বিশেষজ্ঞ মিসেস আজমেরী প্রমুখ।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, একনেক অনুমোদনের প্রায় দুই বছর পরও কালুরঘাট নতুন সেতু প্রকল্পে ভূমি অধিগ্রহণ ও মূল নির্মাণকাজের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। এতে চট্টগ্রামবাসীর মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও হতাশা তৈরি হয়েছে। ১৪ মে ২০২৫ তারিখে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস সেতুটির ভিত্তিপ্রস্তর উন্মোচন ও নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। নতুন কালুরঘাট সেতুর নির্মাণকাজ ২০২৫ এর ফেব্রুয়ারিতে শুরু হবে বলে জানিয়েছিলেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে ১৬ নভেম্বর ২০২৪ সালে এক মতবিনিময় সভায়। বিগত ২৬ নভেম্বর ২০২৪ সালের একটি সংবাদমাধ্যমে, কালুরঘাট সেতু নির্মাণ সংক্রান্ত ফোকাল পার্সন ও রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী (সেতু) মো.  গোলাম মোস্তফা বলেছিলেন, ২০২৫ সালের মে-জুনে প্রকল্পের পরামর্শক নিয়োগ হয়ে যাবে, একইসঙ্গে ভূমি অধিগ্রহণের কাজও মে-জুন থেকে শুরু হবে, ডিটেইল ডিজাইন করতে এক বছর লাগবে, এরপর টেন্ডার আহ্বান করা হবে এবং এরপর সেতুর কাজ শুরু হবে। এসব প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা হয়নি। দেশের বিভিন্ন বড় বড় প্রকল্প একনেকের অনুমোদনের পর তুলনামূলকভাবে অনেক স্বল্প সময়ে নির্মাণকাজ শুরু ও সম্পন্ন করার উদাহরণ টেনে এতে বলা হয়, আন্তরিকতা, সদিচ্ছা ও যথাযথ তদারকি থাকলে এটা সম্ভব হয়।

চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম প্রকল্পটিকে অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্প হিসেবে ঘোষণা, বিলম্বের কারণ প্রকাশ, নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা, আগামী তিন মাসের মধ্যে দৃশ্যমান কাজ শুরু এবং ২০২৯ সালের মধ্যে প্রকল্পটি সম্পন্ন করার জন্য জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছে। স্মারকলিপিতে বলা হয়, কালুরঘাট নতুন রেল-কাম-সড়ক সেতু দক্ষিণ চট্টগ্রামের যোগাযোগের পাশাপাশি চট্টগ্রাম বন্দর, শিল্পাঞ্চল, কক্সবাজার রেল যোগাযোগ ও মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরের সঙ্গে সম্পর্কিত। দীর্ঘ বিলম্বে প্রকল্পের ব্যয় বাড়বে, জনদুর্ভোগ ও যানজট বৃদ্ধি পাবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্য ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সরাসরি তদারকি, বিলম্বের কারণ প্রকাশ ও সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা চাওয়া হয়েছে স্মারকলিপিতে। আগামী তিন মাসের মধ্যে দৃশ্যমান কাজ শুরু করে ২০২৯ সালের মধ্যে সেতুটি সম্পন্ন করার দাবি জানানো হয়েছে।

চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের নেতৃবৃন্দরা বলেন, চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামের জনগণকে সাথে নিয়ে কালুরঘাট নতুন সেতু বাস্তবায়নের জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম করে আসছে।  চট্টগ্রামের জনগণের এই দাবি কোনো আঞ্চলিক দাবি নয়, নাগরিক ফোরামের উদ্যোগের কারণে এটি একটি জাতীয় দাবিতে পরিণত হয়েছে। আমরা প্রতিটি পর্যায়ে স্মারকলিপি প্রদান করে বিভিন্ন গাফিলতির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছি, কিন্তু বারবার চট্টগ্রামবাসী তাদের এই স্বপ্ন পূরণে হতাশ হয়েছে। বক্তারা আরও বলেন, অতীতে বিগত সরকারের সময় এবং পরবর্তীতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়েও একনেকে অনুমোদনের জন্য প্রধান উপদেষ্টা বরাবরে বারবার স্মারকলিপি প্রদান করেছে চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম। এছাড়া বর্তমান নতুন সরকারের কাছেও স্মারকলিপি দিয়ে যথাসময়ে কাজ শুরু করার জন্য আবেদন জানানো হয়েছিল। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এখনো দৃশ্যমান কাজ শুরু না হওয়ায় আবার স্মারকলিপি প্রদান করতে হয়েছে।

চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার মনোয়ার হোসেন স্মারকলিপি প্রদান উপলক্ষে বলেন, “কালুরঘাট নতুন সেতুর স্বপ্নটি বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত আমরা কোনো অবস্থাতেই নিরব হব না। আমাদের দাবি অরাজনৈতিক এবং সামাজিক, চট্টগ্রামবাসীর দীর্ঘদিনের এই প্রত্যাশা পূরণের জন্য গঠনমূলক ও শান্তিপূর্ণভাবে চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরামের ব্যানারে চট্টগ্রামবাসী ঐক্যবদ্ধ রয়েছে। আমাদের সচেতন প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে, যতদিন না এটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।”

Share this news as a Photo Card


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

আরো সংবাদ
15 September 2026

দক্ষিণ চট্টগ্রামবাসীর প্রাণের দাবি কালুরঘাট সেতুর নির্মাণকাজ দ্রুত বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান

www.promothalo.com
15 September 2026

দক্ষিণ চট্টগ্রামবাসীর প্রাণের দাবি কালুরঘাট সেতুর নির্মাণকাজ দ্রুত বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান

www.promothalo.com