নাটোর সদর হাসপাতালে দালালচক্রের অভিযোগ, চিকিৎসক-ক্লিনিক যোগাযোগ নিয়ে প্রশ্ন
বেল্লাল হোসেন বাবু, সহকারী বার্তাসম্পাদক :
নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালকে ঘিরে কথিত দালালচক্রের তৎপরতা, রোগীদের বেসরকারি ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠানো এবং কিছু চিকিৎসকের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে সরকারি কর্মঘণ্টায় চিকিৎসকদের দায়িত্ব পালন ও হাসপাতাল থেকে রোগীদের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে যাওয়ার প্রবণতা নিয়েও নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন রোগী ও স্বজনরা।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে হাসপাতাল এলাকায় রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে এসব অভিযোগের কথা জানা যায়।
অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিতে আসা কিছু রোগীর সঙ্গে নির্দিষ্ট ব্যক্তি যোগাযোগ করে তাদের বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যাওয়ার পরামর্শ দেন। রোগীরা এসব প্রতিষ্ঠানে গেলে কথিত দালালরা আর্থিক সুবিধা পান—এমন অভিযোগও রয়েছে। তবে অর্থ লেনদেনের এ অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে সরকারি দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি কিছু চিকিৎসকের বেসরকারি ক্লিনিক ও চেম্বারে রোগী দেখার বিষয় নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন রোগী ও স্বজন। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বা চিকিৎসা নিতে আসা কোনো রোগীকে বাণিজ্যিক স্বার্থে নির্দিষ্ট বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে যেতে প্রভাবিত করা হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সংশ্লিষ্টদের মতে, চিকিৎসকদের পেশাগত স্বাধীনতা ও মর্যাদা অক্ষুণ্ন রেখেই সরকারি কর্মঘণ্টায় দায়িত্ব পালনে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি হাসপাতালকেন্দ্রিক কোনো ব্যক্তি রোগীদের বাণিজ্যিক স্বার্থে নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানে পাঠাচ্ছেন কি না, অভিযোগ পাওয়া গেলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা দরকার।
অন্যদিকে নাটোর শহর ও আশপাশের এলাকায় নিবন্ধন ও অনুমোদনবিহীন কোনো ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টার কার্যক্রম চালাচ্ছে কি না, তা নিয়মিত যাচাইয়ের দাবিও উঠেছে। এসব প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের যোগ্যতা, ল্যাবরেটরি কার্যক্রম, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও রোগীর নিরাপত্তাসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়মিত পরিদর্শনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
রোগী ও স্বজনদের দাবি, শুধু অভিযোগের পর অভিযান পরিচালনা নয়; ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়মিত নজরদারি ও আকস্মিক পরিদর্শন চালানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে সরকারি হাসপাতালকেন্দ্রিক কথিত দালালচক্রের তৎপরতা বন্ধ এবং রোগীদের সরকারি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে প্রশাসনিক তদারকি জোরদার করা দরকার।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, বেসরকারি ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলো যাচাই করে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন রোগী ও স্বজনরা।