শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:১১ অপরাহ্ন

রুমার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী

রিপোর্টারের নামঃ / ৩ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
প্রকাশিত হয়েছেঃ শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বান্দরবা প্রতিনিধি।

পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন, স্থানীয় জনগণের বিভিন্ন সমস্যা লাঘব এবং সেনাবাহিনীর সঙ্গে জনগণের পারস্পরিক আস্থা ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে রুমা জোন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে রুমা উপজেলার বিভিন্ন পাড়ায় মানবিক সহায়তা ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের আওতায় বিভিন্ন প্রয়োজনীয় দ্রব্য-সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

১১ সেপ্টেম্বর দুপুরে রুমা জোনের সংশ্লিষ্টরা জানায় বান্দরবানের রুমা উপজেলার আরথাহ পাড়ায় একটি ২০ কেভিএ জেনারেটর, একটি ১০ কেভিএ ডায়ানামো, ৩ হর্সপাওয়ারের সাবমার্সিবল পাম্প এবং কমিউনিটি সেন্টারের জন্য একটি সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল প্রদান করা হয়েছে। এর মাধ্যমে পাড়ার বিদ্যুৎ ও পানি সংক্রান্ত প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি কমিউনিটি সেন্টারের কার্যক্রমে সহায়তা করা হবে।
এছাড়াও সালেম পাড়ায় সুপেয় পানি সংরক্ষণের জন্য ১০০০ লিটার ধারণক্ষমতার পানির ট্যাংক এবং চায়রাগ্রা পাড়ায় ৩ হর্সপাওয়ারের সাবমার্সিবল পাম্প ও ৫০০০ লিটার ধারণক্ষমতার পানির ট্যাংক প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও, হ্যাপীলহিল পাড়ায় ২০০০ লিটার ধারণক্ষমতার পানির ট্যাংক ও একটি সাউন্ড সিস্টেম প্রদান করা হয়। একইভাবে, শুক্রমনি পাড়ায় ২০০০ লিটার ধারণক্ষমতার পানির ট্যাংক, ৭০০ ফুট পানির পাইপ, একটি সাউন্ড সিস্টেম এবং একটি সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল প্রদান করা হয়েছে।
দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় পানি সংরক্ষণ ও সরবরাহের সুবিধা বৃদ্ধির পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনায় এসব সামগ্রী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে পাড়াবাসীসহ সবাই আশাবাদী।

স্থানীয় তরুণদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করা এবং তাদের সুস্থ ও গঠনমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যে বাসাত্লং পাড়ায় একটি ভলিবল ও একটি ভলিবল নেট, পার্বা পাড়ায় একটি ভলিবল ও দুটি ফুটবল এবং নিয়াংখিয়াং পাড়ায় একটি ফুটবল প্রদান করা হয়েছে।

এসকল দ্রব্য-সামগ্রী বিতরণ শেষে জোন কমান্ডার, রুমা জোন (অধিনায়ক, ৩৬ বীর) লে. কর্নেল মেহেদী হাসান সরকার, এসবিপি, পিএসসি বলেন, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সবসময় পার্বত্য চট্টগ্রামের সাধারণ মানুষের পাশে রয়েছে এবং তাদের প্রয়োজন ও সমস্যাগুলো সমাধানে আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সুপেয় পানির সংকট নিরসন, ক্রীড়াসহ আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে মানবিক সহায়তা ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে, যা এই এলাকায় দীর্ঘস্থায়ী শান্তি-সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।’ এসময় তিনি বিভিন্ন পাড়ার কারবারী, সাধারণ জনগণ ও স্থানীয় যুবসমাজের সাথে মত-বিনিময় করেন।

এছাড়াও, রুমা জোন মিজোরামে অবস্থানরত বম জাতিগোষ্ঠীর সদস্যদের দেশে প্রত্যাবর্তন ও নিজ পাড়ায় এসে নিরাপদ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন নিশ্চিতকল্পে বদ্ধ পরিকর। ইতোমধ্যে ফিরে আসা একেকটি পরিবারের জন্য নগদ অর্থ, খাদ্যসামগ্রী, ঘর নির্মানের জন্য ঢেউটিন, সোলার প্যানেল, সেলাই মেশিন, প্রদান ও যৌথ খামার নির্মাণের মাধ্যমে স্থায়ী কর্মসংস্থানের ব্যাবস্থা করেছে।

রুমা জোনের এ ধরনের উদ্যোগ শুধু মানুষের তাৎক্ষণিক প্রয়োজন পূরণেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং পারস্পরিক সহযোগিতা, আস্থা, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের মাধ্যমে সেনাবাহিনী ও স্থানীয় জনগণের বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করাই এর মূল লক্ষ্য।

Share this news as a Photo Card


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

আরো সংবাদ
11 September 2026

রুমার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী

www.promothalo.com
11 September 2026

রুমার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী

www.promothalo.com