শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ০৬:৫২ পূর্বাহ্ন

নরসিংদীর শিবপুরে বাম্পার ফলনেও হতাশ কৃষক দ্বিগুন দামেও শ্রমিক মিলছে না

জিয়াউল ইসলাম জিয়া / ৩৪ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
প্রকাশিত হয়েছেঃ মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬

আবুনাঈমরিপন:নরসিংদী প্রতিনিধি।।

নরসিংদীর শিবপুরে বাম্পার ফলনেও হতাশ কৃষক,দ্বিগুন টাকায় ও মিলছে না একজন শ্রমিক।মাঠ ভরা পাকা ধান, বাম্পার ফলনের আশা- সব মিলিয়ে কৃষকের মুখে থাকার কথা ছিল হাসি। কিন্তু বাস্তবতা ঠিক উল্টো।একদিকে প্রবল বৃষ্টিতে কিছু ধান তলিয়ে গেলেও,বোরো মৌসুমে ভালো ফলন হওয়ার পর ও ধানের ন্যায্য দাম না পাওয়ায় চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকেরা। এলাকায় বোরো ধান কাটার মৌসুম শুরু হয়েছে। চারদিকে সোনালি ধানে ভরে উঠেছে মাঠ।

কিন্তু অনিয়মিত ঝড়-বৃষ্টিতে বাড়ছে শঙ্কা, বিশেষ করে নিচু জমির ধান পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বৃষ্টিতে নিচু জমির ধান পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় শ্রমিকের মজুরি দ্বিগুণ হলেও ধানের দাম পড়ে গেছে। শিবপুর উপজেলার দুলালপুর ইউনিয়ন এর চিনাদী বিল এলাকার কৃষক মো:আলী বলেন, নিচু জমির ফসল সব পানিতে ডুবে গেছে। এখন ধান ঘরে তুলব কীভাবে কিছুই বুঝতে পারছি না। অন্যদিকে একই সময়ে অধিকাংশ জমির ধান পেকে যাওয়ায় শ্রমিকের চাহিদা বেড়েছে কয়েকগুণ। ফলে ধান কাটার শ্রমিকের মজুরি প্রায় দ্বিগুণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানা গেছে।

বর্তমানে একজন শ্রমিকের জন্য ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা, ও তিন বেলা খাওয়া সহ দ্বিগুন টাকা গুনতে হচ্ছে কৃষকের।তারপরও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না।অথচ বাজারে এক মণ ধান বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায়। অর্থাৎ দুই মণ ধানের দাম দিয়েও একজন শ্রমিকের মজুরি মেটানো যাচ্ছে না। উপজেলার
দরগাবন্দ গ্রামের কৃষক কাইয়ূম মিলিটারি, অলি, অরুন, এবং চিনাদী বিল এলাকার কৃষক মজিবুর, বাচ্চু মিয়া, আসাদ মিয়া বলেন, ধানের দাম কমে যাওয়ায় বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে হবে। হালচাষ, সেচ, সার, কীটনাশক সবকিছুর খরচ বেড়েছে। দোকানের ধার-দেনা, ঋণের টাকা কীভাবে শোধ করব, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। কৃষকেরা জানান, গত কয়েক বছরে ধান উৎপাদনের খরচ কয়েকগুণ বেড়েছে।

কিন্তু বাজারমূল্য সেই তুলনায় বাড়েনি, বরং অনেক ক্ষেত্রে কমেছে। ফলে বিনিয়োগের টাকা ঘরে তুলতেই হিমশিম খাচ্ছেন তারা। মাঠ পর্যায়ের কৃষকের দাবি, দ্রুত সরকারি ধান ক্রয় কার্যক্রম শুরু করা না হলে এবং বাজারে দাম না বাড়লে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়বেন তারা। আজ ১১ মে সোমবার সকালে উপজেলার মাছিমপুর ইউনিয়নের আতর আঠি ক্ষতিগ্রস্ত বিলের জমি পরিদর্শন করেন নরসিংদী জেলার কৃষি বিভাগের উপ পরিচালক ড. মোহাম্মদ আজিজল হক।এসময় উপস্থিত ছিলেন শিবপুর উপজেলা কৃষি অফিসার মোহসিনা জাহান তোরণসহ উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা বৃন্দ। শিবপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহসিনা জাহান তোরণ বলেন শিবপুর উপজেলায় ১০ হাজার হেক্টর জমিতে ধান আবাদ করা হয়েছে। ফলনও ভালো হয়েছে।

প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে কৃষকের মুখ মলিন হয়ে গেছে। তিনি আরও বলেন, আমরা চাই কৃষকেরা তাদের কষ্টার্জিত ফসলের ন্যায্য মূল্য পাক। এবার ফলন ভালো হওয়ায় শুরুতে কৃষকদের মুখে হাসি থাকলেও পরবর্তীতে টানা বৃষ্টির কারণে কৃষকরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। আমরা সর্বক্ষণ কৃষকদের খোঁজ খবর নিচ্ছি।

কৃষকদের উদ্দেশ্যে তিনি পরামর্শ দিয়ে বলেন, জমির ধান ৮০ শতাংশ পেকে গেলেই কেটে ফেলতে হবে।সরকার ঘোষিত ১ হাজার ৪৪০ টাকা দরে ধান ক্রয় কার্যক্রম শুরু হলে কৃষকেরা ন্যায্যমূল্য পাবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।কৃষকেরা বলছেন, মাঠে সোনা ফলিয়েও যদি ন্যায্য দাম না মেলে, তাহলে আগামী দিনে কৃষিকাজে মানুষ আগ্রহ হারাবে।

Share this news as a Photo Card


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

আরো সংবাদ
12 May 2026

নরসিংদীর শিবপুরে বাম্পার ফলনেও হতাশ কৃষক দ্বিগুন দামেও শ্রমিক মিলছে না

www.promothalo.com
12 May 2026

নরসিংদীর শিবপুরে বাম্পার ফলনেও হতাশ কৃষক দ্বিগুন দামেও শ্রমিক মিলছে না

www.promothalo.com