হাম-রুবেলার উপসর্গে ‘হেদাফকসা’ লোকজ চিকিৎসার কথা জানালেন বান্দরবানের এক উন্নয়ন কর্মী
রুমা (বান্দরবান) প্রতিনিধি ।
পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে হাম-রুবেলার উপসর্গে ব্যবহৃত একটি ঐতিহ্যবাহী লোকজ পরিচর্যার কথা তুলে ধরেছেন বান্দরবানের স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন-এর নির্বাহী পরিচালক মংমংসিং।
নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, চাকমা ভাষায় হাম-রুবেলাকে “আরেঙা-লুদি” বলা হয়। ছোটবেলা থেকে তিনি দেখে আসছেন যে চাকমা, মারমা, তঞ্চঙ্গ্যাসহ পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে হাম-রুবেলার উপসর্গ দেখা দিলে “হেদাফকসা” নামে পরিচিত একটি ঔষধি বুনোলতার শাক ব্যবহার করার প্রচলন রয়েছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, হেদাফকসা দেখতে অনেকটা তিতা করলার শাকের মতো। প্রচলিত নিয়মে শাকটি সিদ্ধ করে চায়ের মতো দিনে তিন থেকে চারবার পান করানো হয়। একই সঙ্গে ওই শাক সিদ্ধ করা কুসুম গরম পানি দিয়ে আক্রান্ত শিশু বা রোগীকে গোসল করানোর রীতি রয়েছে। স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতায়, এভাবে পরিচর্যা করার পর অনেক রোগী এক সপ্তাহের মধ্যে সুস্থ হয়ে উঠেছেন বলে বিশ্বাস ও প্রচলন রয়েছে।
মংমংসিং আরও জানান, বর্তমানে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় হামের প্রাদুর্ভাবের মধ্যেও অনেক স্থানীয় পরিবার এখনো এই লোকজ পদ্ধতি অনুসরণ করছেন। তবে হেদাফকসার বাংলা বা বৈজ্ঞানিক নাম এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তার ধারণা, এটি বুনো করলা গোত্রের একটি লতাজাতীয় উদ্ভিদ হতে পারে।
তবে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, হেদাফকসা নিয়ে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থাকলেও হাম বা রুবেলা নিরাময়ে এর কার্যকারিতা সম্পর্কে পর্যাপ্ত বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও প্রমাণ এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তাই এটিকে কোনোভাবেই চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে নয়, বরং একটি লোকজ পরিচর্যার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
তিনি বলেন, লোকজ জ্ঞান ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ হলেও হামে আক্রান্ত হলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণ করাই সবচেয়ে জরুরি। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে চিকিৎসায় বিলম্ব না করার আহ্বান জানান তিনি।
এছাড়া হেদাফকসাসহ পার্বত্য অঞ্চলে ব্যবহৃত বিভিন্ন লোকজ ঔষধি উদ্ভিদ নিয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণারও প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন মংমংসিং। তার মতে, এ ধরনের গবেষণার মাধ্যমে ভবিষ্যতে এসব উদ্ভিদের প্রকৃত গুণাগুণ সম্পর্কে আরও নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যেতে পারে।