রক্তের অভাবে যেন কোনো রোগীর জীবন ঝুঁকিতে না পড়ে—এই মহান প্রত্যয়কে সামনে রেখে মানবতার সেবায় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে তাড়াশ স্বেচ্ছায় রক্তদান সংগঠন। সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাসেবী ও অলাভজনক এই সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার অসংখ্য অসহায়, দরিদ্র ও সংকটাপন্ন রোগীর জন্য বিনামূল্যে রক্তদাতার ব্যবস্থা করে মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি দেলবার আহমেদ ও মাসুম বিল্লাহর নেতৃত্বে একঝাঁক তরুণ স্বেচ্ছাসেবক দিন-রাত নিরলসভাবে কাজ করছেন। গভীর রাত, ছুটির দিন কিংবা যেকোনো জরুরি মুহূর্তে একটি ফোনকল পেলেই রোগীর পাশে দাঁড়াতে ছুটে যান তারা। তাদের একমাত্র লক্ষ্য—রক্তের অভাবে যেন কোনো প্রাণ অকালে ঝরে না যায়।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাদের মাধ্যমে রক্ত গ্রহণকারী কোনো রোগী বা স্বজনের কাছ থেকে কোনো ধরনের অর্থ, ফি বা সেবামূল্য নেওয়া হয় না। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে রক্তদাতার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়, যা মানবসেবার এক বিরল দৃষ্টান্ত হিসেবে ইতোমধ্যে স্থানীয় মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছে। স্থানীয়রা জানান, এই সংগঠনের উদ্যোগে ইতোমধ্যেই শতাধিক রোগী প্রয়োজনীয় রক্ত পেয়ে নতুন জীবন ফিরে পেয়েছেন। অনেক অসহায় পরিবার, যারা অর্থের অভাবে রক্ত সংগ্রহ করতে হিমশিম খেতেন, তাদের জন্য এই সংগঠনটি হয়ে উঠেছে আস্থার ঠিকানা। প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি দেলবার আহমেদ বলেন, “মানুষের জীবন বাঁচানোর চেয়ে বড় কোনো ইবাদত বা মানবিক কাজ হতে পারে না। আমরা চাই, রক্তের অভাবে আর একটি প্রাণও যেন হারিয়ে না যায়।”
সহ-প্রতিষ্ঠাতা মাসুম বিল্লাহ বলেন, “এটি কোনো ব্যবসায়িক উদ্যোগ নয়; এটি সম্পূর্ণ মানবিক দায়বদ্ধতা থেকে পরিচালিত একটি স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম। সমাজের সবাই যদি নিয়মিত স্বেচ্ছায় রক্তদান করেন, তাহলে রক্ত সংকটে আর কোনো রোগীকে কষ্ট পেতে হবে না।” সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্বেচ্ছায় রক্তদানে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে সংগঠনটি নিয়মিত প্রচারণা ও বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রমও পরিচালনা করছে। সমাজসেবায় নিবেদিত তাড়াশ স্বেচ্ছায় রক্তদান সংগঠন আজ শুধু একটি সংগঠনের নাম নয়, বরং মানবতা, সহমর্মিতা ও নিঃস্বার্থ সেবার এক উজ্জ্বল প্রতীক। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এই মহতী উদ্যোগ আরও বিস্তৃত হবে এবং দেশের অন্যান্য এলাকাতেও এমন মানবিক সংগঠনের কার্যক্রম ছড়িয়ে পড়বে।