সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:১৩ অপরাহ্ন

বান্দরবানে হাম রোগীদের মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিতসহ ৬দফা দাবিতে মানববন্ধন

শৈ হ্লা চিং মার্মা। / ৬ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
প্রকাশিত হয়েছেঃ সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান।

বান্দরবান পার্বত্য জেলার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসক-নার্সের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত, স্বাস্থ্যখাতের অনিয়ম-দুর্নীতি বন্ধ, নতুন ভবণ চালু করা এবং হামে আক্রান্ত রোগীদের মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিতসহ ৬দফা দাবিতে মানববন্ধনৎফড় , অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৩ আগস্ট) সকাল ১০টায় বান্দরবান মুক্তমঞ্চের সামনে অনুষ্ঠিত এ মানববন্ধনের আয়োজন করে বান্দরবান পার্বত্য জেলার ছাত্র-জনতা।

এ সময় তারা ছয় দফা দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলো হলো—
১. বান্দরবান জেলা সদর হাসপাতালসহ সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে আধুনিক ও মানসম্মত হাসপাতালে উন্নীত করতে হবে।
২. চিকিৎসক ও নার্সদের কর্মস্থলে নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে।
৩. জেলা ও উপজেলা হাসপাতালগুলোতে আধুনিক অ্যাম্বুলেন্স, অক্সিজেন, অ্যান্টিভেনম, প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন ও ওষুধের পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করতে হবে এবং প্রয়োজনে নৌ-অ্যাম্বুলেন্স চালু করতে হবে।
৪. বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর কার্যক্রমে কঠোর তদারকি নিশ্চিত করে দরিদ্র মানুষের জন্য স্বল্পমূল্যে মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।
৫. জেলা সদর হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে এমআরআই, সিসিইউ ও আইসিইউ স্থাপনে দ্রুত উদ্যোগ নিতে হবে।
৬. পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি অনুযায়ী স্বাস্থ্য বিভাগের জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি অনুযায়ী জেলার স্বাস্থ্য বিভাগের তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব পার্বত্য জেলা পরিষদের ওপর ন্যস্ত হলেও দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্যসেবায় নানা অব্যবস্থাপনা, চিকিৎসক ও নার্সের অনিয়মিত উপস্থিতি, চিকিৎসা সরঞ্জামের সংকট এবং জবাবদিহিতার অভাবে সাধারণ মানুষ কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
বক্তাদের অভিযোগ, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় স্বাস্থ্যসেবা এখনও পর্যাপ্তভাবে পৌঁছায়নি। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে চিকিৎসক, নার্স ও প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকট, অ্যাম্বুলেন্সের অভাব এবং চিকিৎসা উপকরণের স্বল্পতার কারণে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী চরম দুর্ভোগে পড়ছে। অনেক এলাকায় স্বাস্থ্যকেন্দ্র থাকলেও নিয়মিত চিকিৎসক না থাকায় স্থানীয়রা বাধ্য হয়ে কবিরাজি চিকিৎসার ওপর নির্ভর করছেন।
তারা আরও বলেন, চলতি বছরের মার্চ থেকে জুলাই পর্যন্ত বান্দরবান জেলায় প্রায় ১ হাজার ৪০০ জন হামে আক্রান্ত হয়েছেন। স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে রুমা উপজেলায় ৯ জন এবং আলীকদম উপজেলায় ১৩ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। হামে আক্রান্ত অধিকাংশ এলাকা দুর্গম হওয়ায় সময়মতো চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রায় ১৪টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ বসবাস করলেও স্বাস্থ্যসেবাসহ মৌলিক নাগরিক অধিকার এখনো নিশ্চিত হয়নি। তারা অভিযোগ করেন, অ্যান্টিভেনমের অভাবে সাপে কাটা রোগীর মৃত্যু, গর্ভবতী নারীর চিকিৎসা সংকট, চিকিৎসকদের গাফিলতি ও অসদাচরণের কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে সরকারি হাসপাতাল সম্পর্কে আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে।

বক্তব্য দেন ছাত্রনেতা সইনাং খুমী সভাপতিত্বে অনুষ্টিত মানব বন্ধনে বক্তব্য রাখেন ছাত্রনেতা উবাথোয়াই মারমা, থোয়াই অং মারমা, নেলসন ত্রিপুরা, সালাউ খেয়াং, নৈতিক জয় তঞ্চঙ্গ্যা ও জন ত্রিপুরা।

Share this news as a Photo Card


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

আরো সংবাদ
03 August 2026

বান্দরবানে হাম রোগীদের মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিতসহ ৬দফা দাবিতে মানববন্ধন

www.promothalo.com
03 August 2026

বান্দরবানে হাম রোগীদের মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিতসহ ৬দফা দাবিতে মানববন্ধন

www.promothalo.com