বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৫ অপরাহ্ন

দেশ কাঁপানো এমসি কলেজ ধর্ষণের প্রধান আসামি সাইফুরের মৃত্যুদন্ড, যাবজ্জীবন ৩

মোঃ তাজিদুল ইসলাম / ১৯ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
প্রকাশিত হয়েছেঃ মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই, ২০২৬

দীর্ঘ প্রায় ছয় বছর পর দেশব্যাপী আলোড়ন তোলা সিলেটের মুরারী চাঁদ (এমসি) কলেজ ছাত্রাবাসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ মামলার বহুল প্রতীক্ষিত রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। রায়ে প্রধান আসামি সাইফুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড, তিন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অপর চার আসামিকে অভিযোগ থেকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। সকাল থেকেই অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয় এবং কড়া প্রহরায় আট আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়।

রায়ে প্রধান আসামি সাইফুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। একই সঙ্গে শাহ মাহবুবুর রহমান (রনি), তারেকুল ইসলাম (তারেক) ও অর্জুন লস্করকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে আইনুদ্দিন (আইনুল), মিসবাউল ইসলাম (রাজন), রবিউল ও মাহফুজুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাদের খালাস দেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে জিম্মি করে এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। হৃদয়বিদারক এ ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ, নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। পরদিন ভুক্তভোগীর স্বামী শাহপরান থানায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও দুজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

ঘটনার পরপরই পুলিশ ও র‍্যাবের যৌথ অভিযানে অল্প সময়ের মধ্যেই আট আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তদন্তে ডিএনএ পরীক্ষায় আট আসামির মধ্যে ছয়জনের সঙ্গে ধর্ষণের আলামতের মিল পাওয়া যায়। তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ৩ ডিসেম্বর শাহপরান থানার তৎকালীন পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

পরে মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল থেকে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়। বিচার চলাকালে ভুক্তভোগী, তাঁর স্বামী, তদন্ত কর্মকর্তা, স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণকারী ম্যাজিস্ট্রেট, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক এবং এমসি কলেজের অধ্যাপকসহ মোট ২৪ জন সাক্ষ্য দেন।

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে বহুল আলোচিত এই মামলার রায়ে একজনের মৃত্যুদণ্ড, তিনজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং চারজনের খালাসের মধ্য দিয়ে বিচারিক কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি হলো। তবে আইন অনুযায়ী, এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করার সুযোগ রয়েছে।

Share this news as a Photo Card


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

আরো সংবাদ
14 July 2026

দেশ কাঁপানো এমসি কলেজ ধর্ষণের প্রধান আসামি সাইফুরের মৃত্যুদন্ড, যাবজ্জীবন ৩

www.promothalo.com
14 July 2026

দেশ কাঁপানো এমসি কলেজ ধর্ষণের প্রধান আসামি সাইফুরের মৃত্যুদন্ড, যাবজ্জীবন ৩

www.promothalo.com