প্রত্যাবর্তনকৃত বম পরিবারগুলোর আয়বৃদ্ধিতে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে ১২ দুর্গম গ্রামে দেওয়া হলো দুই চাঁদের গাড়ি
রুমা ( বান্দরবান) প্রতিনিধি।
বান্দরবানের রুমা ও থানচি উপজেলার দুর্গম সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রত্যাবর্তনকৃত বম, ম্রো ও ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন এবং আয়বৃদ্ধির লক্ষ্যে দুইটি চাঁদের গাড়ি (জিপ) বিতরণ করেছে- বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। একই সঙ্গে স্থানীয়দের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ বিতরণ এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিরও আয়োজন করা হয়।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে রুমা উপজেলার কুংহ্লা-কাইথন পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বান্দরবান রিজিয়নের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং ১৬ ইস্ট বেঙ্গলের ব্যবস্থাপনায় বাকলাইপাড়া আর্মি ক্যাম্পের আওতাধীন ১২টি পাহাড়ি গ্রামের প্রতিনিধিদের হাতে দুইটি চাঁদের গাড়ির চাবি তুলে দেন বান্দরবান রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম বলেন, দুর্গম পাহাড়ি এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজীকরণ এবং টেকসই অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি প্রত্যাবর্তনকৃত পরিবারগুলোর স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসা এবং আত্মনির্ভরশীল হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পরে তিনি প্রাতা বমপাড়া প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন এবং সেনাবাহিনীর উদ্যোগে স্থানীয়দের জন্য পরিচালিত বিনামূল্যের চিকিৎসা ও ওষুধ বিতরণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী জানায়, ২০২০ সালে কুকি-চিন সশস্ত্র তৎপরতার সময় ভারতের মিজোরামে আশ্রয় নেওয়ার পর দেশে ফিরে আসা ছয়টি বমপাড়া, একটি ত্রিপুরাপাড়া এবং পাঁচটি ম্রোপাড়াসহ মোট ১২টি গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ ও পরিবহন সংকট নিরসনের লক্ষ্যে এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
পাশাপাশি তিন শতাধিক বম, ম্রো ও ত্রিপুরা পরিবারের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণেও বিভিন্ন সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ১৬ ইস্ট বেঙ্গলের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সৈয়দ আতিকুল করিম (পিএসসি), বলীপাড়া ৩৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ইয়াসির আরাফাত হোসেন, বান্দরবান রিজিয়নের জি-৩ ক্যাপ্টেন সামিউল ইসলাম, থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল-ফয়সাল, মেজর আসিফ জুবায়ের, বম কাউন্সিল সোসিয়াল কাউন্সিল অব বাংলাদেশ (বিএসসিবি)র সভাপতি ও জেলা পরিষদের সদস্য লালজার বমসহ সেনাবাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, হেডম্যান, কারবারি এবং স্থানীয় বাসিন্দারা।