নিজস্ব প্রতিবেদক:
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার সাধনপুর ইউনিয়নে আজ এক অমানবিক ও নজিরবিহীন চিত্র ফুটে উঠেছে। একদিকে যখন সরকার ভূমিহীনদের অধিকার নিশ্চিত করার কথা বলছে, ঠিক তখনই স্থানীয় প্রভাবশালী ও দখলদার চক্রের দাপটে নিজেদের ভিটেমাটিতেই পরবাসী হতে চলেছে একটি অসহায় পরিবার।
আজ বুধবার, ২২ এপ্রিল দুপুর ১২ ঘটিকা। চৈত্র-বৈশাখের তপ্ত দুপুরে যখন সাধারণ মানুষ একটু শীতল ছায়ার খোঁজে ব্যস্ত, তখন সাধনপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের মোকামী পাড়ায় চলছে এক অসহায় পরিবারের আর্তনাদ।
ভূমিহীন আনিছুর রহমান ও তার বাকি চার ভাই মিলে নিজেদের মায়ের বসতভিটায় মাথা গোঁজার ঠাঁই হিসেবে একটি টিনের ঘর নির্মাণ শুরু করেছিলেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন মুহূর্তেই ম্লান হয়ে যায় একদল ভূমিদস্যুর অতর্কিত ও পরিকল্পিত বাধায়।
অভিযুক্তদের তান্ডব ও দখল চেষ্টার অভিযোগ উঠে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, আজ দুপুরে আনিছুর রহমান ও তার ছোট ভাই
হ্নদরোগে আক্রান্ত ওপেন হার্ট সার্জারিয়ান মোঃ জিয়াউর রহমান (ভুট্টাে) এবং ২০১৯, ২০২২সালে ইউপি নির্বাচনে পরাজিত হয়ে আব্দুর রহমান আবু হানিফ তার সন্ত্রাসী বাহিনী ভূমিদস্যুদের হামলায়
জি,আর মামলা নং ২৫৪/ ২২ যাহা বিজ্ঞ চীফজুডিশিয়াল মেজিস্ট্রেট আদালত চট্টগ্রামে চলমান রয়েছে।
আঘাত প্রাপ্ত ছোট ভাই, ভিকটিম মোঃ মুফিজুর রহমান,কে নিয়ে ঘর তৈরির কাজ শুরু করলে স্থানীয় কথিত ‘ভূমিদস্যু লীগ’ এর সদস্যরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সেখানে বাধা প্রদান করে।
আকবর, কিশোর গ্যাং লিডার মোরশেদ
শেলী আক্তার (পিতা মৃত নাগু মিয়া) ও তার সৎ পুত্র রোবেল অভিযোগ উঠেছে, এই চক্রটি কোনো বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই গায়ের জোরে ঘর নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেয়। শুধু তাই নয়, তারা ওই বসতভিটা নিজেদের দখলে নেওয়ার চেষ্টা চালায় এবং পরিবারটিকে ভিটেমাটি ছেড়ে দেওয়ার জন্য হুমকি ধামকি প্রদর্শন করে।
নির্মাণ কাজ বন্ধ করার পাশাপাশি শ্রমিক ও পরিবারের সদস্যদের চরমভাবে হেনস্তা করা হয়। ওই এলাকায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে পরবর্তীতে পরিস্থিতি শান্ত করতে এগিয়ে আসেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। ইউপি চেয়ারম্যান খন্দকার সালাউদ্দিন কামাল, ইউপি সদস্য মোহাম্মদ এজাজ এবং স্থানীয় মোঃ তারেক আগামীকাল ২৩ এপ্রিল ২০২৬ ইং তারিখে ইউনিয়ন পরিষদে বসে বিষয়টি সমঝোতার আশ্বাস প্রদান করেন।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে আনিছুর রহমান বলেন।
আমরা পাঁচ ভাই ভূমিহীন। মায়ের ভিটায় একটা টিনের চাল দেওয়ার চেষ্টা করছিলাম। কিন্তু চিহ্নিত ভূমিদস্যুরা আমাদের কাজ বন্ধ করে দিল। তারা আমাদের জায়গা দখল করতে চায়। আমরা কি এদেশের নাগরিক না? আমাদের কি ঘর বাঁধার অধিকার নেই? আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
পরবর্তী পর্বে থাকছে…
দরিদ্র এই পরিবারের ভিটেমাটির ওপর কেন নজর পড়ল এই ক্ষমতার অপব্যবহারি ভূমিদস্যু চক্রের? এই ভূমিদস্যু সিন্ডিকেটের শক্তির উৎস কোথায়? কেন বিচারহীনতার সংস্কৃতিতে বেপরোয়া হয়ে উঠছে তারা? বিস্তারিত জানতে চোখ রাখুন ধারাবাহিক প্রতিবেদনের ২য় পর্বে।
সাথে থাকুন, ন্যায়ের পথে…