
তাড়াশ প্রতিনিধি: জমির মালিকানা ও নামজারি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে জসিম উদ্দিন কবি ও জহুরুল ইসলাম খন্দকারের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দীর্ঘদিন ধরে নানা জটিলতা ও হয়রানির মধ্যে পড়েছেন শামসুজ্জোহা ও তার পরিবার।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শামসুজ্জোহার পিতা মৃত আব্দুল হালিম খন্দকারের নামে ২০০৭ সালে একটি ঘরোয়া বণ্টননামা তৈরি হয়। ওই বণ্টননামার ভিত্তিতে তার নামে সংশ্লিষ্ট জমি নামজারি করা হয় এবং খতিয়ান নং-১০০৩-এ তা রেকর্ডভুক্ত হয়। পরবর্তীতে আব্দুল হালিম খন্দকার ২০১০ সালের ২০ জুলাই মৃত্যুবরণ করলে উত্তরাধিকারসূত্রে শামসুজ্জোহার নামে ওই জমি নামজারি করা হয়।
শামসুজ্জোহার অভিযোগ, ২০১৭ সালে জসিম উদ্দিন একটি দলিলের মাধ্যমে আব্দুল হালিম খন্দকারের নামে থাকা পূর্বের নামজারি বাতিল না করেই ওই জমি নিজের নামে খারিজ করার উদ্যোগ নেন। বিষয়টি ২০২৫ সালে শামসুজ্জোহার নজরে এলে তিনি আপত্তি জানান। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ওই নামজারি বাতিল করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে বিরোধের বিষয়টি নিয়ে শামসুজ্জোহা আইনগত প্রতিকার চেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হন। বর্তমানে মামলাটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার আদালত থেকে স্থানান্তর হয়ে সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে রয়েছে বলে জানা গেছে।
শামসুজ্জোহার দাবি, জসিম উদ্দিন কবি ও জহুরুল ইসলাম খন্দকারের কর্মকাণ্ডে তিনি ও তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। তার অভিযোগ, নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য বিভিন্নভাবে জমি নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি করা হচ্ছে।
শামসুজ্জোহা বলেন, “আমার প্রতিটি টাকা উপার্জনের জন্য আমাকে গায়ের রক্ত পানি করতে হয়। নিজের স্বার্থের জন্য অন্যের সম্পদ ও অধিকার নিয়ে কেউ প্রতারণা করবে—এটা মেনে নেওয়া যায় না। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।”
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, সংশ্লিষ্ট দলিলপত্র, নামজারি ও খতিয়ান যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা হোক। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
তবে জসিম উদ্দিন কবি ও জহুরুল ইসলাম খন্দকারের বক্তব্য এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।