চট্টগ্রাম রাউজান প্রতিনিধি
শুক্রবার রাউজান পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ঢালার মুখ সংলগ্ন আবুল নঈম সওদাগর বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত বাবলু ওই এলাকার আবুল কালাম সওদাগরের দ্বিতীয় ছেলে। তিনি পেশায় দিনমজুর ছিলেন এবং পাশাপাশি বালু ও ইট সরবরাহের ঠিকাদারি কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বাবলু নানার বাড়িতে দাওয়াতে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে মামাতো ভাই পলিনকে সঙ্গে নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে রাত তিনটার সময় ১০থেকে ১২ জনের একটি সশস্ত্র দল তাদের গতিরোধ করে দুর্বৃত্তরা প্রথমে বাবলুকে মারধর করে এবং পরে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় বাবলু মাটিতে লুটিয়ে পড়লে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
ঘটনার পর পর স্বজন ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
নিহত বাবুলের পিতা আবুল কালাম সওদাগর বলেন, ‘আমার ছেলে এলাকায় সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করত। এ কারণে আগে থেকেই তাকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে।’
তিনি আরও জানান, মৃত্যুর আগে বাবলু তার মামাতো ভাইয়ের কাছে হামলাকারীদের বিষয়ে কিছু তথ্য দিয়ে গেছেন। তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই কারও নাম প্রকাশ করতে চাননি পরিবার। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে বাবলুর মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুল ইসলাম বলেন, ‘গুলিবিদ্ধ কাউসারুজ্জামান বাবলুকে হাসপাতালে নেওয়ার পর তিনি মারা গেছেন। তবে এই ঘটনায় অন্য কেউ আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। আমরা নিহতের পরিচয় ও তার কোনো রাজনৈতিক বা অন্য কোনো সম্পৃক্ততা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছি। আইনি প্রক্রিয়া ও ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহটি তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে এবং পরবর্তী তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।