স্কুলে যাওয়ার পথে অপহরণ, দুই মাসেও উদ্ধার হয়নি স্কুলছাত্রী
উৎকণ্ঠায় পরিবার, আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানোর অভিযোগ
আমির হোসেন
স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে স্কুলে যাওয়ার পথে অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রী অপহরণের প্রায় দুই মাস পেরিয়ে গেলেও তাকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। একই সঙ্গে মামলার আসামিদেরও গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন ছাত্রীর পরিবারের সদস্যরা। এ ঘটনায় মেয়েকে ফিরে পেতে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে পরিবারের।
অপহৃত ওই ছাত্রী তাহিরপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির পরীক্ষার্থী। তার বাড়ি তাহিরপুর সদর ইউনিয়নের উজান তাহিরপুর গ্রামে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসার পথে শেখ মহসীন এলিন পাশা নামের এক যুবক ওই ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত ও কুপ্রস্তাব দিতেন বলে পরিবারের কাছে অভিযোগ করে ছাত্রীটি। বিষয়টি তার বাবা সাকিল পারভেজ সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্যদের জানালে সেখানে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিবারের অভিযোগ, গত ২৬ জুলাই সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ওই ছাত্রী বাড়ি থেকে বিদ্যালয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হয়। পরে তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়কের কাছ থেকে শেখ মহসীন এলিন পাশা (২৬), শেখ কবির আহমেদ পাশা (৫০), শেখ শফিক আহমেদ পাশা (৫৪), শেখ আলমগীর পাশা (৪৫) ও শেখ ফরহাদ পাশা (৩২) তাকে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যান বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ছাত্রীর বাবা সাকিল পারভেজ তাহিরপুর থানায় মামলা করেন। মামলাটি গত ২ আগস্ট দায়ের করা হয় বলে তিনি জানান।
সাকিল পারভেজ বলেন, “ঘটনার প্রায় দুই মাস হয়ে গেলেও আমার মেয়েকে উদ্ধার করা হয়নি। মামলার আসামিরাও গ্রেপ্তার হয়নি। তারা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে বলে আমরা জানতে পারছি। মেয়েকে দ্রুত উদ্ধারের জন্য পুলিশ সুপারসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সহযোগিতা চাই।”
তাহিরপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তরিকুল ইসলাম জুবায়ের বলেন, “ছাত্রী অপহরণের বিষয়টি পরিবারের পক্ষ থেকে আমাকে জানানো হয়নি। আপনাদের কাছ থেকেই বিষয়টি জানতে পারলাম। পরিবার লিখিতভাবে জানালে বিদ্যালয়ের সভাপতি ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ছাত্রীকে উদ্ধার করবেন বলে আমরা আশা করছি, যাতে সে আবার বিদ্যালয়ে ফিরতে পারে।”
এ বিষয়ে তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমেদ বলেন, “ওই স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার এবং মামলার আসামিদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।”
এদিকে, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও মেয়েকে উদ্ধার করতে না পারায় পরিবারটি উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে। তারা দ্রুত তদন্ত ও আইনগত পদক্ষেপের মাধ্যমে ছাত্রীকে উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন।