
তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি: বর্ষার পানিতে দেশের বৃহত্তম চলনবিল পূর্ণতা ফিরে পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার কুন্দইল এলাকার ডুবন্ত সড়ক এখন ভ্রমণপিপাসু মানুষের অন্যতম আকর্ষণস্থলে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন উপজেলা ছাড়াও আশপাশের জেলা থেকে শত শত দর্শনার্থী এখানে ভিড় করছেন। জলমগ্ন সড়ক, বিস্তীর্ণ বিলের জলরাশি ও মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশ উপভোগ করতে পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব এবং প্রিয়জনকে সঙ্গে নিয়ে ছুটে আসছেন নানা বয়সের মানুষ।
সরেজমিনে দেখা যায়, বর্ষার পানিতে ডুবে থাকা সড়কের ওপর দিয়ে অল্প স্রোতে পানিসঃূজূি প্রবাহিত হচ্ছে। সেই পানিতে হেঁটে আনন্দ উপভোগ করছেন দর্শনার্থীরা। অনেকেই মুঠোফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করছেন, আবার কেউ সামাজিক াঔযোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করছেন। বিকেল গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পুরো এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হচ্ছে উৎসবমুখর পরিবেশ।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বর্ষা মৌসুম এলেই কুন্দইলের এই ডুবন্ত সড়ককে কেন্দ্র করে পর্যটকদের ব্যাপক সমাগম ঘটে। এতে এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা মৌসুমি ব্যবসার সুযোগ পাচ্ছেন। সড়কের পাশে গড়ে উঠেছে চা-স্টল, ভ্রাম্যমাণ খাবারের দোকান, কোমল পানীয় ও স্থানীয় বিভিন্ন পণ্যের অস্থায়ী বিক্রয়কেন্দ্র। পাশাপাশি নৌকা ভ্রমণের সুযোগ থাকায় স্থানীয় মাঝিরাও অতিরিক্ত আয়ের সুযোগ পাচ্ছেন। ফলে পর্যটকদের আগমনে স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে জানিয়েছেন তারা।
তবে দর্শনার্থীর সংখ্যা বাড়লেও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, ডুবন্ত সড়কে অতিরিক্ত ভিড়ের সময় শৃঙ্খলা রক্ষা, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পানিতে নামার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। একই সঙ্গে তারা পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা এবং প্লাস্টিকসহ বিভিন্ন বর্জ্য যেখানে-সেখানে না ফেলার আহ্বান জানান।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং পর্যটকবান্ধব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হলে কুন্দইলের ডুবন্ত সড়ক চলনবিলের অন্যতম দর্শনীয় পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে জাতীয় পর্যায়ে আরও বেশি পরিচিতি লাভ করবে। প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য, দিগন্তজোড়া জলরাশি ও নির্মল পরিবেশের টানে প্রতিদিন বাড়ছে দর্শনার্থীর সংখ্যা, যা চলনবিলের পর্যটন সম্ভাবনাকে নতুন করে উজ্জীবিত করছে।