তাড়াশে ফসলি জমিতে জোরপূর্বক পুকুর খননের অভিযোগ, জেলা প্রশাসকের কাছে কৃষকদের লিখিত আবেদন
বার্তা সম্পাদক
/ ২৬
বার নিউজটি পড়া হয়েছে
প্রকাশিত হয়েছেঃ
সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬
শেয়ার করুন
তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার নওগাঁ ইউনিয়নের দেবীপুর মৌজায় একদল প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে কৃষকদের ফসলি জমিতে জোরপূর্বক পুকুর খনন, মাটি বিক্রি এবং বাধা দিতে গেলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দাখিল করে দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
জেলা প্রশাসকের কাছে দেওয়া অভিযোগে দেবীপুর গ্রামের মো. মোজাম্মেল হকসহ একাধিক কৃষক উল্লেখ করেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের নামীয় ফসলি জমিতে চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। কৃষিকাজই তাদের পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস। কিন্তু সম্প্রতি এলাকার কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও বহিরাগতদের সহযোগিতায় ভেকু (এক্সকাভেটর) দিয়ে তাদের ফসলি জমির মাটি কেটে পুকুর খনন করা হচ্ছে এবং সেই মাটি বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে উর্বর কৃষিজমি নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, এ অবৈধ কর্মকাণ্ডে বাধা দিতে গেলে অভিযুক্তরা কৃষকদের মারধরের হুমকি, প্রাণনাশের ভয়ভীতি, মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে দেওয়ার হুমকি এবং জমির সীমানা পরিবর্তন করে দেওয়ার ভয় দেখাচ্ছেন। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো চরম নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। লিখিত অভিযোগে অভিযুক্ত হিসেবে চাকরৌহালী গ্রামের জালাল উদ্দিন, উল্লাপাড়া উপজেলার নয়নগাতী গ্রামের শামীম রেজা এবং তাড়াশ উপজেলার হামকুরিয়া গ্রামের মো. আলাউদ্দিনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, দেবীপুর মৌজার একাধিক খতিয়ান ও দাগভুক্ত ফসলি জমিতে অবৈধভাবে মাটি কেটে পুকুর খননের মাধ্যমে কৃষিজমির শ্রেণি পরিবর্তনের চেষ্টা চলছে। এতে শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতিই নয়, এলাকার কৃষি, পরিবেশ ও খাদ্য নিরাপত্তার ওপরও দীর্ঘমেয়াদি বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে সরেজমিনে তদন্ত করে অবৈধভাবে পুকুর খনন ও মাটি কাটা বন্ধ, ফসলি জমি রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তবে অভিযোগকারীরা আশা করছেন, জেলা প্রশাসনের দ্রুত ও নিরপেক্ষ হস্তক্ষেপের মাধ্যমে ফসলি জমি রক্ষা পাবে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।