অটোরিকশা বন্ধ নয়, প্রয়োজন পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা
নিজস্ব প্রতিবেদক, দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ):
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সাধারণ মানুষের যাতায়াতের অন্যতম প্রধান মাধ্যম এখন অটোরিকশা। স্বল্প দূরত্বে ১০-২০ টাকা ভাড়ায় ঘরে ফেরা কিংবা বাজার-সদাই ও ভারী পণ্য নিয়ে চলাচলের জন্য এই যানের কোনো বিকল্প নেই বললেই চলে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে অটোরিকশা বন্ধের বিভিন্ন সিদ্ধান্তে সাধারণ যাত্রী ও চালকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
যৌক্তিকতা ও মানবিক দিক
সিএনজি চালিত অটোরিকশা যেমন যাতায়াতের মাধ্যম, তেমনি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাও হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান। হুট করে কোনো বিকল্প কর্মসংস্থান না করে এই যানগুলো বন্ধ করে দিলে হাজারো পরিবার পথে বসবে। উন্নয়ন মানে শুধু রাস্তাঘাট পরিষ্কার রাখা নয়, উন্নয়ন মানে মানুষের পেটে ভাত নিশ্চিত করাও। মানুষকে বেকার বানিয়ে প্রকৃত উন্নয়ন সম্ভব নয়।
সমাধানের প্রস্তাবনা
বিশৃঙ্খলা রোধে অটোরিকশা বন্ধ না করে একটি আধুনিক ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল। এই সংকট নিরসনে নিম্নোক্ত পদক্ষেপগুলো কার্যকর হতে পারে:
অবৈধতা রোধ: অনিবন্ধিত ও অবৈধভাবে চলাচলকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ।
ড্রাইভিং লাইসেন্স: প্রতিটি চালকের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ ও বাধ্যতামূলক ড্রাইভিং লাইসেন্স নিশ্চিত করা।
এক মালিক, এক অটোরিকশা: এই নীতি চালু করলে বড় বিনিয়োগকারীদের একচেটিয়া ব্যবসা বন্ধ হবে এবং সাধারণ চালকরা লাভবান হবে। এতে রাস্তায় যানের সংখ্যাও একটি সহনীয় পর্যায়ে আসবে।
রুট বিন্যাস: প্রধান সড়ক পরিহার করে নির্দিষ্ট শাখা সড়কগুলোতে অটোরিকশা চলাচলের অনুমতি দেওয়া।
উপজেলা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান
দোয়ারাবাজার উপজেলা প্রশাসনের প্রতি সাধারণ মানুষের দাবি—জনদুর্ভোগ ও বেকারত্ব সৃষ্টি না করে আলোচনার মাধ্যমে একটি মানবিক ও ন্যায্য সমাধান বের করা হোক। শৃঙ্খলা ফিরলে যানজট কমবে, আবার দরিদ্র চালকদের রুটি-রুজির পথও খোলা থাকবে।
আমরা চাই সড়ক নিরাপদ হোক, তবে তা যেন কারো চুলা নেভানোর কারণ না হয়ে দাঁড়ায়।
#প্রতিবাদ #ন্যায্য_দাবি #মানবিক_সমাধান