মাজিবুল হক :
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নে যুব নেতৃত্বে সাংস্কৃতিক বিনিময়, সামাজিক সম্প্রীতি ও শান্তির বার্তা নিয়ে দিনব্যাপী কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় হ্নীলা-চৌধুরীপাড়া যমুনা ইয়ুথ পিস ক্যাফ থেকে একটি র্যালির মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সূচনা হয়।
র্যালিটি চৌধুরীপাড়া বার্মিজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে গিয়ে শেষ হয়। পরে বিদ্যালয়সংলগ্ন সাইক্লোন সেন্টারের নিচতলায় আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
‘Youth-Led Cultural Exchange for Social Harmony’ শীর্ষক এ আয়োজনটি বাংলাদেশ ও মিয়ানমারে যুব নেতৃত্বাধীন শান্তি প্রতিষ্ঠা ও সামাজিক সংহতি জোরদারের উদ্যোগের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন দমদমিয়া পিস ক্যাফের সাবেক পিস চ্যাম্পিয়ন তানজিনা মোহাম্মদ জয়া। এতে বক্তব্য দেন চৌধুরীপাড়া যমুনা পিস ক্যাফের সাবেক পিস চ্যাম্পিয়ন কাঁকন দাস, দমদমিয়া পিস ক্যাফের সাবেক পিস চ্যাম্পিয়ন নাসিমা, ক্যাম্প-২৪-এর সাবেক পিস চ্যাম্পিয়ন বিবি জাহান, পূর্ণিমা জেবা ও চৌধুরীপাড়ার সাবেক পিস চ্যাম্পিয়ন সোহেল রানা। এছাড়া SHAY Society-এর প্রতিনিধি বোরহান এবং উদয়ের প্রতিনিধি সোহেল বক্তব্য দেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে চৌধুরীপাড়া রাখাইন সম্প্রদায়ের সভাপতি মংটি অং সামাজিক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সাংস্কৃতিক বিনিময়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন হ্নীলা বার্মিজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শামসুদ্দিন।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন SHED-এর সোশ্যাল কোহেশন প্রোগ্রামের কো-অর্ডিনেটর মোহাম্মদ এরশাদুল ইসলাম ইশতিয়াক। অনুষ্ঠান পরিচালনায় সহযোগিতা করেন SHED-এর প্রতিনিধি আসিফ তাইজুল।
আয়োজনে সাবেক পিস চ্যাম্পিয়নদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। আলোচনা পর্ব শেষে প্রায় দুই শতাধিক অংশগ্রহণকারীর জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হয়।
পরে কক্সবাজার থেকে আগত শিল্পীদের পরিবেশনায় বাঙালি ও রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের গানসহ মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে তরুণ-তরুণীসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণে পুরো আয়োজনটি উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।
আয়োজকদের মতে, পারস্পরিক সংস্কৃতি, অভিজ্ঞতা ও ভাবনার আদান-প্রদানের মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে সহনশীলতা, বন্ধুত্ব ও সামাজিক সংহতি আরও জোরদার করাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য। সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মাধ্যমে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্প্রীতির পরিবেশ তৈরিতেও এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।