মোঃ আব্দুস সবুর(বালিয়াডাঙ্গী) ঠাকুরগাঁও:
ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় মিড ডে মিলের দুধ ও পাউরুটি খেয়ে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছে। সোমবার দুপুরে উপজেলার মধুপুর-১ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তুলসীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মধ্য গোয়ালকারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দুপুরে মিড ডে মিলের অংশ হিসেবে দুধ ও পাউরুটি খাওয়ার কিছুক্ষণ পরই তাদের পেটে তীব্র ব্যথা শুরু হয়। পরে একে একে অনেক শিক্ষার্থী বমি করতে থাকে। কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে জ্ঞানও হারিয়ে ফেলে। পরিস্থিতি দেখে শিক্ষক ও অভিভাবকেরা দ্রুত অসুস্থ শিক্ষার্থীদের হাসপাতালে নিয়ে যান।
অসুস্থ এক শিক্ষার্থী বলে, “দুধ ও পাউরুটি খাওয়ার কিছুক্ষণ পরই পেটে ব্যথা শুরু হয়। এরপর বমি হয় এবং শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে। পরে কী হয়েছে, তা মনে নেই।”
এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, “বাচ্চারা খাবার খাওয়ার পরপরই অসুস্থ হয়ে পড়ে। কয়েকজনকে বমি করতে ও অচেতন হয়ে যেতে দেখা গেছে। খাবারের মান নিয়ে এর আগেও আমরা প্রশ্ন তুলেছি। কিন্তু তখন তেমন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”
অভিভাবকদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ে সরবরাহ করা খাবারের মান নিয়ে এর আগেও তারা উদ্বেগের কথা জানিয়েছিলেন। তবে বিষয়টি যথাযথভাবে গুরুত্ব না পাওয়ায় এবার একসঙ্গে এত শিক্ষার্থী অসুস্থ হওয়ায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা খাবারের নমুনা পরীক্ষা করে ঘটনার কারণ অনুসন্ধান এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনেকেই একাধিকবার বমি করেছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি হাসপাতালে রেখে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
হাসপাতালের চিকিৎসক তুষার চন্দ্র সিংহ বলেন, “অসুস্থ শিক্ষার্থীদের বেশির ভাগেরই পেটব্যথা, বমি ও দুর্বলতার মতো উপসর্গ দেখা গেছে। প্রাথমিকভাবে খাদ্যে বিষক্রিয়ার বিষয়টি সন্দেহ করা হচ্ছে। তবে পরীক্ষার পরই অসুস্থতার সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।”
এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছে।
ঠাকুরগাঁও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ মোফাজ্জল হোসেন বলেন, “ঘটনাটি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। কী ধরনের খাবার খেয়ে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়েছে এবং খাবার সরবরাহে কোনো অনিয়ম ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হবে। প্রয়োজন হলে খাবারের নমুনা পরীক্ষা করা হবে। তদন্তে কারও গাফিলতি পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ঘটনায় বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের জন্য সরবরাহ করা মিড ডে মিলের খাবারের মান ও সংরক্ষণব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে খাবার সরবরাহ ও বিতরণের প্রতিটি ধাপে কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন অভিভাবকেরা।
প্রকাশক ও সম্পাদক সোহেল সরকার কর্তৃক লন্ডন যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
সহ সম্পাদকঃ শেখ ফরিদ হোসেন বার্তা সম্পাদকঃ জিয়াউল ইসলাম জিয়া
WhatsApp 00447798833284 (United Kingdom)
ইমেইলঃ promothalo.com@gmail.com
Copyright © 2026 প্রমথ আলো । বাংলা নিউজ পেপার. All rights reserved.