প্রিন্ট এর তারিখঃ সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৬, ১২:০৫ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ সেপ্টেম্বর ৭, ২০২৬, ৩:৫২ পি.এম
সাংবাদিকের ব্যাগ চুরির এক মাস পরও চোর শনাক্ত হয়নি চট্টগ্রাম রেলওয়ের সিসিটিভির মান ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে সাংবাদিক ও লেখক ওসমান এহতেসামের ব্যাগ চুরির ঘটনায় এক মাস পেরিয়ে গেলেও চোরকে শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ উদ্ধারে প্রায় আড়াই ঘণ্টা কাজ করেও চোরের মুখ স্পষ্টভাবে শনাক্ত করা যায়নি। পুলিশের ভাষ্য, ফুটেজে চুরির ঘটনা ও সন্দেহভাজন ব্যক্তির গতিবিধি পাওয়া গেলেও ক্যামেরার নিম্নমানের ছবির কারণে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনাটি গত ৬ আগস্ট রাতে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনের টিকিট কাউন্টারের সামনে ঘটে। যাত্রীদের বসার স্থান থেকে ওসমান এহতেসামের একটি ব্যাগ নিয়ে যায় অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তি। ব্যাগে সাংবাদিকতার কাজে ব্যবহৃত ক্যামেরা, মাইক্রোফোন, চার্জার, নগদ টাকা ও ব্যক্তিগত সামগ্রী ছিল।
এ ঘটনায় ওই রাতেই চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী। অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা শুরু করে। রাত ৮টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে ফুটেজ উদ্ধারের চেষ্টা চালানো হয় বলে জানা গেছে।
পুলিশের দাবি, দীর্ঘ সময় ফুটেজ পর্যালোচনার পর চুরির ঘটনাটি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির মুখমণ্ডল স্পষ্ট না হওয়ায় তাঁকে শনাক্ত করা যায়নি।
এদিকে সিসিটিভি ব্যবস্থার এমন অবস্থায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক ওসমান এহতেসাম। তাঁর অভিযোগ, রেলওয়ে স্টেশনের নিরাপত্তার জন্য স্থাপন করা সিসিটিভি ক্যামেরার কয়েকটি অকার্যকর এবং কিছু ক্যামেরার রেকর্ডিংও পাওয়া যায়নি।
ওসমান এহতেসামের ভাষ্য, তদন্তের সময় রেলওয়ের সিসিটিভি ব্যবস্থার একাধিক মনিটর ও ক্যামেরা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে একটি মনিটর অকার্যকর পাওয়া যায়। আরেকটি মনিটরে দুটি ক্যামেরার দৃশ্য দেখা গেলেও সেগুলোর রেকর্ডিং কার্যকর ছিল না। অন্য একটি ক্যামেরা সচল থাকলেও এর ফুটেজের মান এতটাই নিম্নমানের যে সেখানে থাকা ব্যক্তির চেহারা স্পষ্টভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
এ নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, সরকারি অর্থ ব্যয়ে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হলেও সেগুলো যদি অপরাধী শনাক্তের সময় কার্যকরভাবে কাজে না আসে, তাহলে এসব ক্যামেরার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ক্যামেরা কেন অকার্যকর ছিল, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা হয় কি না এবং নিম্নমানের ক্যামেরা ব্যবহারের কারণ কী—এসব বিষয় তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
ওসমান এহতেসাম আরও অভিযোগ করেন, একজন চোর রেলওয়ে স্টেশনের মতো বড় এলাকায় প্রবেশ করে চুরি করলেও তাকে শনাক্ত করার মতো কার্যকর ক্যামেরা পাওয়া যায়নি। এ কারণে রেলওয়ের কেউ চোরচক্রকে সহযোগিতা করেছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।
তবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কারও সঙ্গে চোরের যোগসাজশ থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে কর্তৃপক্ষ।
চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানার সেকেন্ড অফিসার সহদেব কুমার সরকার বলেন, চোর শনাক্তের চেষ্টা এখনো চলছে। তিনি বলেন, ‘আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি, যেন চোর শনাক্ত করে মালামাল উদ্ধার করতে পারি।’
চুরি হওয়া ব্যাগে থাকা মালামালের মধ্যে ছিল Sony Alpha 7S III (α7S III) ফুল-ফ্রেম মিররলেস ক্যামেরা, যার আনুমানিক মূল্য ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা। এ ছাড়া ‘Face the People’ লোগো সংবলিত একটি মাইক্রোফোন, দুটি চার্জার ও ৬১ হাজার ৫০০ টাকা নগদ ছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর এক মাস পেরিয়ে গেলেও চোর শনাক্ত না হওয়ায় রেলওয়ে স্টেশনের নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগী। তাঁর মতে, চুরির ঘটনা তদন্তের পাশাপাশি স্টেশনের সিসিটিভি ব্যবস্থার কার্যকারিতা, রক্ষণাবেক্ষণ ও রেকর্ডিং ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
কোন ক্যামেরা কত দিন ধরে অকার্যকর, কেন অকার্যকর, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করা হয় কি না এবং সচল ক্যামেরার ফুটেজের মান এত নিম্নমানের হওয়ার কারণ কী—এসব বিষয় তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
পুলিশ বলছে, সীমিত মানের ফুটেজের মধ্যেই চোরকে শনাক্ত ও চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। তবে সিসিটিভির দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে তদন্ত কতটা এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রকাশক ও সম্পাদক সোহেল সরকার কর্তৃক লন্ডন যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
সহ সম্পাদকঃ শেখ ফরিদ হোসেন বার্তা সম্পাদকঃ জিয়াউল ইসলাম জিয়া
WhatsApp 00447798833284 (United Kingdom)
ইমেইলঃ promothalo.com@gmail.com
Copyright © 2026 প্রমথ আলো । বাংলা নিউজ পেপার. All rights reserved.