
পুলিশ মানেই কি কেবল ক্ষমতার অপব্যবহার, হয়রানি কিংবা দমন-পীড়ন? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও জনআলোচনায় এমন ধারণাই যেন দিনদিন শক্ত হচ্ছে। তবে বাস্তবতা কি এতটাই সরল?বিশেষজ্ঞদের মতে, পুলিশ বাহিনীর অনেক সদস্যই চাইলেও পূর্ণমাত্রায় ভালো কাজ করতে পারেন না। কারণ, তাদের কাজের পরিধি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা রাষ্ট্রের কাঠামো ও নির্দেশনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। রাষ্ট্র যা করতে দেয় না, তার বাইরে গিয়ে পুলিশের পক্ষে ভালো কাজ করা প্রায় অসম্ভব। একাধিক পুলিশ সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অনেক সময় মানবিক সিদ্ধান্ত নিতে চাইলেও ঊর্ধ্বতন নির্দেশ, রাজনৈতিক চাপ কিংবা প্রশাসনিক নিয়মের কারণে তা বাস্তবায়ন করা যায় না। ফলে জনরোষের মুখে পড়তে হয় মাঠপর্যায়ের পুলিশকেই। তবে এর মধ্যেও ব্যতিক্রম রয়েছেন অনেকে। সীমিত ক্ষমতার ভেতরে থেকেও ব্যক্তিগত উদ্যোগে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছেন কিছু পুলিশ সদস্য। কোথাও অসহায়ের চিকিৎসা সহায়তা, কোথাও দরিদ্র শিক্ষার্থীর পড়াশোনার দায়িত্ব, আবার কোথাও দুর্যোগকালে নিঃস্ব মানুষের পাশে দাঁড়ানোর ঘটনাও দেখা যায়। বিশ্লেষকদের মতে, পুলিশকে অন্ধভাবে গালিগালাজ না করে রাষ্ট্রের কাঠামো, নীতি ও রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা জরুরি। কারণ পুলিশ একা কোনো বিচ্ছিন্ন সত্তা নয়; তারা রাষ্ট্রযন্ত্রেরই একটি অংশ। সচেতন মহলের অভিমত, পুলিশের জবাবদিহিতা যেমন প্রয়োজন, তেমনি প্রয়োজন তাদের কাজের পরিবেশ ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। রাষ্ট্র যদি ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক ভূমিকা পালনের সুযোগ দেয়, তবে পুলিশ বাহিনীর মধ্যেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসা সম্ভব।
প্রকাশক ও সম্পাদক সোহেল সরকার কর্তৃক লন্ডন যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
সহ সম্পাদকঃ শেখ ফরিদ হোসেন বার্তা সম্পাদকঃ জিয়াউল ইসলাম জিয়া
WhatsApp 00447798833284 (United Kingdom)
ইমেইলঃ promothalo.com@gmail.com
Copyright © 2026 প্রমথ আলো । বাংলা নিউজ পেপার. All rights reserved.