তাড়াশে ভূমি বিরোধ: দুই প্রশাসনিক আদেশে স্বীকৃতি, তবুও দখল ফিরে পেতে আদালতের দ্বারে শামসুজ্জোহা
রিপোর্টারের নামঃ
/ ১০
বার নিউজটি পড়া হয়েছে
প্রকাশিত হয়েছেঃ
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬
শেয়ার করুন
তাড়াশ প্রতিনিধি
সিরাজগঞ্জের তাড়াশে একটি জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধে প্রশাসনিক পর্যায়ে দুটি গুরুত্বপূর্ণ আদেশ হলেও এখনো শান্তিপূর্ণ দখল ফিরে পাননি বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী শামসুজ্জোহা। পূর্ববর্তী নামজারি ও জমির হিসাব সংক্রান্ত বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি), তাড়াশের আদালতের আদেশকে ভিত্তি করে তিনি ভূমি প্রতিকার আইন, ২০২৩ অনুযায়ী দখল পুনরুদ্ধারের জন্য মামলা করেছেন।
জানা যায়, তাড়াশ উপজেলার ১০৫ নং মাঝিড়া মৌজার আরএস ২৬৯ নং খতিয়ানের ৫৭৩ নং দাগের ১.০১ একর জমি নিয়ে এ বিরোধের সৃষ্টি। এ বিষয়ে দায়ের করা বিবিধ কেস নং-২০৫/XIII/২৪-২৫ মামলার আদেশে মোঃ জসিম উদ্দিন খন্দকারের নামে করা ৬০০৪/IX-I/২০২৪-২৫ নং নামজারি আদেশ বাতিল করা হয়। আদেশে উল্লেখ করা হয়, একই দাগের জমি পূর্বে আব্দুল হালিমের নামে ১৫৬২/IX-I/২০০৭-০৮ নং নামজারির মাধ্যমে হিসাব নং-১০০৩ এ অন্তর্ভুক্ত ছিল এবং পরবর্তী নামজারি বিধিসম্মত হয়নি বলে আদালত মত দেন।
পরবর্তীতে বিবিধ কেস নং-৬৩/XIII/২৫-২৬ মামলায় ১৫৬২/IX-I/২০০৭-০৮ নং নামজারি বাতিলের আবেদন করা হলে আদালত তা নামঞ্জুর করেন। ওই আদেশে আব্দুল হালিমের উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত জমি এবং পরবর্তী ওয়ারিশদের নামজারির বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।
ভুক্তভোগী শামসুজ্জোহা বলেন, প্রশাসনিক আদেশে তাদের পক্ষে জমির কাগজপত্র ও পূর্ববর্তী নামজারির বিষয়টি স্পষ্ট হলেও বাস্তবে তারা এখনো জমির শান্তিপূর্ণ দখল ফিরে পাননি। এ কারণে তিনি ভূমি প্রতিকার আইন, ২০২৩ অনুযায়ী দখল পুনরুদ্ধারের মামলা করেছেন।
শামসুজ্জোহা অভিযোগ করেন, “জমিতে চাষ করা সরিষা ফসল তুলতে গেলে আমাদের বাধা দেওয়া হয় এবং হামলার ঘটনাও ঘটে। এ বিষয়ে থানায় জিডি করা হয়েছে, যা বর্তমানে তাড়াশ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “ভূমি বিরোধকে কেন্দ্র করে একাধিকবার হত্যার হুমকি ও গুমের হুমকি পেয়েছি। স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করছে। কিন্তু সত্য ও ন্যায়ের পথ থেকে কখনো সরে যাব না।”
পরিবারটির আরও অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মৃত আব্দুল হালিমের নাম উল্লেখ করে তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তারা এর প্রতিকার দাবি করেছেন।
অন্যদিকে প্রতিপক্ষ মোঃ জসিম উদ্দিন খন্দকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, “উক্ত জমি আমাদের ভাইয়ের সম্পত্তি। আমরা মনে করি জমির ওপর আমাদের অধিকার রয়েছে। শামসুজ্জোহার দাবির সঙ্গে আমরা একমত নই। বিষয়টি আদালতের মাধ্যমেই সমাধান হবে।”
স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিনের এ ভূমি বিরোধের দ্রুত আইনগত নিষ্পত্তি প্রয়োজন। সংশ্লিষ্টদের আশা, আদালত ও প্রশাসনের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে প্রকৃত অধিকার প্রতিষ্ঠিত হলে এলাকায় শান্তি ফিরে আসবে।