প্রিন্ট এর তারিখঃ সেপ্টেম্বর ১৪, ২০২৬, ৮:৫০ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুন ২৪, ২০২৬, ৮:২১ পি.এম
রুমায় আড়াই লক্ষ টাকা প্রকল্পের মাত্র বারো হাজার টাকা খরচ!!

রুমা প্রতিনিধি।
বান্দরবানের রুমায় কাবিটা-কাবিখা'র দুই লক্ষ ৫০ হাজার টাকার প্রকল্পের কাজ মাত্র ১৫হাজার টাকায় কাজ করিয়ে অর্ধেকের টাকা উত্তোলন করে নেওয়া হয়েছে। ৩০জুনের আগে প্রকল্পের বাকি অর্ধেক টাকা বা চুড়ান্ত বিল উত্তোলনের প্রক্রিয়া চলছে।
এলিম- ছাংদালা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে খেলার মাঠ সংস্কারের কথা থাকলেও তা নাকরে ছাংদালা পাড়ার ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জমিতে ঝোপ জঙ্গল পরিষ্কার করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠেছেন- পাইন্দু ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের মেম্বার অংখ্যাইসা মার্মা এর বিরুদ্ধে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষের ঝড় ওঠেছে।
স্থানীয় পাড়াবাসী ও সংশ্লিষ্টদের সূত্রমতে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৩০০আসনে মাননীয় সংসদ সদস্যের অনুকূলে কাবিটা- কাবিখা কর্মসূচির আওতায় ১নং পাইন্দু ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ' এলিম-ছাংদালা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ সংস্কার প্রকল্পের বিপরীতে বরাদ্দ নেয়া হয় দুই লক্ষ ৫০হাজার টাকা।
স্থানীয়দের অভিযোগ , মেম্বার অংখ্যাইসা মার্মা প্রকল্প গ্রহণের কথা জানাইলেও এর বরাদ্ধ মাত্র ৩০ হাজার টাকা কথা জানিয়েছেন। তবে প্রকল্পের বিপরীতে প্রকৃত বরাদ্ধের কথা বিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট শিক্ষক কিংবা পাড়াবাসীকে কখনো জানানো হয়নি বলে জানিয়েছেন ছাংদালা পাড়া বাসিন্দা আছোমং মার্মা ও উচথোয়াই মার্মা। এ কাজে দুই লক্ষ ৫০ হাজার বরাদ্ধের কথা বিভিন্নভাবে জানার পর বিষয়টি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য এর মধ্যে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে একটি অভিযোগ পত্র দেয়া হয়েছে।
আছোমং মার্মার ভাষ্য মতে, খেলার মাঠ করার কথা বলে এক সপ্তাহের আগে তাঁর হাতে ১২,০০০ টাকা তুলে দেন স্থানীয় মেম্বার ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি অংখ্যাইসা মার্মা।
আছোমং মার্মা বলেন, টাকা নেয়ার সময় জানতে চাইলে মেম্বার অংখ্যাইসা মারমা তাঁকে বলেছেন, যেখানে সুবিধা, সেখানে খেলা মাঠের জন্য কাজ করতে এবং কাজের ছবি মেম্বারকে দিতে বলা হয়।
তাঁর কথা অনুসারে বৌদ্ধ বিহারের জমিতে খালি জায়গায় দৈনিক ৪০০টাকায় নারী-পুরুষ ১২জন শ্রমিক নিয়ে একদিন ঝোপঝাড় পরিস্কার করে নেয়া হয়েছে।
এদিকে এলিম-ছাংদালা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মংক্যউ মার্মা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বৌদ্ধ বিহারের জমি ও প্রাথমিক বিদ্যালয় খেলার মাঠ কোন সম্পর্ক নাই। দূরত্বও অনেক। মেম্বার অংখ্যাইসা মার্মা প্রকল্পের নাম ও বরাদ্দা গোপন রেখে তার সুবিধার জন্য বৌদ্ধ বিহার এলাকায় মাঠ সংস্কার করিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন প্রধান শিক্ষক মংক্যউ মার্মা।
বিষয়টি জানতে প্রকল্পের সভাপতি ও ৮নং ওয়ার্ডের মেম্বার অংখ্যাইসা মার্মা বলেন পাড়াবাসী পরামর্শক্রমে প্রথমে বৌদ্ধ বিহার এলাকায় মাঠ সংস্কার করা হয়েছিল। এখন যেহেতু পাড়ার মধ্যে একটি অংশ আপত্তি তুলেছেন, তাই প্রকল্পের নাম অনুযায়ী বিদ্যালয়ের সামনে মাঠ সংস্কারের কাজ করা হবে।
জানতে চাইলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোঃ কাউছার বলেন অধিকাংশ প্রকল্পের কাজ এর বিপরীতে চূড়ান্ত বিল দেয়া হয়নি এখনো।
সেসব প্রকল্প পরিদর্শন করে কাজ না করে থাকলে সেসব প্রকল্পের টাকা ফেরত দেয়া হবে সরকারি কোষাগারে।
ছবি: অভিযুক্ত মেম্বার অংখ্যাইসা মার্মা।
প্রকাশক ও সম্পাদক সোহেল সরকার কর্তৃক লন্ডন যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
সহ সম্পাদকঃ শেখ ফরিদ হোসেন বার্তা সম্পাদকঃ জিয়াউল ইসলাম জিয়া
WhatsApp 00447798833284 (United Kingdom)
ইমেইলঃ promothalo.com@gmail.com
Copyright © 2026 প্রমথ আলো । বাংলা নিউজ পেপার. All rights reserved.