অনুপ্রেরণায় উৎসাহিত মমতাজুল হক আজিজ_
আমার চেনা একজন ব্যক্তি হাজী আবুল হাসেম মাস্টার যার গুণাবলীতে আমি অনুপ্রেরিত_ যিনি চট্টগ্রাম রাঙ্গুনিয়া উপজেলার কাউখালী ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের বেতাগীর বাসিন্দা আবুল হাসেম মাস্টার, যিনি শুধু একজন শিক্ষক ছিলেন না—তিনি ছিলেন একটি প্রতিষ্ঠান, একটি ইতিহাস, একটি জীবন্ত অনুপ্রেরণা। তিনি হচ্ছেন আমাদের শ্রদ্ধেয় অগ্রজ, হাজি আবুল হাসেম মাস্টার সাহেব।
দীর্ঘ সত্তরিশ বছরের বর্ণাঢ্য শিক্ষকতা জীবনে তিনি চট্টগ্রাম জেমসেন স্কুল অ্যান্ড কলেজকে শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখেননি, বরং এটিকে তিনি নিজের প্রাণের অংশ হিসেবে ধারণ করেছিলেন। প্রজন্মের পর প্রজন্ম তাঁর হাতে গড়ে উঠেছে—কারো হাতে কলম ধরিয়ে দিয়েছেন, কারো মাঝে জ্বালিয়ে দিয়েছেন জ্ঞানের আলো, আবার কারো জীবনের অন্ধকার দূর করে দিয়েছেন নীরবে, নিঃস্বার্থভাবে।
তিনি এমন এক সময়ের শিক্ষক, যিনি পাকিস্তান বিরোধী আন্দোলনের উত্তাল দিনগুলো দেখেছেন, স্বাধীন বাংলাদেশের সূচনালগ্ন প্রত্যক্ষ করেছেন, এবং সেই ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় নিজেকে যুক্ত রেখেছেন শিক্ষার মহান ব্রতে। তাঁর জীবন যেন এক দীর্ঘ সংগ্রামের গল্প—অন্যায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান, সত্যের প্রতি অবিচল থাকা এবং শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার এক নিরলস প্রয়াস।
সম্ভবত ২০০০ সালের দিকে তিনি অবসর গ্রহণ করেন। কিন্তু বাস্তবে কি একজন প্রকৃত শিক্ষক কখনো অবসর নেন? তাঁর আদর্শ, তাঁর শিক্ষা, তাঁর ছোঁয়া—এসব তো আজও বেঁচে আছে অসংখ্য ছাত্রের হৃদয়ে, তাঁদের কাজের মাঝে, তাঁদের চিন্তায়।
হাজি আবুল হাসেম মাস্টার সাহেব তাঁর পুরো জীবনটাই উৎসর্গ করেছেন শিক্ষা ও মানুষ গড়ার কাজে। এমন মানুষরা আসলে সময়ের গণ্ডি পেরিয়ে যান—তাঁরা ইতিহাস হয়ে থাকেন, অনুপ্রেরণা হয়ে থাকেন, পথপ্রদর্শক হয়ে থাকেন।
আজকের এই সময়ে দাঁড়িয়ে, যখন আমরা মূল্যবোধের সংকটের কথা বলি, তখন তাঁর মতো একজন মানুষের জীবন আমাদের সামনে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে ধরা দেয়। তিনি দেখিয়ে গেছেন—একজন শিক্ষক কেবল পাঠ্যবই পড়ান না, তিনি গড়ে তোলেন মানুষ, নির্মাণ করেন একটি জাতির ভবিষ্যৎ।
একটি আলোকিত উত্তরাধিকার: দায়িত্ব এখন পরবর্তী প্রজন্মের
হাজি আবুল হাসেম মাস্টার সাহেব—একজন প্রায় শতবর্ষী প্রজ্ঞাবান মানুষ, যিনি এখনো আমাদের মাঝে জীবন্ত ইতিহাস হয়ে আছেন। আল্লাহ তাঁর হায়াতকে আরো দীর্ঘ ও বরকতময় করুন—এটাই আমাদের অন্তরের দোয়া।
তাঁর জীবন শুধু একজন শিক্ষকের জীবন নয়; এটি একটি আদর্শ, একটি সংগ্রাম, একটি নীরব বিপ্লবের গল্প। তিনি যেমন নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন শিক্ষা, সমাজ ও মানুষের কল্যাণে—তেমনি তিনি রেখে গেছেন একটি উজ্জ্বল উত্তরাধিকার।
তিনি শুধু ছাত্রই গড়ে তোলেননি, গড়ে তুলেছেন নিজের পরিবারেও যোগ্য, শিক্ষিত ও প্রতিষ্ঠিত সন্তান। তাঁর তাঁর তিন সন্তানের মধ্যে বড় সন্তান বদরুল হায়দার, যিনি ফার্মাসিউটিক্যাল খাতে নিজস্ব ফার্মেসি ব্যবসার মাধ্যমে সফলভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। নিজের পরিশ্রম ও উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি একটি স্বনির্ভর অবস্থান তৈরি করেছেন। তার মধ্যে মেজ সন্তান দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলায় ব্যবস্থাপক পর্যাদায়” দায়িত্বে নিয়োজিত,মুহাম্মদ দিদারুল হায়দার তার ছোট সন্তান চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট সম্মানিত অধ্যাপক—ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হায়দার, যাঁরা প্রত্যেকেই নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব।
কিন্তু এখানেই শেষ নয়—একটি বড় প্রশ্ন, একটি বড় প্রত্যাশা আমাদের সামনে দাঁড়িয়ে আছে।
যে মানুষটি সারাজীবন সমাজের জন্য নিজেকে বিলিয়ে দিয়েছেন, তাঁর স্বপ্ন কি শুধুই স্মৃতির পাতায় থাকবে? নাকি সেই স্বপ্ন নতুন করে প্রাণ পাবে তাঁরই উত্তরসূরিদের হাত ধরে?
আমরা চাই, তাঁর সন্তানরা শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ না থেকে সমাজের জন্য, এলাকার জন্য, মানুষের জন্য আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখুন। তাঁদের বাবার যে জাগ্রত চেতনা, যে স্বপ্ন—একটি আলোকিত সমাজ গড়ার স্বপ্ন—সেটিকে বাস্তবায়নের পথে তাঁরা এগিয়ে আসুন।
কারণ, উত্তরাধিকার শুধু নাম বা পরিচয়ে নয়—উত্তরাধিকার বেঁচে থাকে কর্মে, দায়িত্বে, এবং সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতায়।
হাজি আবুল হাসেম মাস্টার সাহেব তাঁর দায়িত্ব পালন করে গেছেন নিঃশব্দে, নিরলসভাবে। এখন সময় এসেছে সেই আলোর মশালটি আরো দূরে বহন করার—পরবর্তী প্রজন্মের হাতে, তাঁরই গড়া সন্তানদের মাধ্যম
এই তিনজনই তাঁদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে প্রমাণ করছেন—একজন আদর্শ পিতার সঠিক দিকনির্দেশনা কিভাবে সন্তানদের জীবনে প্রতিফলিত হয়।
আমাদের আন্তরিক প্রত্যাশা—এই সন্তানরা একদিন সমাজের উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় নিজেদেরকে গুরুত্বপূর্ণ ও কল্যাণকর ভূমিকার উপযুক্ত করে তুলবেন। তাঁরা যেন নিজেদের মেধা, যোগ্যতা ও সামর্থ্যকে মানুষের কল্যাণে নিয়োজিত করতে পারেন—এই কামনাই করি।
তাঁদের মাধ্যমে সমাজ, এলাকা ও দেশের জন্য কল্যাণকর পরিবর্তন আসুক—এই প্রত্যাশায় রইলো আমাদের অন্তরের দোয়া ও শুভকামনা।
আল্লাহ তাঁদেরকে সৎ পথে পরিচালিত করুন, তাঁদের কর্মে বরকত দান করুন এবং তাঁদেরকে মানুষের উপকারে নিয়োজিত থাকার তাওফিক দিন।
পরিশেষে সকল পাঠকের প্রতি রইল সালাম আন্তরিক ভালবাসার অনুপ্রেরণা ও দোয়া কামনায়_
মোহাম্মদ মমতাজুল হক আজিজ, অর্থ সম্পাদক, আনজুমানে খুদ্দামুল মুসলিমিন রিয়াদ কেন্দ্রীয় পরিষদ, সৌদিআরব।
প্রকাশক ও সম্পাদক সোহেল সরকার কর্তৃক লন্ডন যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
সহ সম্পাদকঃ শেখ ফরিদ হোসেন বার্তা সম্পাদকঃ জিয়াউল ইসলাম জিয়া
WhatsApp 00447798833284 (United Kingdom)
ইমেইলঃ promothalo.com@gmail.com
Copyright © 2026 প্রমথ আলো । বাংলা নিউজ পেপার. All rights reserved.