প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ১২, ২০২৬, ৭:৪২ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ এপ্রিল ২৪, ২০২৬, ৯:২৫ এ.এম
নতুন ব্রীজ ফিশারিঘাটে বিষ্ণু ফার্মেসির বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা স্থানীয়দের

চট্টগ্রাম ব্যুরো :
চট্টগ্রাম নগরের নতুন ব্রীজ ফিশারিঘাট বেঁড়া মার্কেট এলাকায় অবস্থিত বিষ্ণু ফার্মেসির বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী এবং সচেতন মহলের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এই ফার্মেসিতে নিয়মনীতি উপেক্ষা করে প্রেসক্রিপশন ছাড়াই বিভিন্ন যৌন উত্তেজক ও নিয়ন্ত্রিত ওষুধ বিক্রি করা হচ্ছে। বিষয়টি জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তারা।
স্থানীয়দের একাধিক অভিযোগ, ফার্মেসিটিতে প্রায়ই এমন ওষুধ বিক্রি করা হয়, যেগুলো চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়া বিক্রি করার আইনগত অনুমতি নেই। বিশেষ করে বিভিন্ন ধরনের যৌন উত্তেজক ওষুধ এবং কিছু নিয়ন্ত্রিত ওষুধ সহজেই ক্রেতাদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে কিশোর ও তরুণদের একটি অংশ সহজেই এসব ওষুধ সংগ্রহ করতে পারছে, যা তাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
একাধিক সূত্র জানায়, অসাধু ব্যবসার আড়ালে বিষ্ণু ফার্মেসি থেকে নিষিদ্ধ বা নিয়ন্ত্রিত ওষুধ সরবরাহের সঙ্গেও সংশ্লিষ্টতার সন্দেহ রয়েছে। যদিও এসব অভিযোগের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ এখনো প্রকাশ্যে আসেনি, তবুও স্থানীয়দের দাবি,দীর্ঘদিন ধরে ফার্মেসিটির কার্যক্রম নিয়ে নানা প্রশ্ন ও সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, অনেক সময় কিশোর ও তরুণদের দল ফার্মেসিটিতে এসে বিভিন্ন ধরনের ওষুধ কিনে নিয়ে যেতে দেখা যায়। এতে অভিভাবকদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তারা মনে করছেন, যথাযথ তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ না থাকলে এসব ওষুধের অপব্যবহার আরও বাড়তে পারে।
স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এলাকায় একাধিক ফার্মেসি থাকলেও কিছু প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিয়ম ভঙ্গ করে ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। তারা বলেন, ওষুধ বিক্রির ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্ধারিত নীতিমালা মেনে চলা বাধ্যতামূলক হলেও বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই তা মানা হচ্ছে না।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে কিছু ফার্মেসিতে প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধ বিক্রির প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এতে একদিকে যেমন জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে পড়ছে, অন্যদিকে ওষুধ ব্যবস্থাপনার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
এ পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে ফার্মেসিগুলোর লাইসেন্স যাচাই, প্রেসক্রিপশন ছাড়া ওষুধ বিক্রি বন্ধ এবং স্বাস্থ্যবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ পাওয়া গেলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
এলাকাবাসী আরও বলেন, যদি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর এবং স্থানীয় প্রশাসন যৌথভাবে নিয়মিত তদারকি চালায়, তবে এ ধরনের অনিয়ম অনেকাংশে কমে আসবে এবং জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকিও হ্রাস পাবে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে এবং সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রকাশক ও সম্পাদক সোহেল সরকার কর্তৃক লন্ডন যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
সহ সম্পাদকঃ শেখ ফরিদ হোসেন বার্তা সম্পাদকঃ জিয়াউল ইসলাম জিয়া
WhatsApp 00447798833284 (United Kingdom)
ইমেইলঃ promothalo.com@gmail.com
Copyright © 2026 প্রমথ আলো । বাংলা নিউজ পেপার. All rights reserved.