সোহেল সরকার, লন্ডন যুক্তরাজ্যঃ
৫ আগস্ট পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অনেক নাটকীয় পরিবর্তন আমরা দেখেছি। অনেক রাঘববোয়াল থেকে শুরু করে সাধারণ কর্মী—গ্রেফতারের তালিকায় যুক্ত হয়েছেন অনেকেই। কিন্তু সব মহলের বিশেষ দৃষ্টি ছিল যার দিকে, তিনি হলেন জাতীয় সংসদের বিদায়ী স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। দীর্ঘ সময় নিখোঁজ বা 'গুম' থাকার এক ধোঁয়াশাপূর্ণ পরিস্থিতির পর হঠাৎ তাঁর নিজ বাসা থেকে গ্রেফতারের খবরটি জনমনে স্বস্তির চেয়ে বেশি উদ্রেক করেছে গভীর উদ্বেগের।
অনিশ্চয়তার অবসান, কিন্তু প্রশ্ন অনেক
শিরীন শারমিন চৌধুরী বেঁচে আছেন কি না, কেমন আছেন—এসব মৌলিক প্রশ্নের উত্তর ছাড়াই পার হয়েছে দীর্ঘ সময়। যেখানে একজন সাধারণ রাজনৈতিক কর্মীকেও খুঁজে বের করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মুহূর্ত সময় লাগে না, সেখানে একজন সাবেক স্পিকার এতদিন নিজ বাসায় থাকা সত্ত্বেও কেন তাঁকে গ্রেফতার দেখানো হলো না? এই দীর্ঘ সময় কি তাঁকে অঘোষিতভাবে কোথাও আটকে রাখা হয়েছিল? আজ হঠাৎ অসুস্থ অবস্থায় এই গ্রেফতার কি কোনো সম্ভাব্য আইনি চাপ বা দায় এড়ানোর কৌশল?
একজন মেধাবী ও পরিচ্ছন্ন রাজনীতিকের প্রতিকৃতি
বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তাঁর শিক্ষাজীবন ঈর্ষণীয়—যিনি জীবনের কোনো পরীক্ষায় কখনও দ্বিতীয় হননি। কেবল মেধা নয়, তাঁর মার্জিত আচরণ, পরিমিত বোধ এবং সৌজন্যবোধ দল-মত নির্বিশেষে সবার শ্রদ্ধা কেড়েছে।
পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি: তাঁর বিরুদ্ধে আজ পর্যন্ত দুর্নীতির কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নেই।
ব্যক্তিত্ব: উচ্চকণ্ঠ বা প্রতিহিংসামূলক রাজনীতির বিপরীতে তিনি সবসময়ই ছিলেন শান্ত ও সংযত।
অবদান: কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশন (CPA)-এর চেয়ারপারসন হিসেবে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের সম্মান বৃদ্ধি করেছিলেন তিনি।
মানবিকতা ও আইনের শাসন
সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত তাঁর ছবিগুলো দেখলে শিউরে উঠতে হয়। একজন মার্জিত এবং মেধাবী মানুষের চোখে-মুখে যে মানসিক ও শারীরিক যন্ত্রণার ছাপ দেখা যাচ্ছে, তা সভ্য সমাজের জন্য এক বড় প্রশ্নচিহ্ন। যদি তিনি অসুস্থই হয়ে থাকেন, তবে এই অবস্থায় তাঁকে আইনি প্রক্রিয়ায় হেনস্তা করা কতটা মানবিক?
"আজ তাঁর চেহারার দিকে তাকালেই যেন বোঝা যায়—তিনি কতটা মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের মধ্য দিয়ে গেছেন। এই দৃশ্য আমাদের দেশের রাজনীতির এক অন্ধকার দিককেই উন্মোচিত করে।"
প্রতিশোধ নাকি ন্যায়বিচার?
দেশের সচেতন নাগরিক সমাজ মনে করছে, এই গ্রেফতার কেবলই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং প্রতিশোধমূলক। একজন বিতর্কহীন এবং সজ্জন নারীকে এভাবে জনসমক্ষে উপস্থাপন করা কেবল তাঁর ব্যক্তিগত অপমান নয়, বরং এটি দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির দেউলিয়াত্ব প্রকাশ করে।
উপসংহার
ইতিহাস সাক্ষী দেয়, সত্যকে সাময়িকভাবে ধামাচাপা দেওয়া গেলেও চিরতরে স্তব্ধ করা যায় না। ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর প্রতি এই আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে সচেতন মহল। আমরা আশা করি, আইনের শাসন কায়েম হবে এবং তিনি ন্যায্য বিচার পাবেন। প্রতিহিংসার রাজনীতি বন্ধ হোক, মেধাবী ও সজ্জনদের সম্মান সুরক্ষিত থাকুক—এটাই আজকের প্রত্যাশা।
ইনশাআল্লাহ, সত্যের জয় হবেই।
প্রকাশক ও সম্পাদক সোহেল সরকার কর্তৃক লন্ডন যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
সহ সম্পাদকঃ শেখ ফরিদ হোসেন বার্তা সম্পাদকঃ জিয়াউল ইসলাম জিয়া
WhatsApp 00447798833284 (United Kingdom)
ইমেইলঃ promothalo.com@gmail.com
Copyright © 2026 প্রমথ আলো । বাংলা নিউজ পেপার. All rights reserved.