
বগুড়া প্রতিনিধি: বগুড়ার শাজাহানপুর উপজেলায় সংবাদ প্রকাশকে কেন্দ্র করে এক সাংবাদিককে হত্যার হুমকি, ৯ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, নগদ টাকা ও পাওয়ার ব্যাংক ছিনতাই এবং তার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বগুড়া পৌরসভার ২১ নম্বর ওয়ার্ডের বেজোড়া দক্ষিণপাড়া এলাকার বাসিন্দা ও জাতীয় দৈনিক মাতৃজগত পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার আরিফুল ইসলাম (৩৬) গত ৮ মার্চ ২০২৬ একটি সংবাদ প্রকাশ করেন। ওই সংবাদ প্রকাশের জেরে একই এলাকার কয়েকজন ব্যক্তি তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ৮ মার্চ রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে শাজাহানপুর থানাধীন বনানী মাদরাসার সামনে পাকা রাস্তার পাশে সাংবাদিক আরিফুল ইসলামের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করা হয়। এ সময় অভিযুক্তরা তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয় এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে।
একপর্যায়ে তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে ৯ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার কাছে থাকা নগদ ১০ হাজার ২৩০ টাকা এবং আনুমানিক ২ হাজার টাকা মূল্যের একটি পাওয়ার ব্যাংক জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, টাকা না দিলে তাকে বাড়িতে গিয়ে মারধর ও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে অভিযোগ দায়েরের বিষয়টি জানতে পেরে অভিযুক্তরা সাংবাদিকের বাড়ির সামনে গিয়ে গালাগালি করে এবং একপর্যায়ে বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুর চালায়।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, বিষয়টি জানিয়ে প্রশাসনকে একাধিকবার অবহিত করা হলে তিনবার পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। তবে এরপরও অভিযুক্তরা প্রায় পাঁচ ঘণ্টা বাড়িটি অবরুদ্ধ করে রেখে হামলা ও ভাঙচুর চালায়।
অভিযোগে মো. শাহিন (৩৬), মো. আরাফাত হোসেন (৪২), মো. সোহেব আলী (৪২) ও মো. ফহিম (৩৭)-সহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম বলেন,
“সংবাদ প্রকাশ করায় পরিকল্পিতভাবে আমাকে ভয়ভীতি দেখানো হয়েছে। আমার কাছে থাকা টাকা ও পাওয়ার ব্যাংক ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে আমার বাড়িতে এসে ভাঙচুরও করা হয়েছে। বর্তমানে আমি ও আমার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”
এ বিষয়ে শাজাহানপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বলেন,
“একজন সাংবাদিকের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল সাংবাদিকের নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
প্রকাশক ও সম্পাদক সোহেল সরকার কর্তৃক লন্ডন যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
সহ সম্পাদকঃ শেখ ফরিদ হোসেন বার্তা সম্পাদকঃ জিয়াউল ইসলাম জিয়া
WhatsApp 00447798833284 (United Kingdom)
ইমেইলঃ promothalo.com@gmail.com
Copyright © 2026 প্রমথ আলো । বাংলা নিউজ পেপার. All rights reserved.