পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে বাইরের বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেওয়া হচ্ছে না। তাঁকে ফাঁসির আসামি রাখার কক্ষে একাকী রাখা হয়েছে। ইমরান খানের ছেলে কাসিম খান ২৭ নভেম্বর এক্সে করা এক পোস্টে এ দাবি করেন। এদিকে গতকাল শনিবারও ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক–ই–ইনসাফের (পিটিআই) নেতা–কর্মীরা তাঁর জীবিত থাকার প্রমাণের দাবিতে প্রতিবাদ করেছেন।
কাসিম খান বলেছেন, আদালত থেকে তাঁর বাবার সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি থাকলেও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাঁকে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। তাঁর বাবাকে সম্পূর্ণ অস্বচ্ছতার মধ্যে একটি ফাঁসির কক্ষে একাকী বন্দী করে রাখা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বাবার সঙ্গে তাঁদের কোনো ফোনে কথা হয়নি, কোনো সাক্ষাতের সুযোগও দেওয়া হয়নি। এমনকি তাঁর জীবিত থাকার কোনো প্রমাণও দেওয়া হয়নি। তিনি আরও বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে এমন এক অন্ধকার কক্ষে রাখা হয়েছে, যা সাধারণত মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দীদের জন্য ব্যবহার করা হয়।
কাসিম খান আরও বলেন, ‘দিনে ২২ ঘণ্টা একাকী ফাঁসিকক্ষে রাখা, তাঁর চিকিৎসককে দূরে রাখা, ছয় মাস ধরে পরিবারের ফোনকল বন্ধ রাখা, সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া—এসবই মানসিক নিপীড়ন। এটি তাঁর মনোবল ভেঙে ফেলার জন্য পরিকল্পিত নিষ্ঠুরতা।’
জাতিসংঘে আবেদন
লন্ডনে বসবাসকারী ২৬ বছর বয়সী কাসিম খান, তাঁর বড় ভাই ২৮ বছর বয়সী সুলায়মান খান ও ইমরানের প্রাক্তন স্ত্রী জেমাইমা গোল্ডস্মিথের পক্ষ থেকে জাতিসংঘ ও বৈশ্বিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর হস্তক্ষেপ চেয়ে আবেদন জানানো হয়েছে। তাঁরা ইমরানের জীবিত থাকার প্রমাণ উপস্থাপন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী সাক্ষাতের সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে ইমরান খানের তিন বোন নুরিন খান, আলিমা খান, উজমা খানসহ পিটিআইয়ের জ্যেষ্ঠ নেতারা রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারের বাইরে বিক্ষোভ করছেন। তাঁরা ইমরান খানের সুস্থতার প্রমাণ দেখাতে ও তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতির দাবি করে কর্মকর্তাদের ওপর চাপ দিচ্ছেন। গত শুক্রবার সকালে তাঁরা রাতভর চলা বিক্ষোভ স্থগিত করে ইসলামাবাদ হাইকোর্টে যান এবং কারা সুপারিনটেনডেন্টের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার আবেদন করেন।
কাসিম খান ও সুলায়মান খানের পক্ষ থেকে জাতিসংঘের নির্যাতনবিষয়ক বিশেষ র্যাপোর্টিয়ার অ্যালিস অ্যাডওয়ার্ডসের কাছে তাঁদের বাবার মামলাটি তদন্ত করে দেখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে হুমকি দিয়ে বলা হয়েছে, দুই ভাই যদি ইমরানের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার চেষ্টা করেন, তবে তাঁদেরও গ্রেপ্তার করা হবে।
উল্লেখ্য, ইমরান আগস্ট ২০২৩ থেকে কারাগারে রয়েছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা চলছে, যার মধ্যে দুর্নীতি ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযোগও রয়েছে।
সরকারের অবস্থান
দ্য ডন–এর খবরে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিদেশি গণমাধ্যমে ইমরান খানের অসুস্থতা নিয়ে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লেও সরকার তা প্রত্যাখ্যান করেছে। সরকারি ভাষ্য, ইমরান খান ভালো আছেন। গত বুধবার আদিয়ালা কারাগারের এক কর্মকর্তা বলেন, ইমরান খানকে কারাগার থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়নি। তিনি সুস্থ আছেন।
বিক্ষোভের হুঁশিয়ারি
ইমরানের সঙ্গে তাঁর বোন ও দলীয় নেতাদের সাক্ষাতের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বিরোধীদলীয় জোট। অন্যথায় তারা দেশজুড়ে বিক্ষোভের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। পাকিস্তানের পার্লামেন্ট হাউসের বাইরে গত শুক্রবার এক যৌথ সংবাদ সম্মেলন করে বিরোধীদলীয় জোট থেকে এ হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
প্রকাশক ও সম্পাদক সোহেল সরকার কর্তৃক লন্ডন যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
সহ সম্পাদকঃ শেখ ফরিদ হোসেন বার্তা সম্পাদকঃ জিয়াউল ইসলাম জিয়া
WhatsApp 00447798833284 (United Kingdom)
ইমেইলঃ promothalo.com@gmail.com
Copyright © 2026 প্রমথ আলো । বাংলা নিউজ পেপার. All rights reserved.