স্টাফ রিপোর্টার বগুড়াঃ- আপোষহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া—বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির ইতিহাসে এক অটল সাহস, দৃঢ়তা এবং আত্মত্যাগের প্রতীক। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে খুব সুন্দর এবং গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন জিয়া সাংস্কৃতিক সংগঠন (জিসাস) বগুড়া জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশ (এম-ট্যাব) আঞ্চলিক জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক, তরুণ উদীয়মান সাবেক ছাত্র নেতা, বিশিষ্ট সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী ও সমাজসেবক মোঃ আরমান হোসেন ডলার।
তার বক্তব্য নিম্নে তুলে ধরা হলো...
আপোষহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া—বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির ইতিহাসে এক অচেনা আলো, এক লড়াকু আত্মা, এক অবিনাশী সাহসের নাম।
তিনি শুধু একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নন—তিনি একটি অধ্যায়। এমন একটি অধ্যায়, যা ত্যাগ, নির্যাতন, আত্মসমর্পণ ও মানুষের অধিকার রক্ষার মহাকাব্য দিয়ে লেখা।
তাঁর রাজনৈতিক জীবন শুধু ক্ষমতার মসনদ নয়, বরং ত্যাগ, সংগ্রাম আর মানুষের ভোটাধিকার রক্ষার এক নির্মম বাস্তব যুদ্ধ।
স্বামী রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শহীদ হওয়ার পর তাঁর জীবনে নেমে আসে এক গভীর শোকের কালো অধ্যায়।
কিন্তু সেই অন্ধকারের মধ্য থেকেও তিনি দাঁড়িয়েছিলেন—দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার নিয়ে।
বাংলাদেশের ক্ষমতা, রাজনীতি, ইতিহাস—সবকিছুর সামনে যখন অন্ধকার নেমে আসছিল, তখন তিনি সাহস করে দাঁড়িয়েছিলেন।
দাঁড়িয়েছিলেন শুধু নিজের জন্য নয়—
মানুষের ভোটাধিকার, দেশের গণতন্ত্র, এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মুক্ত শ্বাসের অধিকার রক্ষার জন্য।
একজন নারী, একজন মা—কিন্তু হৃদয়ে ছিল হাজারো মানুষের আশা বহন করার অদম্য শক্তি।
যে সময়ে নারীর রাজনীতিতে উঠে আসা সহজ ছিল না, তিনি সেই কঠিন পথেই হাঁটলেন।
কখনো ভয় পাননি, কখনো পিছিয়ে যাননি।
কারাগার, হামলা, হুমকি, নির্যাতন, মিথ্যা মামলা—সবকিছু সামনে পেয়েও তিনি ভেঙে না পড়ে আরও শক্ত হয়ে উঠেছেন।
১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থানে তাঁর ভূমিকা, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াই, রাজপথের সংগ্রামে অবিচল উপস্থিতি—সবই প্রমাণ করে তিনি শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা নন; তিনি একজন সত্যিকারের জননেত্রী, যিনি মানুষের অধিকারের জন্য নিজের স্বস্তি, পরিবার, ব্যক্তিগত শান্তি—সবকিছু ত্যাগ করেছেন।
তিনবার দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি প্রমাণ করেছেন—
দায়িত্ব, সততা আর সুন্দর ব্যবস্থাপনা কাকে বলে।
দেশের অবকাঠামো, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, অর্থনীতি—প্রতিটি খাতে তিনি রেখে গেছেন স্পষ্ট ছাপ।
কিন্তু তাঁর পথচলা কখনোই সহজ ছিল না।
প্রতিটি পদক্ষেপ ছিল সংগ্রামমুখর, প্রতিটি অর্জনের পেছনে ছিল আত্মত্যাগ। অনেক রাত তাঁকে কাটাতে হয়েছে কারাগারের অন্ধকারে, বহুদিন তাঁকে কাটাতে হয়েছে গৃহবন্দিত্বের যন্ত্রণা নিয়ে—তবু তাঁর মন কখনো বন্দী হয়নি।
দুঃখ, যন্ত্রণা, অসুস্থতার ভেতরেও তিনি ছিলেন দৃঢ়, অপরাজেয়।
তিনি তিনবার দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন—
কিন্তু কখনো ক্ষমতার অহংকার তাঁকে ছুঁতে পারেনি।
তিনি ছিলেন মানুষের নেতা, মানুষের আস্থা, মানুষের আশ্রয়।
রাস্তায় দাঁড়ানো নিরীহ মানুষ থেকে শুরু করে দেশের মুখ্য সিদ্ধান্ত—সবখানে ছিল তাঁর মানবিকতা, তাঁর রাষ্ট্রনায়কত্ব।
আজ তিনি শারীরিকভাবে দুর্বল, অসুস্থ।
কিন্তু তাঁর রাজনৈতিক শক্তি, তাঁর মনোবল—
আজও এক ঝঞ্ঝা-বাতাসের মতো রাজনীতিকে নাড়া দেয়।
কারাগারের অন্ধকার তাঁকে হার মানাতে পারেনি।
গৃহবন্দিত্ব তাঁর মনকে বন্দী করতে পারেনি।
অসুস্থতা তাঁর আত্মাকে দুর্বল করতে পারেনি।
কারণ তাঁর হৃদয় এখনো দেশের জন্যই ধ্বকধ্বক করে—
মানুষের অধিকার, মানুষের ন্যায়বিচার, মানুষের স্বাধীনতার জন্যই বেঁচে আছে তাঁর প্রতিটি শ্বাস।
আজ যখন তিনি অসুস্থ, তখনও তাঁর চোখে জ্বলে সেই অবিচলতার আগুন— যে আগুন দেশের মানুষকে বারবার পথ দেখিয়েছে, আশা দিয়েছে, সাহস দিয়েছে।
খালেদা জিয়া শুধু একটি রাজনৈতিক দলের চেয়ারপারসন নন— তিনি এক সাহসী ইতিহাস, এক সংগ্রামী চরিত্র,
এক আপোষহীন আত্মার নাম।
খালেদা জিয়া শুধু একজন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নন—
তিনি বাংলাদেশের গণতন্ত্রের প্রতিচ্ছবি।
তিনি আপোষহীনতার শেষ প্রতীক।
তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো এক দৃঢ় নারীর নাম।
হে আল্লাহ,
এই সাহসী নারীর ওপর রহমত বর্ষণ করুন,
এই দেশের গণতন্ত্রের রক্ষককে সুস্থতা দিন,
যাতে বাংলাদেশ আবার তাঁর অভিজ্ঞতা, তাঁর মানবিকতা, তাঁর দৃঢ় নেতৃত্বের আলো দেখতে পায়।
হে আল্লাহ, এই মহীয়সী নেত্রীর ওপর আপনার রহমত দিন, তাঁকে দ্রুত সুস্থ করুন, তাঁর জীবনে শান্তি ফিরিয়ে দিন।
কারণ বাংলাদেশ এখনও তাঁর মমতা, তাঁর নেতৃত্ব, তাঁর সাহসকে প্রয়োজন করে।
আপোষহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু কামনায় গভীর শুভকামনা ও দোয়া।।
প্রকাশক ও সম্পাদক সোহেল সরকার কর্তৃক লন্ডন যুক্তরাজ্য থেকে প্রকাশিত
সহ সম্পাদকঃ শেখ ফরিদ হোসেন বার্তা সম্পাদকঃ জিয়াউল ইসলাম জিয়া
WhatsApp 00447798833284 (United Kingdom)
ইমেইলঃ promothalo.com@gmail.com
Copyright © 2026 প্রমথ আলো । বাংলা নিউজ পেপার. All rights reserved.