
ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার ৪নং বড়পলাশবাড়ী ইউনিয়নে উত্তম কৃষি চর্চা GAP-(Good Agricultural Practices) পদ্ধতি অনুসরণ করে নিরাপদ ও বিষমুক্ত আম চাষ শুরু করছেন আম চাষি খাদেমুল ইসলাম। সম্পূর্ণ আধুনিক ও বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে তিনি ১০০ শতাংশ জমির ওপর গড়ে তোলা এই আম বাগানটি এখন স্থানীয় চাষিদের মাঝে আশার আলো দেখাচ্ছে।
আম চাষি খাদেমুল ইসলাম জানান, প্রথাগত পদ্ধতিতে রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে শতভাগ নিরাপদ ও রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন করাই তাদের মূল লক্ষ্য। বাগানটিতে বারি-৪ জাতের উচ্চফলনশীল আম চাষ করা হয়েছে। বাগানটিতে মাঠ পর্যায়ে শতভাগ ‘ফ্রুট ব্যাগিং’প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় তিন বিঘা জমির প্রতিটি গাছের আম বিশেষ ধরনের দুই স্তরবিশিষ্ট হলুদ ও বাদামি কাগজের ব্যাগ (Fruit Bagging) দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে।
উদ্যোক্তা জানান, আমের গুটি যখন মার্বেল আকৃতির হয়,তখনই পুরো বাগান বালাইনাশকমুক্ত করে এই ব্যাগিং করা হয়।এর ফলে ক্ষতিকর হপার মাছি পোকা আমের গায়ে ডিম পাড়তে পারে না এবং ঝড়-বৃষ্টির কারণে আমে কোনো দাগ পড়ে না। ফলে কোনো ধরনের বিষাক্ত কীটনাশক ছাড়াই আমগুলো প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে উঠছে এবং আকর্ষণীয় রঙ ধারণ করছে।
দায়িত্বে থাকা বড়পলাবাড়ী ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো: দুলাল হোসেন বলেন, আমরা পাটনার প্রকল্পের আওতায় কিভাবে নিরাপদ আম উৎপাদন করা যায় তা হাতে কলমে চাষিদের প্রশিক্ষন দেওয়া হচ্ছে এবং এই বাগানের মালিককে সম্পূন কীটনাশক মুক্ত আম উৎপাদনের জন্য সার্বিক ভাবে সহযোগিতা করা হচ্ছে।
বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা উপ-সহকারী উদ্ভীদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মো: এহসানউল্লাহ বাবুল বলেন, বড়পলাশবাড়ী ইউনিয়ন হচ্ছে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার আম উৎপাদনের জন্য অন্যতম স্থান। এই প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা চেষ্টা করছি কিভাবে কীটনাশক ব্যবহার ছাড়াই মানুষকে নিরাপদ আম উপহার দেওয়া যায় সেজন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার অতিরিক্ত কৃষি অফিসার মোঃ গুলজার রহমান বলেন, আমরা পাটনার প্রকল্পের আওতায় ৪ টি প্রদর্শনী পেয়েছি তার মধ্যে এটি একটি। তিনি এই যৌথ উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, ৪নং বড় পলাশবাড়ী গ্রামে তিন বিঘা জমির এই বাগানটি এই অঞ্চলের জন্য একটি মডেল। কৃষক খাদেমুল যেভাবে GAP গাইডলাইন এবং ফ্রুট ব্যাগিং প্রযুক্তি নিখুঁতভাবে বাস্তবায়ন করেছেন, তা সত্যি প্রশংসনীয়। আমাদের পক্ষ থেকে তাকে সব ধরনের কারিগরি সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। তাকে নেট,ব্যাগসহ সকল উপকরণ বালিয়াডাঙ্গী কৃষি অফিস থেকে সরবরাহ করা হয়েছে। এই ধরনের নিরাপদ আম বাগানের সংখ্যা যত বাড়বে,আমাদের দেশের মানুষ তত বিষমুক্ত ফল খেতে পারবে এবং আম রপ্তানি দেশের গন্ডি পেড়িয়ে বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, এই প্রকল্পের আওতায় এখানে একটি স্কুল পরিচালিত হচ্ছে যেখানে হাতে কলমে শিক্ষা দেওয়া হয় কিভাবে বিষ মুক্ত নিরাপদ আম চাষ করা যায়।
এই আধুনিক কৃষি বিপ্লব দেখে বালিয়াডাঙ্গী ও আশেপাশের অনেক বেকার যুবক এবং সাধারণ চাষিরা এখন উত্তম কৃষি চর্চায় নিরাপদ আম চাষে আগ্রহ প্রকাশ করছেন।
আশা করা যায় অদূর ভবিষ্যতে এরকম উদ্দোগ অব্যহত থাকলে মানুষ নিরাপদ আম উৎপাদন ও গ্রহন করতে পারবে এমনটাই প্রত্যাশা সাধারণ মানুষের।