রুহুল আমিন,ব্যুরো প্রধান,মানিকগঞ্জ।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় লাভের পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের পরপরই গঠিত হবে নতুন মন্ত্রিসভা। এরই মধ্যে সম্ভাব্য মন্ত্রীদের নাম নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে আলোচনা।
এই প্রেক্ষাপটে মানিকগঞ্জ-২ আসনে বিপুল ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মঈনুল ইসলাম খান শান্তকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন দক্ষিণ মানিকগঞ্জবাসী। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা, কর্মী ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন সভা-সমাবেশে এ দাবি তুলে ধরছেন।
নির্বাচনে শান্ত তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের খেলাফত মজলিস–সমর্থিত প্রার্থীকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন। দীর্ঘ ১৭ বছর পর এই আসনটি পুনরুদ্ধার করে বিএনপি। ফলে এলাকায় দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে।
মঈনুল ইসলাম খান শান্ত জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সক্রিয় একজন নেতা হিসেবে পরিচিত। তিনি প্রয়াত শিল্পমন্ত্রী শামসুল ইসলাম খান নয়া মিয়া–এর সন্তান। স্থানীয়দের মতে, তাঁর বাবার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা রক্ষায় শান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন।
দলীয় সূত্র জানায়, নতুন মন্ত্রিসভা গঠনে নবীন-প্রবীণের সমন্বয়, জনপ্রিয়তা, ত্যাগ ও গ্রহণযোগ্যতাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সেই বিবেচনায় শান্তের নাম আলোচনায় রয়েছে বলে জানা গেছে।
সাবেক ছাত্রনেতা ইকবাল হোসেন শামীম বলেন, “দক্ষিণ মানিকগঞ্জবাসী ভোটের মাধ্যমে শান্তের প্রতি তাদের আস্থা প্রকাশ করেছে। আমরা আশা করি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন।”
সিংগাইর সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দেওয়ান জাহিনুর রহমান সৌরভ বলেন, “শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে শান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন। তাঁকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হলে মানিকগঞ্জসহ সারাদেশ উপকৃত হবে।”
এদিকে স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দও শান্তকে মন্ত্রিসভায় দেখতে চেয়ে বিবৃতি দিয়েছেন। দক্ষিণ মানিকগঞ্জবাসীর প্রত্যাশা—তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধি জাতীয় পর্যায়ে দায়িত্ব পেলে এলাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে।