টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কারিগরি শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং ডিপ্লোমা গ্রাজুয়েটদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে (২৮ জানুয়ারী ২০২৬) সকালে রাজশাহী মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে দিনব্যাপী ‘জব ফেয়ার ও সেমিনার’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন ‘অ্যাকসেলারেটিং অ্যান্ড স্ট্রেন্থেনিং স্কিলস ফর ইকোনমিক ট্রান্সফরমেশন’ (ASSET) প্রকল্পের আর্থিক সহযোগিতায় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সকালে রঙিন বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) ড. এ.এন.এম বজলুর রশিদ।
উদ্বোধন শেষে তিনি মেলায় অংশগ্রহণকারী স্টলগুলো পরিদর্শন করেন। মেলায় দেশের ২১টি খ্যাতনামা শিল্প প্রতিষ্ঠান প্রায় ৬০টি শূন্য পদের বিপরীতে জনবল নিয়োগের লক্ষ্যে অংশগ্রহণ করে।
দিনব্যাপী এই আয়োজনে প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন ও বর্তমান ছাত্রীসহ প্রায় ৪৫০ জনের উপস্থিতিতে ক্যাম্পাস মুখরিত হয়ে ওঠে। এর মধ্যে প্রায় ২৫০ জন চাকুরিপ্রত্যাশী সরাসরি তাদের জীবনবৃত্তান্ত (CV) জমা দেন।
বেলা ১১:৩০ মিনিটে ইনস্টিটিউটের প্লেসমেন্ট হলে ‘Diploma Graduate Employability and Industry Demand’ শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইলেকট্রনিক্স টেকনোলজির ইনস্ট্রাক্টর ও জব প্লেসমেন্ট সেল কর্মকর্তা জনাব এস এম তাহমিদ সাদিক। তিনি শিল্প-কারখানা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যকার দূরত্ব কমিয়ে কীভাবে কারিগরি শিক্ষার মানোন্নয়ন করা যায়, তার ওপর আলোকপাত করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার ড. এ.এন.এম বজলুর রশিদ বলেন, দেশের শ্রমবাজারে দক্ষ জনশক্তির অভাব মেটাতে কারিগরি শিক্ষার বিকল্প নেই। শিল্প ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এই মেলবন্ধন দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
শিল্পকারখানা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সর্ম্পক উন্নয়নে রাজশাহী মহিলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট কর্তৃক আয়োজিত জব ফেয়ার ও সেমিনারটি খুবই সময়োপযোগী। জব ফেয়ারের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি শিণ্প প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্পোর্কন্নয়নে গুরুত্ব প্রদান করার আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রকৌ. মোহাম্মদ মুক্তার হোসেন আগত শিল্পোদ্যোক্তাদের ধন্যবাদ জানান এবং ভবিষ্যতে এই সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন উপাধ্যক্ষ প্রকৌ. মোঃ আব্দুর রশিদ। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ফুড টেকনোলজির ইনস্ট্রাক্টর জান্নাতুল ফেরদৌস মৌ।
মেলা চলাকালীন রাজশাহীর স্থানীয় আইটি প্রতিষ্ঠান ‘মেটরয়েল আইটি’ একজন প্রার্থীকে তাৎক্ষণিকভাবে যোগ্য বিবেচিত করে নিয়োগপত্র প্রদান করে।অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলো জমা পড়া জীবনবৃত্তান্ত যাচাই-বাছাই করে দ্রুত ফলাফল জানানোর প্রতিশ্রুতি দেয়।
অনুষ্ঠানটি সফলভাবে আয়োজনে সমন্বয়কারীর ভূমিকা পালন করেন ইলেকট্রনিক্স টেকনোলজির ইনস্ট্রাক্টর ও অ্যাসেট প্রকল্পের ফোকাল পারসন প্রকৌ. মনোজিত সরকার।
সমাপনী অধিবেশনে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের প্রতিনিধিদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।