নিজস্ব প্রতিবেদক : বগুড়া শহরের মাটিডালি এলাকায় অবস্থিত একাধিক আবাসিক হোটেল ও মদের বারকে কেন্দ্র করে অবৈধ ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন পেইজে বিভ্রান্তিকর ও প্রলোভনমূলক বিজ্ঞাপন প্রচার করে পরিকল্পিতভাবে যুবসমাজকে আকৃষ্ট করা হচ্ছে, যা প্রচলিত আইন ও সামাজিক শালীনতার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।
অভিযোগ অনুযায়ী, এসব অনলাইন পেইজে নারীদের ছবি ব্যবহার করে একাধিক মোবাইল নম্বর প্রকাশ করা হচ্ছে। উক্ত নম্বরগুলোর মধ্যে সংশ্লিষ্ট হোটেলের পরিচালক ও ম্যানেজারের নম্বরের পাশাপাশি দেহব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের যোগাযোগ নম্বরও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে জানা গেছে। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, দণ্ডবিধি এবং প্রচলিত ফৌজদারি আইনের সরাসরি লঙ্ঘন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উল্লিখিত আবাসিক হোটেলগুলোতে দীর্ঘদিন ধরেই অর্থের বিনিময়ে অনৈতিক কার্যকলাপ সংঘটিত হচ্ছে। যদিও মাঝে মধ্যে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান পরিচালনা করা হয়, তবে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে পুনরায় একই অবৈধ কর্মকাণ্ড শুরু হওয়ায় অভিযানের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সচেতন মহল।
আরও অভিযোগ রয়েছে, এসব আবাসিক হোটেল ও মদের বারে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের যাতায়াত আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। এতে করে তরুণ সমাজের নৈতিক অবক্ষয়ের পাশাপাশি শিক্ষাজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিক ও অভিভাবকরা।
উদ্বেগজনক বিষয় হলো—এই আবাসিক হোটেল ও মদের বারগুলোর আশপাশে একাধিক স্কুল, কলেজ, মসজিদ ও মাদ্রাসা অবস্থিত। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনার নিকটবর্তী এলাকায় এ ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হওয়াকে জনশৃঙ্খলা, সামাজিক নিরাপত্তা ও নৈতিক পরিবেশের জন্য চরম হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছেন এলাকাবাসী।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, এভাবে অনিয়ন্ত্রিতভাবে আবাসিক হোটেল ও মদের বার পরিচালিত হতে থাকলে এলাকার সামাজিক পরিবেশ স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। পড়াশোনার উদ্দেশ্যে এ এলাকায় যাতায়াতকারী ভদ্র ও সম্ভ্রান্ত পরিবারের ছেলে-মেয়েরাও নানা ধরনের ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে। ফলে সন্তানদের নিরাপদ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে অভিভাবকরা চরম উদ্বেগ ও দুর্ভোগের মুখে পড়ছেন।
এমন প্রেক্ষাপটে সচেতন নাগরিকরা সংশ্লিষ্ট আবাসিক হোটেল ও মদের বারগুলোর বিরুদ্ধে নিয়মিত, কঠোর ও টেকসই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি স্থায়ীভাবে সিলগালা করার জোর দাবি জানিয়েছেন। তারা অবিলম্বে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, সমাজ, আইনশৃঙ্খলা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অবৈধ ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আপসহীন ব্যবস্থা গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।