নিজস্ব প্রতিবেদক: বগুড়ায় নিজেকে সদর থানার এডিসি পরিচয় দিয়ে এক নারীকে ভয়ভীতি ও মামলার হুমকি দিয়ে বিকাশে অর্থ আদায়ের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এক অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ব্যক্তি মোছা: আলেয়া আক্তার আলো নামের এক নারীর কাছ থেকে কৌশলে ১২ হাজার টাকা হাতিয়ে নেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগী নারীর ভাষ্যমতে, অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রথমে নিজেকে বগুড়া সদর থানার এডিসি হিসেবে পরিচয় দেন। একপর্যায়ে তিনি সদর থানার ওসি, স্টেডিয়াম ফাঁড়ির আইসি ও এসআই জাহাঙ্গীরের নাম জড়িয়ে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেন।
অভিযুক্ত ব্যক্তি যোগাযোগের জন্য নিজের পার্সোনাল নাম্বার হিসেবে ০১৭১১-১২৬৭০৯ এবং সরকারি নাম্বার হিসেবে ০১৩২০-৭৪০১৮২ ব্যবহার করেন বলে জানান ভুক্তভোগী। গত ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ ইং তারিখ রাত্রি ৯টা ৩৭ মিনিটে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ০১৮১১-৫৩৭৭৫৬ নম্বরে বিকাশের মাধ্যমে ১২ হাজার টাকা গ্রহণ করা হয়, যার বিকাশ ট্রানজেকশন আইডি: CLV0MUJMAW।
ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি তাকে বলেন—‘সাবু’ নামের এক ব্যক্তি নাকি তার বিরুদ্ধে মামলা করতে এসেছিল এবং মামলাটি নেওয়ার জন্য সে ১১ হাজার টাকা দিয়েছে। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই ‘সাবু’কে কনফারেন্সে রেখে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং বিভিন্নভাবে মামলা আপোষের প্রস্তাব দেন।
এসময় তিনি আরও দাবি করেন, স্টেডিয়াম ফাঁড়ির আইসি ও এসআই জাহাঙ্গীর নাকি ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে সাবুকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে এবং তিনি নিজেই সবকিছু “ম্যানেজ” করবেন বলে আশ্বাস দেন। ভুক্তভোগীকে বলা হয়, তিনি যদি ১২ হাজার টাকা দেন, তাহলে সাবুর মামলা নেওয়া হবে না।
অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তি সাংবাদিক, ওসি, আইসি ও এসআই—সবাই নাকি সাবুর পক্ষে—এমন বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়ে নিজেকে একমাত্র “সহযোগী” হিসেবে উপস্থাপন করেন। এমনকি সাংবাদিক আরিফের সঙ্গেও কথা হয়েছে বলে মিথ্যা দাবি করেন।
ঘটনার একপর্যায়ে ভুক্তভোগী নারী বিকাশে দেওয়া টাকার স্ক্রিনশট পাঠালে অভিযুক্ত ব্যক্তি হঠাৎ টাকা ফেরত দেওয়ার প্রস্তাব দেন এবং বলেন—তিনি আর এ ঘটনায় জড়িত নন। কোন নম্বরে টাকা ফেরত দিতে হবে, সেটিও জানতে চান তিনি। তবে পরে আর যোগাযোগ রাখেননি।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, সাবুকে ফাঁসানোর অজুহাতে অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই নারীর কাছে একটি অশালীন ছবি চাইলে তিনি বিষয়টি বুঝতে পারেন এবং প্রতারণার বিষয়টি স্পষ্ট হয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারীর কাছ থেকে টাকা নেওয়ার ডিজিটাল প্রমাণ ও ফেরত দেওয়ার প্রস্তাবের কল রেকর্ড থাকলেও, অভিযুক্ত ব্যক্তির দাবি করা অপর পক্ষের (সাবু) কাছ থেকে ১১ হাজার টাকা নেওয়ার কোনো প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীরা অভিযুক্ত ব্যক্তির সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় মহলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসন এই গুরুতর প্রতারণার অভিযোগে কী পদক্ষেপ নেয়।