বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা উপজেলাসহ ও কয়েকটি ইউনিয়নের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। এতে স্থানীয় তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে নানান গুঞ্জন শুরু হয়েছে। তারা দাবি করেন, যাঁরা এই নতুন কমিটিতে যুক্ত হয়েছেন তারা অনেকেই বিতর্কিত নেতা। এই বিতর্কিত নেতারা বিগত সরকারের আমলে আতত করে সরকারি বন্দবস্ত খাস জমি জোরপূর্বক দখল, বিভিন্ন লঞ্চ ও খেয়া ঘাট দখল, জেলেদের মাছ ধরার চর দখল এবং বিভিন্ন অতর্কিত সন্ত্রাসী হামলার সাথে জড়িত ছিলেন। এই বিতর্কিত নেতাকর্মীরা বর্তমানের এমপি ও প্রতিমন্ত্রীর নাম ব্যবহার করে এবং আর্থিক লেনদেন করে বড় বড় পদ পদবি দখল করেন। তারা আরও বলেন, এই কমিটিতে গুটি কয়েক তৃণমূল নেতা কর্মী রাখলেও তারা অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেন এবং দুঃখ করে বলেন, আমাদেরকে শুধু নামে মাত্র কমিটিতে রাখা হয়েছে।
তৃণমূল আরেক নেতাকর্মী জানান, যদি গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলা এবং ইউনিয়ন গুলো এই বিতর্কিত নেতা কর্মী দিয়ে কমিটি চালিয়ে নেওয়া হয় তা হলে ভবিষ্যতে বিএনপি বড় ধরনের হুমকির মুখে পরবে।
এক ভুক্তভোগী জানান, বিগত সরকারের আমলে এই বিতর্কিত নেতাকর্মীরা সরকার দলের সাথে এবং প্রশাসনের সাথে আতত করে আমার মত অনেক ভূমিহীন কৃষকের জমি জোরপূর্বক দখল করেন।
তিনি আরও বলেন, এই বিতর্কিত নেতাকর্মীর কবলে পড়ে অনেক নিরপেক্ষ মানুষ শিকার হয়েছে সন্ত্রাসী হামলার, অসহায় ভূমিহীন কৃষক হারাতে হয়েছে আবাদি ও সরকারের বন্দবস্ত খাস জমি, অসহায় জেলের হারাতে হয়েছে নদী ও চর থেকে মাছ ধরার স্বাধীনতা।
স্থানীয়রা জানান, আমরা এই সুযোগ বাদী বিতর্কিত নেতাকর্মীর হাতে জুলুম, অত্যাচার, সন্ত্রাসী কার্যকলাপ ও হামলার শিকার হতে চাইনা।
সরেজমিনে আমাদের প্রতিনিধি এই বিতর্কিত নেতাকর্মীর কাছ থেকে গলাচিপা উপজেলা ও ইউনিয়ন গুলো কি করা হলে শান্ত থাকবে জানতে চাইলে
তৃণমূল এক নেতাকর্মী জানান, আমাদের পটুয়াখালী-৩ আসনের গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলার বর্তমান অবিভাবক বিচক্ষণ নেতা সাবেক ভিপি ও গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর সে এলাকার সন্তান। সে জানে কে বা কাহারা বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে এই বিতর্কিত নেতাকর্মীরা কে কি করেছে। এমনকি নুরুল হক নুর ছাত্রনেতার সময় বিভিন্ন পর্যায়ে এই বিতর্কিত নেতাকর্মীরা ব্যবহার করার চেষ্টা চালিয়েছিল। নুরুল হক নুরকে বিতর্কিত করে এই নেতারা টেন্ডার ও দখল বাজির ফয়দা হাসিল করেছিলো।
গলাচিপা উপজেলা সহ ইউনিয়ন গুলোর কমিটি সম্পর্কে জানতে চাইলে পটুয়াখালী জেলা কমিটির দায়িত্ব প্রাপ্ত এক নেতা জানান, আমরা গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলার কমিটি বিষয় মোটামুটি অবগত আছি। কিন্তু ইউনিয়ন কমিটি সম্পর্কে আমরা অবগত না। তিনি আরও বলেন, আমরা এ বিষয় খোঁজ খবর নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থ নেওয়া হবে এবং যাঁরা উপজেলা কমিটিতে বিতর্কিত নেতা হিসাবে পরিচিত তাদের জন্যও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও ভূমি দখল কারিকে কমিটি থেকে বাতিল করা হবে ইনশাআল্লাহ।