শিরোনাম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তরুণ সাংবাদিকের নির্মম হত্যা: বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাব (B.C.P.C)-এর তীব্র নিন্দা ও হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি। রিয়াদে প্রবাসী বগুড়া জেলা বিএনপির ঈদ পূর্ণমিলন ও ঐতিহ্যবাহী আলু ঘাটির ভোজন মেলা অনুষ্ঠিত; ধরুন্দ ও ইউনুছপুরের ফসল রক্ষাবাঁধ নির্মানে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ, বাঁশখালীতে বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের ঈদ পুনর্মিলনী ও দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত, শান্তিগঞ্জে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা: ঈদের আনন্দ মাটি, প্রাণ গেল দুই বন্ধুর ঈদের আনন্দে নানার বাড়ির পথে, মাঝনদীতে ঝরে গেল শিশু সুফিয়ার প্রাণ, তাহিরপুরে খেয়া নৌকা ডুবি—অতিরিক্ত যাত্রী বহনের অভিযোগ, এলাকায় শোকের মাতম, বগুড়ায় সাংবাদিকের বাড়িতে সন্ত্রাসী হামলা: ঢাকা প্রেসক্লাবের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ। খুলনার ডুমুরিয়ায় ঈদের নামাজকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, লাঞ্ছনার অভিযোগে প্রতিবাদ মিছিল ও পথসভা; বদলগাছীর মিঠাপুর ইউনিয়ন বাসীকে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ ফিরোজ হোসেন তাহিরপুর সীমান্তে অবৈধভাবে অনুপ্রবেশের দায়ে ৩ বাংলাদেশিকে আটক করেছে বিজিবি,
বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬, ০৭:২৩ পূর্বাহ্ন

খাল খননের মাধ্যমে চট্টগ্রামকে জলাবদ্ধতা মুক্ত করা হবে: মেয়র ডা. শাহাদাত

জিয়াউল ইসলাম জিয়া বার্তা সম্পাদক / ৭০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট : বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম মহানগরীর দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে খাল খনন কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রবর্তিত খাল খনন কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় নগরীর প্রাকৃতিক জলপ্রবাহ পুনরুদ্ধার করে জলাবদ্ধতা মুক্ত চট্টগ্রাম গড়ে তোলাই বর্তমান উদ্যোগের মূল লক্ষ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বুধবার নগরীর খুলশী লেকসিটি আবাসিক এলাকার কৈবল্যধামের পেছনে কালির ছড়া খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধনকালে মেয়র এসব কথা বলেন। তিনি জানান, নগরীর খালগুলো দখল, ভরাট ও অপরিকল্পিত স্থাপনার কারণে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে দখলমুক্তকরণ ও নিয়মিত খনন—এই দুইটি কাজ একসঙ্গে চালানো হচ্ছে।

নগরীর জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, চট্টগ্রাম শহরের অন্যতম প্রধান সমস্যা এখন জলাবদ্ধতা।

বর্ষা মৌসুম এলেই ফরিদার পাড়া, বহদ্দারহাট, চান্দগাঁও, বাকলিয়া, মুরাদপুরসহ বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। এই সমস্যা সমাধানে সিটি কর্পোরেশন খাল পুনরুদ্ধার, নালা পরিষ্কার এবং পানি প্রবাহের পথ উন্মুক্ত রাখতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

“প্রাকৃতিক খালগুলোই ছিল চট্টগ্রামের পানি নিষ্কাশনের প্রধান মাধ্যম। সেগুলো পুনরুদ্ধার করা গেলে অল্প সময়ে জলাবদ্ধতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে। কালির ছড়া খাল খনন তারই একটি অংশ। পর্যায়ক্রমে নগরীর সব গুরুত্বপূর্ণ খাল পরিষ্কার ও খনন করা হবে।”

তিনি জানান, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) বর্তমানে নগরীর ৩৬টি খালে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং অবশিষ্ট ২১টি খাল পরিষ্কার ও খননের দায়িত্ব চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন গ্রহণ করবে। তবে শুধু খাল খনন করলেই হবে না—খাল রক্ষা, দখলমুক্ত রাখা এবং বর্জ্যমুক্ত রাখতে নাগরিকদের সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

খাল দখলকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে কেউ যাতে খাল ভরাট বা দখল করতে না পারে সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। মেয়র নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, খাল ও নালায় পলিথিন, প্লাস্টিক এবং অন্যান্য আবর্জনা ফেলা বন্ধ করতে হবে। এসব বর্জ্যই জলাবদ্ধতার অন্যতম প্রধান কারণ। পলিথিনের কারণে অনেক স্থানে খালের পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, যা নগরবাসীর দুর্ভোগ বাড়িয়ে তুলছে।

দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করতে জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচির বিকল্প নেই মন্তব্য করে মেয়র বলেন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল খনন একটি কার্যকর ও সময়োপযোগী উদ্যোগ। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান গ্রামবাংলার কৃষি উন্নয়ন ও খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ব্যাপক খাল খনন কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন।

তার সেই দূরদর্শী উদ্যোগের ফলে এক সময় বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতার পথে এগিয়ে গিয়েছিল। বর্তমান বাস্তবতায় খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং কৃষি খাতকে আরও শক্তিশালী করতে সেই ঐতিহাসিক কর্মসূচি পুনরায় কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা জরুরি।

তিনি আরও বলেন, খাল খননের মাধ্যমে একদিকে যেমন কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি সম্ভব, অন্যদিকে নগর ও গ্রামীণ এলাকায় জলাবদ্ধতা হ্রাস, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং পানি সংরক্ষণ কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনের এই সময়ে পানিসম্পদের সঠিক ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী, ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা শরফুল ইসলাম মাহি, উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব শর্মা, মেয়রের জলাবদ্ধতা নিরসন বিষয়ক উপদেষ্টা শাহরিয়ার খালেদ, নির্বাহী প্রকৌশলী আনু মিয়া, আবু তাহের, সিটি কর্পোরেশনের অন্যান্য কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় এলাকাবাসী।

ক্যাপশন- কালির ছড়া খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এই বিভাগের আরও খবর