
“নতুন ধানে, নতুন প্রাণে, চলো মাতি পিঠার ঘ্রাণে”-এই শ্লোগান নিয়ে- ঐতিহ্যবাহী সুনামখ্যাত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান “সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজ” এর বর্ণিল আয়োজনে- শীতকালীন বাৎসরিক পিঠা উৎসব-২০২৬খ্রি. অনুষ্ঠিত হয়।
সোমবার (২ফেব্রুয়ারি-২০২৬খ্রি.) সকালে সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজ ক্যাম্পাস চত্বরে ঐতিহ্যবাহী গ্রাম-বাংলার সংস্কৃতি ও শীতের আমেজকে ধারণ করে দিনব্যাপী এই পিঠা উৎসব- সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজে’র শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক ও বাৎসরিক পিঠা উৎসব আয়োজক কমিটি- ২০২৬ খ্রি. এর আহ্বায়ক প্রফেসর ফেরদৌসী আরা’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সিরাজগঞ্জ সরকারি কলেজে’র সুযোগ্য অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ মহীদুল হাসান এসময়ে তিনি বলেন, বর্তমান প্রজন্মের কাছে গ্রাম-বাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি তুলে ধরতেই এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পিঠা আমাদের সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ।
শিক্ষার্থীদের মাঝে শেকড়ের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করতে এমন উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আমি আশাবাদী।তিনি আরও বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের সাংস্কৃতিক আয়োজন শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ হুমায়ূন খালিদ, বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও অন্যান্য শিক্ষকমন্ডলী।
কলেজের ১৭’টি বিভাগ ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানসহ ২১’টি স্টল পিঠা উৎসবে অংশগ্রহণ করে। অনুষ্ঠানে সকাল থেকেই ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষকদের অংশগ্রহণে মুখরিত হয়ে উঠে। সকাল সাড়ে নয়টায় প্রধান অতিথি উক্ত উৎসবের উদ্বোধন করেন। তেলের পিঠা, ভাপা পিঠা, দুধ পুলি, পাটি সাপটা, কুসুলি পিঠা, ফুল পিঠাসহ প্রায় ৫০ প্রকারের পিঠা অনুষ্ঠানে স্থান পায়।
বর্ণাঢ্য সাজে সজ্জিত হয় অনুষ্ঠান প্রাঙ্গন। প্রতিটি স্টল ভিন্ন ভিন্ন সাজে সজ্জিত ছিলো। দিনব্যাপী আয়োজিত এ পিঠা উৎসবে বিভিন্ন স্টলে সাজানো হয় গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী ভাপা পিঠা চিতই পিঠা, পাটিসাপটা, দুধচিতইসহ নানা ধরনের দেশি পিঠা। শিক্ষার্থী ও অতিথিদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে উৎসবটি পরিণত হয় এক আনন্দঘন মিলনমেলায়।
এছাড়াও কলেজের ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষকদের মনোমুগ্ধকর সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে উৎসবটি আরও প্রাণবন্ত হয় উঠে। বিকাল ৪টা পর্যন্ত অনুষ্ঠানটি চলে। পিঠার কোয়ালিটি, স্টলের সৌন্দর্য, পরিবেশনাসহ পাঁচটি ক্যাটাগরিতে বিচারকরা প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয়স্থান নির্ধারণ করেন। দর্শন বিভাগ ও হিসাব বিজ্ঞান বিভাগ যৌথভাবে প্রথম স্থান অধিকার করে, রসায়ন বিভাগ ও পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগ যৌথভাবে দ্বিতীয় স্থান ও ইংরেজি বিভাগ, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ ও ইতিহাস বিভাগ যৌথভাবে তৃতীয় স্থান অধিকার করে।
অনুষ্ঠান শেষে প্রতিটি বিভাগকে অংশগ্রহণের জন্য সম্মাননা স্মারক তুলে দেন প্রধান অতিথি। এছাড়া বিজয়ী বিভাগ গুলোর মধ্যে বিজয়ী ক্রেস্ট তুলে দেন প্রধান অতিথি। সমাপনী অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রভাষক ও ধারাভাষ্যকার মোঃ আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ। এসময়ে কলেজের ছাত্রদল, ছাত্রশিবির এর নেতৃবৃন্দ শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।