
যারা ভোট ডাকাতির বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়েছিলো, তারাসহ অনেক মানুষ নির্যাতিত হয়েছিলো। তাদের জবাব দেওয়ার সময় এসেছে। পাশাপাশি যারা জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন তাদের ‘গুপ্ত’ বলে আখ্যায়িত করেছেন— সিরাজগঞ্জে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, যারা ভোট ডাকাতির বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়েছিলো, তারাসহ অনেক মানুষ নির্যাতিত হয়েছিলো। তাদের জবাব দেওয়ার সময় এসেছে। পাশাপাশি যারা জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন তাদের ‘গুপ্ত’ বলে আখ্যায়িত করেছেন তিনি।

শনিবার (৩১জানুয়ারি) বিকেলে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কালিয়াহরিপুর ইউনিয়নে পাইকপাড়া বিসিক শিল্প নগরীতে এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, আমরা শান্তিতে বিশ্বাস করি। সব ধর্মের মানুষকে নিয়ে শান্তিতে বসবাস করতে চাই। মানুষকে মানুষ হিসেবে মূল্যায়ন করতে হবে। জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক শাসন ব্যবস্থা করতে পারলেই এটা সম্ভব। দেশ গড়তে হবে সবাইকে নিয়ে। এজন্য সবাইকে এক সঙ্গে কাজ করতে হবে।
উত্তরাঞ্চলকে কৃষি নির্ভর অঞ্চল হিসেবে গড়তে চাই উল্লেখ করে তিনি বলেন, সিরাজগঞ্জ ও পাবনায় কৃষিসহ বিভিন্ন কল-কারখানা আছে। নতুন নতুন শিল্প পার্ক স্থাপনের মাধ্যমে তরুণদের ভাগ্য উন্নয়নে করতে হবে। এই দুই জেলার তাঁত পণ্য সারাবিশ্বে ছড়িয়ে দিতে চাই।
নারীদের স্বাবলম্বী করার কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, আগামীতে বিএনপি সরকারে গেলে মায়েদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে চায়। এ কারণে বিএনপি ফ্যামিলি কার্ড করে দেবে। আমরা কৃষকদেরও কার্ড করে দিতে চাই।
এসময় ধানের শীষে ভোট দিয়ে দেশ গঠনে সবাইকে পাশে থাকার আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, ইমাম/খতিব-মুয়াজ্জিনসহ সব ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের পাশে থাকতে চায় বিএনপি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে মানুষ এখন দেখতে চায়-কোন রাজনৈতিক দল দেশের জন্য ভালো কাজ কি করতে চায়। তারা আর নীতিকথায় বিশ্বাসী নয়। সেই বিশ্বাসকে মূল্যায়ন করতে হবে। বাংলাদেশের প্রত্যেকটি মানুষ নিরাপদে থাকতে পারে- এটাই আমাদের শপথ উল্লেখ বিএনপি’র এই শীর্ষ নেতা বলেন, সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে, কেউ আর ষড়যন্ত্র করে জুলাই-আগস্ট এর চেতনাকে ছিনিয়ে নিতে না পারে।
এই মুহুর্তে বিএনপি একমাত্র রাজনৈতিক দল, যাদের অভিজ্ঞতা আছে দেশ এগিয়ে নেওয়ার, আর কোনো দল নেই, যোগ করেন তিনি।
আমরা মানুষের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই উল্লেখ করে তিনি বলেন, কথা একটাই কাজ একটাই, করবো কাজ গড় দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ। জবাবদিহিতামূলক সরকার প্রতিষ্ঠা করতে গেলে মানুষের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
তারেক রহমান বলেন, একটি গোষ্ঠী আপনাদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করবে। যারা এসে আপনাদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করবে, দেখামাত্র তাদের বলবেন ‘গুপ্ত তোমরা’। যারা বিভ্রান্তিমূলক কথা ছড়াবে তাদের একটি নাম- তারা গুপ্ত। কারণ গত ১৬ বছর তাদেরকে আমরা দেখি নাই। তারা তাদের সাথেই মিশে ছিল, যারা ৫ তারিখে পালিয়ে গেছে।
সিরাজগঞ্জবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, আমরা যদি তাঁত বা লুঙ্গি’র কথা বলি, তাহলে চোখের সামনে ভেসে উঠে সিরাজগঞ্জ ও পাবনার এলাকা। এই এলাকার মানুষ তাঁতশিল্পের সাথে জড়িত। ক্ষমতায় গেলে সিরাজগঞ্জের তাঁতশিল্পের উৎপাদিত পণ্য সারাবিশ্বে ছড়িয়ে দিতে পারবো।জনসভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বীরমুক্তিযোদ্ধা ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুসহ সিরাজগঞ্জের পাঁচটি ও পাবনার পাঁচটি আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের হাতে ধানের শীষ প্রতীক তুলে দিয়ে ভোট চান তারেক রহমান।
সিরাজগঞ্জ জেলা বিএনপি’র সভাপতি রুমানা মাহমুদ এঁর সভাপতিত্বে এবং জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মোঃ সাইদুর রহমান বাচ্চু’র সঞ্চালনায় জনসভায় জেলা, উপজেলা, ইউনিয়নের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিন সিরাজগঞ্জের জনসভা শেষে বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে টাঙ্গাইলের পথে রওনা হন – তারেক রহমান। পরে সেখানে এক জনসভায় বক্তব্য রাখেন। টাঙ্গাইল সফরের মধ্যদিয়ে শেষ হয় তারা উত্তরাঞ্চল সফর। টাঙ্গাইলের জনসভা শেষে তিনি ঢাকার গুলশানে নিজ বাসভবনে ফিরবেন।