শেরপুরে বিএনপি ও জামায়াতের সংঘর্ষের ঘটনায় শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিম নিহত হয়েছেন। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দিবাগত রাত পৌনে ১০টায় ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে তিনি মারা যান।
এর আগে, বিকেলে ঝিনাইগাতী উপজেলা স্টেডিয়াম মাঠে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
উল্লেখ্য, ২৮ জানুয়ারি দুপুরে ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে নির্বাচনী ইশতেহার পাঠের আয়োজন করা হয় ঝিনাইগাতী মিনি স্টেডিয়ামে। সে অনুযায়ী সকাল থেকেই বিভিন্ন দলের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও তার লোকজন অনুষ্ঠান স্থলে আসনে। এরপর অনুষ্ঠানের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারি রিটার্নিং কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল যান। এসময় তিনিসহ প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা মঞ্চে বসেন। কিন্তু স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের কয়েকজন কর্মী-সমর্থক সমানের সারির চেয়ারে বসতে না পেরে হট্টগোল বাজান।
এরপর কথাকাটাটির এক পর্যায়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। এসময় মঞ্চের সামনে রাখা কয়েক’শ চেয়ার ভাঙচুর করে। এসময় উভয়পক্ষের অন্তত অর্ধশতাধিক আহত হন। একইসাথে বিক্ষুদ্ধ জনতা অনুষ্ঠানস্থলে থাকা কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে । পরে আশ পাশের লোকজন আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।
এঘটনার পর থেকে রাত পর্যন্ত থেমে থেমে চলে সংঘর্ষ। এদিকে, খবর পেয়ে পুলিশ, সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিমকে গুরুতর অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে পৌনে দশটার দিকে মারা যান।