সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা শাখার আহ্বায়ক মো. আব্দুস সালাম (৫০) ও তাঁর স্ত্রী–সন্তানের ওপর সশস্ত্র হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
ঘটনাটি ঘটে বুধবার (২৮ জানুয়ারি ২০২৬) সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে বিশ্বম্ভরপুর থানাধীন পলাশ ইউনিয়নের নতুনপাড়া গ্রামে তাঁর নিজ বসতবাড়িতে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় বদরুল (৩৫), নজরুল (৩০), মুন্না (২০), ফুলছুদা বেগম (৩৪) ও অজ্ঞাতনামা আরও ২–৩ জন ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে আব্দুস সালামের রেকর্ডীয় জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করে আসছিল। ঘটনার দিন জমিতে প্রবেশকে কেন্দ্র করে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
একপর্যায়ে ১নং অভিযুক্ত বদরুল তার সহযোগীদের উদ্দেশে “খুন করে লাশ পানিতে ভাসিয়ে দেওয়ার” হুমকি দেয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আব্দুস সালাম নিজ ঘরে আশ্রয় নিলেও অভিযুক্তরা জোরপূর্বক ঘরে ঢুকে তাঁর ওপর হামলা চালায়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, বদরুল ধারালো ছুরি দিয়ে আব্দুস সালামের থুতনির নিচে আঘাত করলে তিনি গুরুতরভাবে জখম হন। একই সময় অভিযুক্ত নজরুল কাঠের রুইল দিয়ে তাঁর কন্যা মোহনা আক্তারের মাথায় আঘাতের চেষ্টা করলে তিনি আত্মরক্ষার্থে হাত তুললে ডান হাতের কবজিতে হাড়ভাঙা জখম হয়। এ ছাড়া স্ত্রী আকলিমা আক্তারসহ পরিবারের অন্য সদস্যরাও হামলায় আহত হন।
চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে বিশ্বম্ভরপুর সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন।আহত আব্দুস সালাম বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি এনসিপি বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা শাখার সদস্য সচিব মোবারক হোসেনের মাধ্যমে বিশ্বম্ভরপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।অভিযোগে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে প্রাণনাশের হুমকি, বসতঘরে অনধিকার প্রবেশ, দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে। পাশাপাশি তিনি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বিশ্বম্ভরপুর থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,“একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”ঘটনার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।