নিজস্ব প্রতিবেদক: মোঃ জালাল উদ্দিন।
মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী শেখ নুরে আলম হামিদীর পক্ষে রিকশা প্রতীকে ভোট চেয়েছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির ও ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের শীর্ষ নেতা মাওলানা মামুনুল হক।
তিনি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার মাধ্যমে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। মামুনুল হক বলেন, দীর্ঘ ৫৪ বছরের শোষণ, বৈষম্য, দুর্নীতি ও আধিপত্যবাদী শক্তির কবল থেকে দেশকে মুক্ত করতেই জুলাই গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হয়েছিল। সেই আন্দোলনে বাংলার তরুণেরা বুক পেতে রাজপথে নেমে আত্মত্যাগ করেছেন আবু সাঈদের মতো অসংখ্য শহীদ।
তিনি বলেন, শহীদদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষার লিখিত দলিলই হলো ‘জুলাই সনদ’।
“এই সনদ বাস্তবায়ন ছাড়া শহীদদের আত্মত্যাগের পূর্ণ মর্যাদা নিশ্চিত হবে না। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়লাভ করলে গণঅভ্যুত্থান বিজয়ী হবে এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পথ সুগম হবে,”—বলেন তিনি। বৃহস্পতিবার (২৭ জানুয়ারি ২০২৬) রাত সাড়ে ১০টায় মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে মাঠে রিকশা প্রতীকের নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জনসভায় বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি দেখা যায়।
জনসভায় মামুনুল হক মৌলভীবাজার জেলার চারটি সংসদীয় আসনে ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য সমর্থিত প্রার্থীদের বিজয়ী করার আহ্বান জানান। তিনি মৌলভীবাজার-১ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের আমিনুল ইসলাম, মৌলভীবাজার-২ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের সাহেদ আলী, মৌলভীবাজার-৩ আসনে দেওয়াল ঘড়ি প্রতীকের আহমদ বিলাল এবং মৌলভীবাজার-৪ আসনে রিকশা প্রতীকের শেখ নুরে আলম হামিদীকে ভোট দেওয়ার জন্য ভোটারদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, “‘না’ ভোটের পক্ষে যারা প্রচার চালাবে, জনগণ বুঝে নেবে তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিপক্ষে এবং ফ্যাসিবাদের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, দেশের মানুষ এখন সচেতন। তারা আর শোষণ, লুটপাট, ভোট ডাকাতি ও দুঃশাসনের রাজনীতি দেখতে চায় না।
মামুনুল হক বলেন, দেশের প্রতিটি মানুষ পরিবর্তন চায়—দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও দলীয় দখলদারিত্বের অবসান চায়। পুরনো ব্যর্থ শাসনব্যবস্থায় জনগণ আর ফিরে যেতে চায় না।
“ইনসাফভিত্তিক, ন্যায়নিষ্ঠ ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে হলে ১১ দলীয় ঐক্য সমর্থিত প্রার্থীদের সংসদে পাঠাতে হবে,”—বলেন তিনি।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর যারা শাসনভার গ্রহণ করেছিল, তারা লুটপাট ও দুর্নীতির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের স্বপ্ন ভেঙে দিয়েছে। ফলে মানুষের ভাগ্যের প্রকৃত পরিবর্তন হয়নি।
এই ব্যর্থতার কারণেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তরুণরা জীবন উৎসর্গ করে দেশকে নতুন পথে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি অভিযোগ করেন, কিছু রাজনৈতিক দল দেশকে আবারও পুরনো শোষণ ও দুঃশাসনের পথে ফিরিয়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে। তবে জনগণ সচেতন থাকলে সেই ষড়যন্ত্র সফল হবে না বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি সতর্ক করে বলেন, “মানুষের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেলে দেশের বঞ্চিত ১৮ কোটি মানুষ আবারও অধিকার আদায়ে রুখে দাঁড়াবে।”
মামুনুল হক আরও বলেন, ফ্যাসিবাদ, আধিপত্যবাদী শক্তি কিংবা পেশিশক্তি দিয়ে জনগণের ভোট ছিনতাই করা যাবে না। তিনি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার পাশাপাশি প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ব্যালট সুরক্ষায় পাহারাদার বসানোর গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মৌলভীবাজার জেলা সভাপতি মুফতি হাবিবুর রহমান কাসিমীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় আরও বক্তব্য দেন বরুণা মাদ্রাসার ছদরে মুহতামিম সাইদুর রহমান বর্ণভী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমীর মাওলানা রেজাউল করিম জালালী, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা তাফাজ্জুল হক মিয়াজি, মৌলভীবাজার-৩ আসনে ১১ দলীয় ঐক্য মনোনীত প্রার্থী আহমদ বিলাল, শ্রীমঙ্গল উপজেলা সভাপতি মাওলানা আয়েত আলী, শেখবাড়ি জামিয়ার নির্বাহী মুহতামিম শেখ আফজল হামিদী বর্ণভী, রিকশা প্রতীকের প্রার্থীর প্রধান এজেন্ট রশিদ আহমদ হামিদী ও মাওলানা হাদি আলম হামিদী-সহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
এর আগে একই দিন সন্ধ্যার পর কমলগঞ্জ উপজেলায় অনুষ্ঠিত রিকশা প্রতীকের পৃথক নির্বাচনি জনসভায়ও প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। ওই জনসভাতেও বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।