আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে না পারার পর বিসিবি এখন তীব্র সংকটের মুখে। এই ব্যর্থতা এবং জনরোষ থেকে বাঁচতে বোর্ড “আমরা সাকিবকে জাতীয় দলে চাই” – এই পরিচিত আখ্যানটি সামনে নিয়ে এসেছে। আইসিসি বাংলাদেশকে সরিয়ে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে জায়গা দেওয়ার পর জনমনে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তা প্রশমিত করতেই সাকিবের নাম ব্যবহার করা হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
পুরোনো অভ্যাসের পুনরাবৃত্তি
বিসিবির সাবেক সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের আমলেও এমনটি দেখা যেত। তিনি প্রকাশ্যে সাকিবের সমালোচনা করে নিজের কর্তৃত্ব জাহির করতেন, কিন্তু গোপনে ক্রিকেটারদের ফোন করে বলতেন এগুলো স্রেফ মিডিয়াকে শান্ত করার জন্য বলা এবং তা ব্যক্তিগতভাবে না নিতে। সাকিবও এই ‘নাটকীয়তা’ বুঝতে পারতেন এবং তা মানিয়ে চলতেন।
রাজনৈতিক বাধা ও বিসিবির বর্তমান অবস্থান
নাজমুলের উত্তরসূরি ফারুক আহমেদও সাকিবকে ফেরানোর ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন, কিন্তু তিনি সিদ্ধান্তটি সরকারের ওপর ছেড়ে দিয়েছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে সাকিবের রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তাকে দলে ফেরানো সম্ভব হয়নি। বর্তমান বিসিবি মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন দাবি করেছেন, বোর্ড সর্বসম্মতভাবে সাকিবকে ফেরাতে আগ্রহী, তবে তাকে ফিটনেস ও সিলেকশন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আসতে হবে।
সাকিবের সংশয়
বোর্ডের এই আগ্রহ নিয়ে খোদ সাকিব আল হাসানই সন্দিহান। তিনি মনে করেন, বোর্ড তাকে আন্তরিকভাবে ফেরাতে চায় নাকি স্রেফ তার ‘স্টার ভ্যালু’ ব্যবহার করে কোনো স্টান্ট করতে চায়, তা নিশ্চিত নয়। তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন যে, তিনি মানুষের মন পড়তে পারেন না, তাই বোর্ডের আসল উদ্দেশ্য তাঁর কাছে অস্পষ্ট।
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের একটি সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, নতুন কোনো সরকার এলে সাকিবের ফেরার পথ সহজ হতে পারে। এদিকে আইসিসির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোনো প্রকার আইনি লড়াই বা সালিশিতে (Arbitration) না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি। মূলত একের পর এক ইস্যু তৈরি করে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকাই এখন বোর্ডের প্রধান কৌশলে পরিণত হয়েছে।