

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী'র আমীর ডাঃ শফিকুর রহমান বলেছেন আমরা ক্ষমতায় যাওয়ার সুযোগ পেলে- ইনশাআল্লাহ সবাইকে নিয়ে সরকার গঠন করবো। সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশকে আমরা এগিয়ে নিতে চাই। জাতি ধর্ম নির্বিশেষে সকলের প্রতি ইনসাফ কায়েম করা হবে। বিচার ব্যবস্থায় ইনসাফ কায়েম হলে দেশের উন্নতি ত্বরান্বিত হবে। আমরা স্বাস্থ্য খাতের উন্নতি করতে চাই।
আমরা ক্ষমতায় গেলে মানসম্মত স্বাস্থ্য নীতির মাধ্যমে জনস্বাস্থ্যের উন্নতি করবো।
সিরাজগঞ্জের যমুনা নদীর ভাঙ্গনে মানুষ প্রতি বছর সর্বশান্ত হয়। আমরা ক্ষমতায় গেলে যমুনা নদী খনন করবো। যমুনার বাঁধকে শক্তিশালী করবো। যমুনা নদী শাসনের মাধ্যমে সিরাজগঞ্জের উন্নতি করবো। সিরাজগঞ্জের দূগ্ধ উৎপাদন করে সরাসরি ঢাকায় না পাঠিয়ে সারা দেশের চাহিদা পূরণ করবো। তাঁত সমৃদ্ধ সিরাজগঞ্জ এর দুঃখ দুর্দশাগ্রস্থ শ্রমিকদের উন্নয়নে কাজ করবো।
আমরা ক্ষমতায় গেলে অনিয়ম দুর্নীতি চুরি, চাঁদাবাজিকে প্রশ্রয় দেবো না। কেউ চাঁদাবাজি করলে তাদের শিকড় উপড়ে ফেলবো। আমরা দুর্নীতি করবো না। কাউকে দুর্নীতি করতেও দেব না। আপনারা দুর্নীতিবাজদেরকে বয়কট করুন। এবারে নির্বাচনে আপনারা চাঁদাবাজদেরকে বয়কট করুন।
জামায়াতসহ দশ দলীয় জোট ক্ষমতায় গেলে নারীদেরকে ঘরে-বাইরে কর্মস্থলে সুরক্ষা দেবো। নারীদের উন্নয়নে কাজ করবো। যারা নারীদের নিয়ে মিথ্যা মায়াকান্না করেন, তারাই নারীদের ক্ষতি করে থাকেন।
তিনি আরো বলেন, জুলাই মেমোরেন্ডাম বাস্তবায়নে হ্যাঁ-এর পক্ষে ভোট দিন। হ্যাঁ-এর পক্ষে ভোট দিলে ওসমান হাদী হত্যার বিচার সম্ভব হবে। জুলাইয়ের শহিদদের বিচার করা যাবে। যারা 'না' ভোটের পক্ষে থাকবে তারা ভারতীয় আধিপাত্যের দালাল হিসেবে চিহ্নিত হবে। এবারের নির্বাচনে ভারতীয় আধিপত্যবাদীদের লাল কার্ড দেখাতে হবে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সিরাজগঞ্জ জেলা জামায়াত আয়োজিত ইসলামিয়া সরকারি কলেজ মাঠে বিশাল নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন। জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা শাহিনুর আলমের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী'র সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া সলঙ্গা) আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ পদপ্রার্থী মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান। সিরাজগঞ্জ-৩ (তাড়াশ ও রায়গঞ্জ) আসনের দশ দলীয় নির্বাচনী জোটের খেলাফত মজলিসের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মুফতি এনায়েতুল্লাহ আব্দুর রউফ ও সিরাজগঞ্জ-৫ (শাহজাদপুর) আসনের এনসিপি মনোনীত দশ দলীয় প্রার্থী এস.এম.সাইফ মুস্তাফিজ বক্তব্য রাখেন।
জনসভায় আরো বক্তব্যে রাখেন, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির এবং সিরাজগঞ্জ-৫ (বেলকুচি) আসনের জামায়াত মনোনীত সংসদ পদপ্রার্থী অধ্যক্ষ আলী আলম, সিরাজগঞ্জ- ২ (সদর ও কামারখন্দ) আসনের জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মওলানা মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম, জেলা জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারি অধ্যাপক মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম,
ছাত্র শিবিরের সিরাজগঞ্জ শহর শাখার সভাপতি শামীম রেজা ও জেলা শিবিরের সভাপতি আব্দুল আজিজ প্রমূখ। এবং সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন থানা ও পৌরসভা শাখা জামায়াত ইসলামী'র আমীরগণ বিশাল এ জনসভায় বক্তব্যে রাখেন।
বাংলাদেশ জামায়াতের আমীর ডাঃ শফিকুর রহমান আরো বলেন,
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সকাল ১০টা থেকেই সিরাজগঞ্জ সদর ও কামারখন্দ আসনের দলীয় বিভিন্ন ইউনিটের নেতা-কর্মীরা মিছিল সহকারে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে শ্লোগান দিতে দিতে জনসভাস্থলে পৌঁছান। দুপুর ২টার মধ্যেই জনসভাস্থল ইসলামিয়া সরকারি কলেজ মাঠ ও এর আশপাশের এলাকা লোকে লোকারণ্য হয়ে পড়ে। ইসলামিয়া সরকারি কলেজ ও মাল্টিলেটারাল উচ্চ বিদ্যালয়ের আন্ডার গ্রাউন্ড মাঠে মহিলাদের বসার ব্যবস্থা করা হয়। জোহরের নামাজের পরপরই মহিলাদের স্প্যান্ডেল কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। শহরের বিভিন্ন সড়কের বিভিন্ন মোড় ও পয়েন্টে মাইকের হর্ণ স্থাপন করা হয়। সেই পয়েন্ট গুলোতেও লোজজন দাঁড়িয়ে জনসভার বক্তব্য শুনতে দেখা যায়। জনসভার প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিগণ জনসভাস্থলে পৌঁছার আগেই জনসভাস্থল এবং আশপাশের এলাকা সহ শহরের বিভিন্ন সড়কে লোকজন দাঁড়িয়ে যায়।
দুপুর ঠিক ৩টার সময় জনসভার বিশেষ অতিথি কেন্দ্রীয় জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এসে পৌঁছান এবং বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান।
বলেন, যারা জুলাইকে অবহেলা করবেন তারা জনগণ কর্তৃক আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবেন। বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে রফিকুল ইসলাম খান বলেন, আপনাদের ক্ষমতা জনগণ দেখেছে। ক্ষমতার সময় আপনারা দুর্নীতিতে তিনবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিলেন। দূর্নীতি করে আপনারা খাম্বাসহ সব খাইছেন। সিরাজগঞ্জ সদর আসনে যিনি ধানের শীষের প্রার্থী হয়েছেন তার উদ্দেশ্যে রফিকুল ইসলাম খান বলেন, আপনিও দূর্নীতির দায়ে জেল খেটেছেন। নিজেকে রক্ষা করার জন্য আপনিও পালিয়েছিলেন। আবার সুযোগ বুঝে চলে এসেছেন। কিন্তু এবার আপনার সুযোগ হবেনা। সিরাজগঞ্জ সদর আসনে জনগণ এবার দাঁড়িপাল্লা বেছে নেবে ইনশাল্লাহ।
বিকাল ৩টা ৩৪ মিনিটের সময় প্রধান অতিথি জনসভার মঞ্চে পৌঁছান এবং বিকেল ৩টা ৪৩ মিনিটের সময় বক্তব্য শুরু করেন। বিকেল ৪টা ১২ মিনিটের সময় তিনি বক্তব্য শেষ করেন।
এরপর বাদ আছর আমিরে জামায়াত ডাক্তার শফিকুর রহমান সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া) আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাওলানা রফিকুল ইসলাম খানের পথসভায় যোগদান করেন।
বাংলা নিউজ মিডিয়া কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত
সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে WhatsApp & IMO 01886833283
সাথী সোহেল জনকল্যাণ ফাউন্ডেশন নগদ/বিকাশঃ ০১৩০২৪৪৭৩৭৩