শিরোনাম
শিক্ষার গুণগত মানে এগিয়ে কয়া গোলাহাট উচ্চ বিদ্যালয়, সৈয়দপুরে দৃষ্টান্ত স্থাপন চট্টগ্রাম ৮ আসনে বিএনপির প্রার্থী সমর্থনে উঠান বৈঠক স্থানীয় নেতারা নির্বাচনী কৌশল ও সমর্থন জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ জিয়ার পরিবারের আস্থাভাজন ও বানিয়াচং আজমিরীগঞ্জের আগামীর রূপকার আহমেদ আলী মুকিব বাঁশখালীতে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) ও তাজেদারে মদিনা সুন্নী কনফারেন্স সম্পন্ন বদলগাছীর চৌরাস্তার মোড়ে যৌথবাহিনীর অভিযানে( ৮০০ পিচ)ট্যাপেনটাডোলবড়ি সহ দুই যুবক আটক। “তারেক জিয়া পরিষদ-সিরাজগঞ্জ” এর উদ্যোগে- সিরাজগঞ্জ- (২)আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু’র পক্ষে নির্বাচনী মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত নোয়াখালী অপহরণ ও ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি রাব্বি হোসেন গ্রেপ্তার সিরাজগঞ্জে শীতকালীন ফসল গম, সরিষা পেঁয়াজ সহ বোরো ধানের বীজতলা পরিদর্শন করেন – যুগ্মসচিব আবু হেনা মোঃ মোস্তফা কামাল বাঘা পৌরসভায় বিভিন্ন এলাকায় দাড়িপাল্লার প্রার্থী অধ্যক্ষ নাজমুল হক সয়দাবাদ উচ্চ বিদ্যালয়ে ষষ্ঠশ্রেণীর প্রথম নবীন-বরণ নতুন ভর্তিকৃত ৩৬০জন শিক্ষার্থীকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন
বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬, ১২:৫৬ অপরাহ্ন

গণতন্ত্রের কঠিন পরীক্ষা : সংশয়, সংঘাত ও আস্থাহীনতার ছায়ায় ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন

জিয়াউল ইসলাম জিয়া বার্তা সম্পাদক / ৪০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট : রবিবার, ২৫ জানুয়ারী, ২০২৬

আওরঙ্গজেব কামালঃ

বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আর মাত্র দুই সপ্তাহ দূরে। কিন্তু নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসছে, ততটাই যেন অনুপস্থিত নির্বাচনী উৎসবের স্বাভাবিক উচ্ছ্বাস। কিছু অজানা আত্নঙ্ক। এবার পোষ্টার না থাকায় নির্বাচন বোঝ যাচ্ছে না বলে অনেকে মনে করছেন। যদিও প্রচারণার কিছু কিছু এলাকা মুখরিত, কিন্তু দেশজুড়ে বাড়ছে গুঞ্জন, প্রশ্ন ও শঙ্কা। নির্বাচন কি সত্যিই নির্ধারিত সময়েই হবে, নাকি শেষ মুহূর্তে দৃশ্যপটে আসবে নতুন কোনো অজানা মোড়—এই প্রশ্ন এখন কেবল রাজনৈতিক অঙ্গনেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি ছড়িয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন আলোচনায়।

একদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া তথ্য অপরদিকে নির্বাচনে অংশ গ্রহনকারী প্রার্থীদের নানাবিধ মন্তব্য জনমনে নানা প্রশ্ন দানা বেধেছে।একদিকে নির্বাচন সময়মতোই হবে—এমন আশ্বাস সরকারের পক্ষ থেকে। অন্যদিকে নির্বাচন পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা। এই দ্বিধার পেছনে রয়েছে একাধিক কারণ।

রাজনৈতিক নেতাদের কিছু দায়িত্বহীন বক্তব্য, আগ্রাসী ও উসকানিমূলক ভাষা, দেশি বিদেশি চক্রান্ত,নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন এবং প্রশাসনিক প্রস্তুতির দৃশ্যমান ঘাটতি—সব মিলিয়ে সংশয়ের জায়গাটি ক্রমেই বড় হচ্ছে। কেউ নির্বাচন কমিশনকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছেন, কেউ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, আবার কেউ রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক দোষারোপকে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার জন্য দায়ী করছেন।

কেউ দৃঢ়ভাবে বলছেন, নির্বাচন সময়মতোই হবে। আবার কেউ মনে করছেন, নানা অজুহাতে নির্বাচন পিছিয়ে দেওয়ার পথ তৈরি হচ্ছে। এই সংশয়ের বড় কারণ হিসেবে আলোচনায় আসছে কিছু রাজনৈতিক নেতার দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য, আগ্রাসী ভাষা এবং নির্বাচন পরিচালনা সংক্রান্ত বিতর্কিত মন্তব্য। কেউ দোষ দিচ্ছেন নির্বাচন কমিশনকে, কেউ প্রশাসনকে, আবার কেউ এক রাজনৈতিক দলকে আরেক দলের বিরুদ্ধে দাঁড় করিয়ে পরিস্থিতিকে আরও ঘোলাটে করে তুলছেন।

এর মধ্যেই সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে—এই নির্বাচন আদৌ সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হবে তো? বাংলাদেশের নির্বাচন ইতিহাস বলে, এ দেশে নির্বাচন কখনোই মসৃণ পথে এগোয় না। প্রতিবারই সহিংসতা, অঘটন, ভয়ভীতি ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। আসন্ন নির্বাচনও তার ব্যতিক্রম হবে না—এমন আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। হাতে সময় কম, অথচ এই সময়ের মধ্যেই পরিস্থিতি যে আরও জটিল হতে পারে, তার ইঙ্গিত ইতোমধ্যে মিলতে শুরু করেছে।

অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই দেশে নির্বাচনের দাবি জোরালো হয়। একই সঙ্গে শুরু হয় আরেক বিতর্ক—আগে সংস্কার, না আগে নির্বাচন। একপর্যায়ে ‘সংস্কার’ শব্দটি এমনভাবে ব্যবহৃত হতে থাকে, যেন নির্বাচন চাওয়াটাই অপরাধ। যারা দ্রুত নির্বাচন চেয়েছেন, তাদের সংস্কারবিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করার প্রবণতাও দেখা গেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ কত দিন—সে প্রশ্নেও তৈরি হয় ধোঁয়াশা। এমনকি ‘ইউনূস সরকারকে পাঁচ বছর চাই’—এই ধরনের প্রচারণা রাজনৈতিক অঙ্গনে বিস্ময় ও সন্দেহের জন্ম দেয়। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেকের কাছেই ‘সংস্কার’ শব্দটি আগের সরকারের ‘উন্নয়ন’ বয়ানের মতোই অর্থহীন ও দীর্ঘসূত্রতার প্রতীক হয়ে উঠতে থাকে। তখন জনমত আবার স্পষ্টভাবে নির্বাচনমুখী হয়। ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন চেয়ে রাজনৈতিক চাপ বাড়ে। লন্ডনে ইউনূস-তারেক বৈঠকের পর নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা হলেও সংশয় পুরোপুরি দূর হয়নি।

এখন প্রশ্ন আর শুধু নির্বাচন হবে কি না—সেটি নয়। প্রশ্ন হলো, নির্বাচন কতটা বিশ্বাসযোগ্য হবে। এই জায়গাতেই অন্তর্বর্তী সরকার এখনো জনগণের পূর্ণ আস্থা অর্জন করতে পারেনি। তাই বলা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনই ইউনূস সরকারের জন্য শেষ ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। নির্বাচন নিয়ে এক পক্ষ বলছে দেশে ১৯৭১ সালে যারা রাজাকারের ভূমিকা অবতীর্ণ হয়েছিল তারাই ক্ষমতায় যেতে। নানাবিধ চক্রান্ত করছে। অপরদিকে ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্বের শীর্ষরা জামাতের সাথে জোট বেঁধে বলছে নির্বাচনী কোন প্রকার অস্থিরতা সৃষ্টি করলেন আওয়ামীলীগের মত দেশের সর্ব বৃহত্তম দলকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করবে । রাজনৈতিক বাস্তবতায় দেখা যাচ্ছে, দেশে নির্বাচন কার্যত দুই মেরুতে ভাগ হয়ে গেছে। জোটগত রাজনীতির জটিলতা, পারস্পরিক অবিশ্বাস ও সমঝোতার অভাবে নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।

অনেকের আশঙ্কা, এতে নির্বাচন ক্রমেই দুই দলের মধ্যকার এক সংকীর্ণ প্রতিযোগিতায় পরিণত হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে ঢাকা-৮ আসনে নির্বাচনী উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। ওই আসনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাসকে উদ্দেশ করে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর দেওয়া বক্তব্য নির্বাচনী রাজনীতির ভাষা ও শালীনতা নিয়ে গভীর প্রশ্ন তুলেছে। নির্বাচনী সমাবেশে তার আক্রমণাত্মক ও হুমকিসূচক ভাষা শুধু একটি আসনের পরিবেশ নয়, বরং সামগ্রিক নির্বাচনী আবহকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এমনও কি বাংলাদেশের বর্তমান জনপ্রীয় নেতা তারেক রহমানের বিরুদ্ধে নানাবিধ ভাবে আপত্কির বক্তব্য দিচ্ছে। সরকার দেশের আইন শৃঙ্খলা ঠিক রাখতে এরই মধ্যে ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২’-এর আওতায় সারাদেশে ২১ হাজার ৮৪১ জনকে গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়েছে পুলিশ।

নির্বাচনের ঠিক শেষ সময়ে এত বড় অভিযান কেন—এ প্রশ্ন সাধারণ মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবেই জেগেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার প্রয়োজনে অভিযান নাকি ভিন্ন কোনো রাজনৈতিক বার্তা—সে বিতর্কও দানা বাঁধছে।

কেউ কেউ পুরো পরিস্থিতিকে ২০২৪ সালে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ ও তাদের সমর্থকদের গুজব ও প্রোপাগান্ডা বলে ব্যাখ্যা করছেন। আবার অনেকে বলছেন, দুর্বল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য সহিংসতা সত্যিই নির্বাচনকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে বলেছেন, “পতিত স্বৈরাচারের দোসররা দেশের ভেতর ও বাইরে থেকে সংশয় ছড়াতে ব্যস্ত রয়েছে।”

তিনি আশ্বাস দিয়েছেন, নির্ধারিত দিনেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু আশ্বাস আর বাস্তবতার ফারাক এখানেই। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, প্রশাসনের দৃশ্যমান নিষ্ক্রিয়তা এবং মাঠপর্যায়ে প্রত্যাশিত নির্বাচনী প্রস্তুতির অভাব—এসব মিলিয়ে মানুষের আস্থা এখনো পুরোপুরি ফিরে আসেনি। শেষ পর্যন্ত প্রশ্ন একটাই—যদি গুণ্ডামি, মাস্তানি ও নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কা থেকেই যায়, তাহলে সাধারণ মানুষ কেন ভোটকেন্দ্রে যাবে? ভোটার উপস্থিতি ছাড়া নির্বাচন কি আদৌ গণতন্ত্রের প্রতিফলন হতে পারে? এই বাস্তবতায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আর পাঁচটা নির্বাচনের মতো নয়। এটি দেশের গণতন্ত্র, রাষ্ট্রব্যবস্থা ও রাজনৈতিক ভবিষ্যতের এক কঠিন অগ্নিপরীক্ষা। সংশয়, সংঘাত ও আস্থাহীনতার এই অন্ধকার পেরিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার সত্যিই কি একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে পারবে—সেই উত্তরই এখন জাতির সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।তবে বাস্তবতা হলো—শুধু আশ্বাসে আস্থা ফিরে আসে না। মাঠপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃশ্যমান তৎপরতা, প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকা এবং ভোটারদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা—এসবই আস্থা ফেরানোর মূল শর্ত। এখনো অনেকের চোখে সেই প্রস্তুতি যথেষ্ট স্পষ্ট নয়।শেষ পর্যন্ত প্রশ্ন একটাই—যদি ভোটাররা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন, যদি গুণ্ডামি ও সহিংসতার আশঙ্কা থেকেই যায়, তাহলে তারা কেন ভোটকেন্দ্রে যাবেন? আর ভোটারদের অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো নির্বাচনই কি প্রকৃত অর্থে গণতান্ত্রিক হতে পারে?এই বাস্তবতায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেবল একটি সাংবিধানিক আয়োজন নয়; এটি বাংলাদেশের গণতন্ত্র, রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও রাষ্ট্রব্যবস্থার এক কঠিন অগ্নিপরীক্ষা। সংশয় ও আস্থাহীনতার এই সময় পার করে অন্তর্বর্তী সরকার সত্যিই কি একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে পারবে—সেই উত্তরই এখন পুরো জাতি প্রত্যাশা করছে।
লেখক ও গবেষকঃ
আওরঙ্গজেব কামাল
সভাপতি
ঢাকা প্রেস ক্লাব ও আন্তর্জাতিক প্রেস ক্লাব


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

এই বিভাগের আরও খবর