
সিএমপি’র বায়েজিদ বোস্তামী থানা পুলিশ কর্তৃক বিশেষ অভিযানে ভিকটিম মোঃ আনিছ (৩৮) এর মরদেহের খন্ডিত বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গ উদ্ধার, মূল আসামী সুফিয়া আক্তার (৩৯) গ্রেফতার ও ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন।
সিএমপি’র উত্তর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) জনাব আমিরুল ইসলাম মহোদয়ের সার্বিক দিক-নির্দেশনায়, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর), সহকারী পুলিশ কমিশনার (বায়েজিদ বোস্তামী জোন) এর তত্ত্বাবধানে বায়েজিদ বোস্তামী থানার অফিসার ইনচার্জ সহ বায়েজিদ থানার একটি চৌকস টিম কর্তৃক ২২/০১/২০২৬ খ্রিঃ তারিখ বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন পাঠানপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করিয়া ১। সুফিয়া আক্তার (৩৯) কে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামীর স্বীকারোক্তি ও তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভিকটিম মোঃ আনিছ (৩৮) এর শরীরের বিভিন্ন খন্ডিত অংশ উদ্ধার করা হয়। এতদবিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীণ।
বিগত ২০/০১/২০২৬ খ্রিঃ তারিখ দিবাগত রাত অর্থাৎ ২১/০১/২০২৬ তারিখ ০১.৩০ ঘটিকার সময় ডিউটি অফিসার মারফত সংবাদ পাইয়া বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন শহিদ নগর চারতলার মোড় এলাকায় দেলোয়োর কোম্পানির বাড়ীর সামনে এ্যাডভোকেট হামিদ উল্ল্যাহ জায়গায় একটি কালো পলিথিনে মোড়ানো মানবদেহের ০২টি হাত উদ্ধার করা হয়। তাৎক্ষণিক বায়েজিদ বোস্তামী থানা পুলিশ যথাযথ নিয়মে উক্ত হাত দুইটি উদ্ধার করিয়া চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। উক্ত অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির কাটা হাত দুইটি সহ শরীরের অবশিষ্ট অংশ উদ্ধারের নিমিত্তে ব্যাপক তদন্ত শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে বায়েজিদ থানা পুলিশ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে সনাক্ত করতে সক্ষম হয় এবং তার জাতীয় পরিচয়পত্র পেয়ে ভিকটিমের নাম ঠিকানা মোঃ আনিছ (৩৮), পিতা-হায়দার আলী, মাতা-নূর জাদু বেগম, সাং-কবির আহাম্মদের বাড়ি (চিকদাইর), ডাকঘর-অন্নপূর্ণা বাড়ি, ৮নং ওয়ার্ড, থানা-রাউজান, জেলা-চট্টগ্রাম মর্মে জানা যায়।
ভিকটিমের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর বায়েজিদ বোস্তামী থানার একটি অভিযানিক চৌকস টিম ভিকটিমের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করে জানা যায় ভিকটিম আনিছ গত ২০/০১/২০২৬ তারিখ হতে নিখোঁজ আছেন। ভিকটিমের পরিবার হতে উক্ত সংবাদ পাওয়ার পর বায়েজিদ বোস্তামী থানা পুলিশ ভিকটিমের দেহের বাকি অংশ উদ্ধারের কার্যক্রম শুরু করে। অনুসন্ধান কার্যক্রমের একপর্যায়ে ভিকটিমের হত্যাকারীদের সনাক্তপূর্বক গ্রেফতারের উদ্দেশ্যে ব্যাপকভাবে অভিযান শুরু করে। অভিযানের একপর্যায়ে ইং ২২/০১/২০২৬ তারিখ রাত ৪.০০ ঘটিকার সময় বায়েজিদ থানা পুলিশ ভিকটিম মোঃ আনিছ (৩৮) এর হত্যাকারী সন্দেহে সুফিয়া আক্তার (৩৯), পিতা-মৃত আন্তু মিয়া, স্বামী-নূর আলম, সাং-রশিদ খানের বাড়ী, চিকদাইর, ডাকঘর-অন্নপূর্না বাড়ি, ৮নং ওয়ার্ড, থানা-রাউজান, জেলা-চট্টগ্রাম, বর্তমানে-অক্সিজেন, পাঠানপাড়া, শহিদনগর থানা-বায়েজিদ বোস্তামী, জেলা-চট্টগ্রামকে সনাক্তপূর্বক বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন শহিদ নগর এলাকা হতে গ্রেফতার করে। গ্রেফতার পরবর্তী ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি জানান যে, ভিকটিম মোঃ আনিছ (৩৮) এর সাথে তার দীর্ঘদিনের সু-সম্পর্ক ছিল। পরবর্তীতে তাদের দুই জনের মধ্যে বিভিন্ন বিষয় নিয়া মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে সুফিয়া আক্তারের মনে ভিকটিমের প্রতি তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। সে মনে মনে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে।
যার ফলশ্রুতিতে বিগত ২০/০১/২০২৬ তারিখ বিকাল অনুমান ৩.০০ ঘটিকার সময় ভিকটিম আনিছকে তার বর্তমান ঠিকানার পাঠানপাড়ার বাসায় ডেকে নিয়ে আসে। আসামী সুফিয়া আক্তার এবং তাহার সহায়তাকারীরা ভিকটিমকে হত্যার পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক ভিকটিমকে বাসায় থাকা পাথরের শীল দিয়ে মাথায় আঘাত করে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। পরবর্তীতে চাপাতি দিয়া গলায় আঘাত করে ভিকটিমের মৃত্যু নিশ্চিত করে ভিকটিমের দেহ লোহার দা ও চাপাতি দিয়ে। কেটে টুকরা টুকরা করে। টুকরা গুলো বাসায় থাকা কালো পলিথিনের ভিতর ঢুকিয়ে মৃতদেহের আলামত গোপন করার উদ্দেশ্যে মৃতদেহের অংশ বিশেষ শহীদনগর ও শীতলঝর্ণা এলাকার বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেয়।