চট্টগ্রামে অবৈধ গাড়ি বন্ধে বিআরটিএ’র কড়া পদক্ষেপ, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রশংসায় ভাসছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাহমিদা মুস্তফা। সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও যান চলাচলে শৃঙ্খলা জোরদারের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম মহানগরীতে অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান পরিচালনা করেছে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ)। নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে পরিচালিত এই অভিযানে আইন লঙ্ঘনকারী যানবাহনের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং বিআরটিএ’র ভূমিকার প্রশংসা করছেন নগরবাসী।
।বৃহস্পতিবার ২২ জানুয়ারি সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত বিআরটিএ চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের আওতাধীন ভ্রাম্যমাণ আদালত-১২ নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সিরাজউদ্দৌলা রোড ও মুরাদপুর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। পুরো অভিযানে নেতৃত্ব দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাহমিদা মুস্তফা।
অভিযান চলাকালে সড়কে অবৈধভাবে চলাচলকারী ও সড়ক পরিবহন আইন লঙ্ঘনকারী যানবাহন শনাক্ত করে তাৎক্ষণিক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। সড়ক পরিবহন আইন লঙ্ঘনের দায়ে মোট ৪টি মামলায় ১৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। পাশাপাশি হিউম্যান হলার যানবাহনের রুট পারমিটের শর্ত ভঙ্গের অভিযোগে ৮টি যানবাহন ডাম্পিং করা হয়, যা নগরীতে অবৈধ যান চলাচলের বিরুদ্ধে একটি শক্ত বার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ডাম্পিংকৃত যানবাহনের রেজিস্ট্রেশন নম্বরগুলো হলো চট্টমেট্রো-ফ-১১-৩০৪১, চট্টমেট্রো-ফ-১১-১২৮৫, চট্টমেট্রো-ফ-১১-০৯৮৬, চট্টমেট্রো-ফ-১১-০৬৫৩, চট্টমেট্রো-ফ-১১-০৮১০, চট্টমেট্রো-ফ-১১-১৫২৭, চট্টমেট্রো-ফ-১১-১৫২৭ ও চট্টমেট্রো-ফ-১১-১৩২২। অভিযানের ফলে ওইসব এলাকায় যান চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরে আসে এবং অনিয়ন্ত্রিত যান চলাচল বন্ধ হওয়ায় যানজট উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। পথচারী ও যাত্রীরা জানান, নিয়মিত এমন অভিযান পরিচালিত হলে দুর্ঘটনা কমবে এবং সড়ক আরও নিরাপদ হবে। স্থানীয় বাসিন্দারাও অবৈধ গাড়ির দৌরাত্ম্য কমাতে বিআরটিএ ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও সাহসী পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেন।
। বিআরটিএ সূত্র জানায়, সড়কে শৃঙ্খলা ফেরানো, দুর্ঘটনা প্রতিরোধ এবং যাত্রীসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে। অবৈধ যানবাহন, ফিটনেসবিহীন গাড়ি, রুট পারমিট ছাড়া চলাচল এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানায় সংস্থাটি। বিআরটিএ কর্মকর্তারা আরও জানান, জনস্বার্থে কঠোর হলেও এসব অভিযান দীর্ঘমেয়াদে সড়ক ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে এবং নিরাপদ ও শৃঙ্খল পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।