
চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামি এলাকায় চুরি ও সংঘবদ্ধ চোরচক্রের তৎপরতায় জানমাল ঝুঁকিতে পড়েছে এলাকাবাসী। একের পর এক চুরির ঘটনায় চরম নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযোগ রয়েছে, একই স্থানে পূর্ব পরিকল্পিত কৌশলে বারবার চুরির ঘটনা ঘটলেও চোরচক্র এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে।
ভুক্তভোগীদের তথ্যমতে, বায়েজিদ আবাসিক এলাকার কাঁচা বাজার রোডসংলগ্ন একটি ভবনে সম্প্রতি তিনবারসহ অতীতে আরও চারবার চুরির ঘটনা ঘটে। শুধু একটি বাড়িই নয়, আশপাশের বিভিন্ন বাড়িতেও নিয়মিতভাবে চুরি হচ্ছে। এমনকি সরকারি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ—টিএনটির কেবল ও পাইপ পর্যন্ত চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে সংঘবদ্ধ চোরচক্র।
সর্বশেষ চুরির ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) ভোর আনুমানিক ৬টায়, বায়েজিদ আবাসিক এলাকার কাঁচা বাজার রোডের ‘ত্যায়িবা ভবনে’। তিনটি নিরাপত্তা গেট থাকা সত্ত্বেও সর্বশেষ গেটের তালা ভেঙে চুরি সংঘটিত হয়। এ সময় চোরেরা একটি প্রায় ৩ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার বিদেশি প্লাস্টিকের ড্রাম চুরি করে নিয়ে যায়, যার দৈর্ঘ্য প্রায় পাঁচ ফুট ও প্রস্থ সাড়ে তিন ফুট। ড্রামটি প্রয়োজনীয় মালামালে ভর্তি ছিল বলে জানান ভুক্তভোগীরা।
চুরির সময় পাশের কক্ষের বাসিন্দারা শব্দ পেয়ে জানালা দিয়ে মুখে মাস্ক পরা কয়েকজনকে চুরি করতে দেখেন। সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবেশীদের ডেকে বের হতে গেলে চোরচক্র তালা খুলেই দ্রুত পালিয়ে যায়।
ঘটনার পরপরই প্রত্যক্ষদর্শী নিরাপত্তা প্রহরী মোহাম্মদ সেলিম এবং মহল্লা কমিটির সভাপতি, সিনিয়র সহ-সভাপতি ও সহ-সভাপতিসহ সংশ্লিষ্টদের বিষয়টি জানানো হয়। মহল্লা কমিটির পক্ষ থেকে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদারকির আশ্বাস দেওয়া হলেও এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক কাটেনি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা, পর্যাপ্ত টহলের অভাব এবং সামাজিকভাবে সচেতনতার ঘাটতির সুযোগ নিয়েই সংঘবদ্ধ চোরচক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। দিনের পর দিন চুরির ঘটনা ঘটলেও কার্যকর ব্যবস্থা ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হওয়ায় অপরাধ আরও বাড়ছে।
স্থানীয়রা জানান, এসব ঘটনার পেছনে একটি সংঘবদ্ধ ও পরিকল্পিত চক্র কাজ করছে, যারা ভদ্রবেশে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে সুযোগ বুঝে চুরি করছে। মান-সম্মান ও নিরাপত্তাহীনতার ভয়ে অনেক ভুক্তভোগী প্রকাশ্যে মুখ খুলতেও সাহস পাচ্ছেন না।
এ বিষয়ে বায়েজিদ বোস্তামি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহেদুল কবিরকে অবগত করা হলে তিনি ঘটনার স্থান ও ঠিকানা পাঠাতে বলেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে পরবর্তীতে হোয়াটসঅ্যাপে লিখিতভাবে বিস্তারিত জানানো হলেও একাধিকবার ফোন করা সত্ত্বেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত চোরচক্রকে শনাক্ত করে চুরিকৃত মালামাল উদ্ধার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সক্রিয় ও জনবান্ধব ভূমিকার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
বাংলা নিউজ মিডিয়া কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত
সারাদেশে প্রতিনিধি নিয়োগ চলছে WhatsApp & IMO 01886833283
সাথী সোহেল জনকল্যাণ ফাউন্ডেশন নগদ/বিকাশঃ ০১৩০২৪৪৭৩৭৩