চট্টগ্রামের বাঁশখালীর প্রখ্যাত সূফী সাধক, মজযুবে অলীয়ে কামেল শাহ্সূফী হযরত সৈয়দ নেজামত আলী শাহ (রহ.)—যিনি ‘গাট্টি ফকির’ নামে সর্বজনবিদিত—এর ৩৩তম বার্ষিক ওরশ শরীফ ও পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উপলক্ষে ধর্মীয় মাহফিল অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্য ও আধ্যাত্মিক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পীর মুফতি মাওলানা নেছার উদ্দিন মুনিরী আল-কাদেরী, প্রতিষ্ঠাতা, ডিগ্রীপাড়া আহমদিয়া নেছারিয়া সুন্নিয়া মাদ্রাসা, কাথরিয়া, বাঁশখালী।
মাহফিলের উদ্বোধক ছিলেন জনাব আহসানুল হাবিব সেলিম, বিশিষ্ট সমাজসেবক, কাথরিয়া, বাঁশখালী।
মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি থেকে সংসদ সদস্য প্রার্থী মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা।
প্রধান মেহমান হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ শাহজাহান চৌধুরী, সাবেক সফল চেয়ারম্যান, কাথরিয়া ইউনিয়ন পরিষদ, বাঁশখালী। বৃহৎত্তর সুন্নী জোটের সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যক্ষ আবদুল মালেক আশরাফী।
মাহফিলে প্রধান বক্তা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বয়ান পেশ করেন আলহাজ্ব অধ্যক্ষ মাওলানা আবু ছাদেক রেজভী আল-কাদেরী, খতিব, উত্তর হালিশহর মাদানী শাহী জামে মসজিদ, চট্টগ্রাম।
অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিলেন আলহাজ্ব মাওলানা মুফতি আবুল কাশেম তাহেরী, আরবি প্রভাষক, রংগিয়াঘোনা মুনছুরিয়া ফাজিল মাদ্রাসা, বাঁশখালী।
এছাড়াও বিশেষ বক্তা হিসেবে বয়ান রাখেন—
হাফেজ মাওলানা জাহাঙ্গীর আলম আল-কাদেরী, খতিব, হযরত আবু বক্কর ছিদ্দিক (রহ.) জামে মসজিদ এবং প্রধান শিক্ষক, বাইমাঝিপাড়া হযরত ইমাম আবু হানিফা (রহ.) সুন্নি ইবতেদায়ী মাদ্রাসা, কাথরিয়া;
মাওলানা আবদুল হক আল-কাদেরী, খতিব, আকমল মিয়াজী জামে মসজিদ, পটিয়া;
হাফেজ মাওলানা মোখতার হোসেন, খতিব, হাজী বাড়ি জামে মসজিদ, কাথরিয়া;
মাওলানা আনোয়ার হোসেন, খতিব, আব্বাস আলী খাঁন জামে মসজিদ, কাথরিয়া, বাঁশখালী।
মাহফিলে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মাওলানা আবদুল মুবিন, পরিচালক, অত্র দরবার।
মিলাদ কিয়াম পরিচালনা করেন হাফেজ মাওলানা গোফরানুল হক, মাওলানা শাহজান ফারুকী এবং মাওলানা এনাম উদ্দিন মাইজভান্ডারি, সহকারী সুপার, হযরত ওমর বিন খাত্তাব (রা.) তৈয়্যবিয়া মাদ্রাসা, রাঙ্গুনিয়া, চট্টগ্রাম।
অনুষ্ঠানে নিবেদকের দায়িত্ব পালন করেন খাদেম শাহজাদা আলী আহমদ, পরিচালক, অত্র দরবার। সার্বিক সফলতা কামনা করেন সৈয়দ মুনতাসীর মাহমুদ।
বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে হযরত সৈয়দ নেজামত আলী শাহ (রহ.)-এর আধ্যাত্মিক জীবন, ত্যাগ, মানবসেবা ও ইসলামের সঠিক আদর্শ প্রচারে তাঁর অবদানের কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাদর্শ অনুসরণ করে ব্যক্তি ও সমাজ জীবন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি এবং মরহুম অলীয়ে কামেলসহ সকল মুমিন মুসলমানের রূহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
মাহফিলের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিল শাহ্সূফী হযরত সৈয়দ নেজামত আলী শাহ (রহ.) মাজার উন্নয়ন ও ওরশ কমিটি, কাথরিয়া, বাঁশখালী, চট্টগ্রাম।
ওরশ শরীফ ও মিলাদ মাহফিলে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আগত ভক্ত-মুরিদান, ওলামায়ে কেরাম, আশেকান এবং সর্বস্তরের মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।