নিজস্ব প্রতিবেদক: বগুড়ায় এক মৃত নারীর জব্দকৃত টাকা, স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন আত্মসাতের অভিযোগে অভিযুক্ত স্টেডিয়াম পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) জাহাঙ্গীর আলম অবশেষে মালামাল ফেরত দিতে বাধ্য হয়েছেন। তবে প্রশ্ন উঠেছে—টাকা ও গহনা ফেরত দিলেই কি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একজন সদস্যের বিরুদ্ধে আনা গুরুতর অপরাধের দায় শেষ হয়ে যায়?
পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর গভীর রাতে এসআই জাহাঙ্গীর আলম বগুড়া সদর উপজেলার জামিলনগরে গিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য শাজাহানের বাড়িতে হাজির হন। সেখানে তিনি মৃত নারীর স্বজন, শাজাহানের স্ত্রী শামিমা বেগমের হাতে জব্দ তালিকাসহ নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার ও একটি মোবাইল ফোন বুঝিয়ে দেন বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় শামিমা বেগমের ভিডিও বক্তব্য এবং থানায় সংরক্ষিত ফাঁকা রাখা একটি জিডির কপি গণমাধ্যমের হাতে রয়েছে। এসব প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্ত এসআইয়ের বিরুদ্ধে এখনো পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভুক্তভোগী নারী বেঁচে না থাকায় এবং সরাসরি অভিযোগ করার কেউ না থাকায় বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। প্রশ্ন উঠেছে—নারীটি জীবিত না থাকলেই কি তার সঙ্গে সংঘটিত অন্যায় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে না?
সচেতন মহল বলছে, একজন পুলিশ কর্মকর্তা যদি দায়িত্ব পালনের সময় জব্দকৃত সম্পত্তি আত্মসাৎ করেন, তবে সেটি নিছক অনৈতিকতা নয়—এটি গুরুতর অপরাধ। শুধু মালামাল ফেরত দিলেই দায়মুক্তি দিলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা আরও বাড়বে।
এ বিষয়ে স্থানীয় এক মানবাধিকার কর্মী বলেন, “আইনের রক্ষক যখন নিজেই অপরাধে জড়িত হন, তখন সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার চাইবে কার কাছে? টাকা ফেরত নয়, দরকার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি।”
এখন প্রশ্ন একটাই—এসআই জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে কি বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে, নাকি বিষয়টি নীরবেই ধামাচাপা পড়ে যাবে? জনমনে এই প্রশ্নের উত্তর এখনো অজানা।