গুল সাহারা স্কুল এন্ড কলেজের উদ্যোগে এক আনন্দঘন আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হলো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং বার্ষিক চিত্রাংকন প্রতিযোগিতার ফলাফল ঘোষণা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান।সারাদিন জুড়ে প্রাঙ্গণে ছিল উৎসবের আমেজ।শিক্ষার্থী অভিভাবক শিক্ষক ও অতিথিদের পদচারণায় প্রতিষ্ঠানটি পরিণত হয়েছিল এক প্রাণচঞ্চল মিলনমেলায়।সুশৃঙ্খল পরিবেশে সম্পন্ন হওয়া এই আয়োজন শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বিকাশে নতুন উদ্দীপনা যোগ করেছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গুল সাহারা স্কুল এন্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোহাম্মদ হারুন মিয়া।তাঁর উপস্থিতি অনুষ্ঠানকে দিয়েছে আলাদা মাত্রা।প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাকলিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শিক্ষাবিদ আবু তাহের।অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গুল সাহারা স্কুলের সম্মানিত সভাপতি আলহাজ্ব মো: ফরিদুল আলম।তাঁদের অভিভাষণে উঠে আসে মানবিক মূল্যবোধ নৈতিকতা ও দেশপ্রেমে উজ্জীবিত নতুন প্রজন্ম গড়ে তোলার অঙ্গীকার।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনকল্যাণ মালিক সমিতির সভাপতি রেজাউল করিম এবং গুল সাহারা স্কুল এন্ড কলেজ সাংস্কৃতিক পরিষদের প্রেসিডেন্ট সজল চৌধুরী।এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী ইলিয়াস আলী নাছির উদ্দিন হুমায়ুন কবীর মাওলানা ফরিদ উদ্দিন আনিছ উদ্দিন হাসান চৌধুরীসহ গুল সাহারা স্কুল এন্ড কলেজের সম্মানিত শিক্ষক শিক্ষিকাবৃন্দ।তাঁদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানকে করেছে আরও বর্ণিল সমৃদ্ধ এবং অর্থবহ।
অনুষ্ঠানটি দক্ষতার সঙ্গে সঞ্চালনা করেন স্বপ্না জিমি। তিনি একজন বাচিক শিল্পী এবং সংগঠক হিসেবে সুপরিচিত।তাঁর প্রাণবন্ত উপস্থাপনায় পুরো অনুষ্ঠান জুড়ে ছিল সাবলীলতা শৃঙ্খলা এবং স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশগ্রহণ করেন মঞ্জুরী সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সদস্যবৃন্দ।তাদের সুর তাল ছন্দে নির্মিত পরিবেশনায় মুগ্ধ হয় উপস্থিত দর্শক শ্রোতারা। দেশাত্মবোধক গান আবৃত্তি নৃত্য এবং দলীয় সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠানকে দিয়েছে আলাদা মাত্রা।
চিত্রাংকন প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় বিভিন্ন শ্রেণির বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী।শিশুদের কোমল হৃদয়ের ক্যানভাসে ফুটে ওঠে প্রকৃতি দেশ স্বাধীনতা মাতৃভূমি এবং স্বপ্নের বাংলাদেশ।
রঙতুলির ছোঁয়ায় তাদের চিন্তা ভাবনা কল্পনা এবং সৃজনশীলতা যেন উল্লাসে নেচে ওঠে।বিচারকদের মতে ভবিষ্যতে এই শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকেই তৈরি হবে বড় বড় শিল্পী এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব।প্রতিযোগিতার ফলাফল ঘোষণা করা হলে শিক্ষার্থীদের মাঝে দেখা যায় দারুণ উচ্ছ্বাস এবং আনন্দ।
অতিথিবৃন্দ তাঁদের বক্তব্যে বলেন আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ।তাই শুধু বইয়ের বিদ্যা নয় নৈতিকতা সংস্কৃতি মানবিকতা এবং সৃজনশীল শিক্ষার সমন্বয় ঘটাতে হবে।তারা বলেন সাংস্কৃতিক চর্চা মানুষের মনে উদারতা সৃষ্টি করে এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনায় মানুষকে আলোকিত করে।গুল সাহারা স্কুল এন্ড কলেজ এই চর্চাকে এগিয়ে নিতে যেভাবে কাজ করছে তা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে।
বক্তারা আরও বলেন শিক্ষার্থীদের সুস্থ বিনোদন তারুণ্যের ইতিবাচক বিকাশ এবং দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল পরিবেশনা উপস্থিত অতিথি শিক্ষক এবং অভিভাবকদের প্রাণভরে প্রশংসা কুড়ায়।শিশুরা যখন গান কবিতা নৃত্য এবং উপস্থাপনায় নিজেদের প্রতিভা তুলে ধরে তখন করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো অনুষ্ঠানস্থল।এতে প্রমাণিত হয় সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে শিক্ষার্থীরা কীভাবে নিজেকে উপস্থাপন করতে পারে এবং কীভাবে তারা আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠতে পারে।
পরে কৃতিত্বপূর্ণ শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন আমন্ত্রিত অতিথিরা।হাতে পুরস্কার পেয়ে শিক্ষার্থীদের চোখেমুখে ফুটে ওঠে তৃপ্তি আনন্দ এবং নতুন স্বপ্নের আলো।এই পুরস্কার শুধু সম্মাননা নয় বরং আরও ভালো করার প্রেরণা হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করেন সবাই। অভিভাবকদের অনেকেই জানান এ ধরনের আয়োজন সন্তানদের পড়ালেখার পাশাপাশি নৈতিকতা এবং সাংস্কৃতিক চেতনায় সমৃদ্ধ করে।
অনুষ্ঠানকে সফল করতে গুল সাহারা স্কুল এন্ড কলেজের শিক্ষক শিক্ষিকাবৃন্দ সার্বক্ষণিকভাবে প্রচেষ্টা চালান। তাদের দায়িত্বশীলতা নিষ্ঠা এবং ভালোবাসা পুরো আয়োজনকে করে তোলে সুন্দর সুশৃঙ্খল এবং প্রশংসনীয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হলরুম সাজানো হয়েছিল মনোরম সাজসজ্জায়।ছিল আলোকসজ্জা রঙিন ব্যানার এবং আকর্ষণীয় মঞ্চ।সব মিলিয়ে অনুষ্ঠানটি ছিল এক বর্ণিল উৎসব।
দিনব্যাপী এই আয়োজনকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থী অভিভাবক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা মিলিত হয়ে একটি সুন্দর পারিবারিক পরিবেশ সৃষ্টি করেন।সবাই স্বীকার করেন এমন ইতিবাচক আয়োজন সমাজকে আলোকিত করে এবং তরুণ প্রজন্মকে সুন্দর কিছু ভাবতে শেখায়।এই আয়োজন শিক্ষার্থীদের মনে জাগিয়েছে নতুন সাহস নতুন উদ্যম এবং নতুন স্বপ্ন।
অনুষ্ঠান শেষে অতিথিবৃন্দ আশাবাদ ব্যক্ত করেন গুল সাহারা স্কুল এন্ড কলেজ ভবিষ্যতেও এ ধরনের সৃজনশীল ও গঠনমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা চারিত্রিক দৃঢ়তা সাংস্কৃতিক চেতনা এবং দেশপ্রেমে উজ্জীবিত করে তুলতে প্রতিষ্ঠানটি অগ্রণী ভূমিকা রাখবে বলেও তারা মন্তব্য করেন।
শিক্ষার্থী শিক্ষক এবং অভিভাবকদের সক্রিয় অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়।হাসিমুখে বাড়ি ফেরে শিক্ষার্থীরা।সঙ্গে নিয়ে যায় স্মৃতি অনুপ্রেরণা এবং আগামী দিনের স্বপ্ন।বলা যায় গুল সাহারা স্কুল এন্ড কলেজের এই আয়োজন একটি শিক্ষামূলক সাংস্কৃতিক ও মানবিকতার অনন্য মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে যা দীর্ঘদিন মনে রাখার মতো।